How to recharge Titas Gas Prepaid Meter


Hi dear fellow, Titas Gas Authority have installed Prepaid Gas Meter.  Many clients have found it somewhat difficult to recharge gas meter with the printed users manual-the instructions on the leaflet.

Today I want to share some quick tips on recharging Titas Gas Meter that is installed in your house. When your account balance goes down ( the bar on the right screen indicates the balance) to one bar-it starts to blink ( you may have only 2 or 3 unit for using) it needs to recharge.




Please follow the following procedures.

a. Go to the recharge point with the card. Refill 1000 taka in case of  first time.The vendor will take 10 taka as a service charge.

b. Take and reserve the payment token (it will be needed in future)

c. First, Press A Button  3 times for interval of  one second time and see for flashing IN on the Gas Charge screen.

d. Place the card on near/close to the the indicated sign ▭ while the IN sign flashing.

e. Card sign will be displayed.Just keep the card contact with the meter.

f. When the End sign displays, just take off the card and your meter is successfully recharged.

Note:  Do not try to recharge your meter while it displays full charge ( 4 bars), It may display error (E30- I experienced it ) and fail to recharge.



আমার পড়া বই ১: ইন দ্য হ্যান্ড অব তালেবান ( In the hand of Taliban by Yvonne Ridley)

বইটির( In the hand of Taliban by Yvonne Ridley)  লেখিকা বিখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক ইভন রিডলি। ২০০১ সালে টুইন-টাওয়ারে বিমান হামলার পরে তিনি পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছিলেন পার্সপোট ও ভিসা ছাড়া  এবং যথারীতি তালেবানদের হাতে বন্দি হন। এই বইটিতে তিনি বর্ণনা করেছেন তালেবানদের বন্দিশালায় কাটানো ভয়াবহ ১০ দিনের অভিজ্ঞতার কথা।


তালেবানরা তাঁর সাথে অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করেন এবং আন্তজাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার কারনে তালেবানরা তাঁকে সস্মানে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

বইটি পড়ে এই মহিলার সাহস ও মনোবল দেখে আর্শ্চয হয়েছি। ইভন রিডলি স্বভাবে বেপরোয়া। সংবাদের পিছনে যে সংবাদ থাকে তা বের করার জন্য তিনি যেকোন ঝুকি নিতে পারেন। তালেবানরা মুক্তি দেওয়ার পর তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে সমগ্র-   বিশ্ব-হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। বর্তমান মুসলিম বিশ্ব-এ  ইভন রিডলি এখন একটি আলোচিত নাম।

২৪০ পাতার বইটির স্বছন্দ অনূবাদ করেছেন আরার হামীম। বইটি প্রকাশ করেছে নবপ্রকাশ ২০১৭ সালে।

সুন্দরবন ভ্রমন : ব্যক্তিগত সুখস্মৃতি ও একজন গাইডের পাঁচালী।


 Article and Photos by Kabir Uddin Ahmed

নতুন বছরের প্রথম দিনটিকে টার্গেট করে চারমাস আগ থেকেই খোঁজখবর করছিলাম কিভাব সুন্দরবন যাব, কাদের সাথে যাব এসব। ToB Helpline এর সুবাদে মংলার স্থানীয় এক ভদ্রলোকের সাথে কথা হলো, এনশিওর করলেন আমাদের ট্যুরের সব আয়োজন করে দিবেন বলে। কিন্তু নির্ধারিত তারিখের দিনকয়েক আগে জানালেন কেবল আমাদের বার জনের জন্য ব্যবহার উপযোগী তার লঞ্চটি আদারওয়াইজ ভাড়া হয়ে গেছে। অনুরোধ করলেন আমাদের ডেট পেছাতে। সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দিলাম তাকে। কিন্তু সংগত কারনেই মন খারাপ হলো।

হাড়বারিয়া পয়েন্ট
 ToB Helpline এর সাহায্য নিয়ে আবার খোঁজাখুঁজি। ঢাকাস্থ এক ট্যুর অপারেটর এর সাথে কথা হলো। এনশিওর করলেন তিনিও। শর্ত এবং চাহিদা মোতাবেক ৫০% অর্থ অগ্রিম পে করে দেই। কিন্তু জার্নি শুরুর তিন/চারদিন আগে অনুরোধ করলেন অবশিষ্ট অর্থও পে করে দিতে, ভালো লাগেনি যেটা। লজিক্যালও মনে হয়নি। এরপর বারজনের জাহাজ নষ্ট হয়ে গেছে জানিয়ে অনুরোধ করলেন বড় একটি গ্রুপের সাথে বড় লঞ্চে যেতে। না করায় অগত্যা রাজি হলেন বিকল্প ব্যবস্থা করতে। মন খারাপ হলো আবারো। 

নির্ধারিত দিনে চট্টগ্রাম থেকে আমরা যাত্রা শুরু করি। হানিফ পরিবহন, সৌদিয়া এবং ঈগল পরিবহন চট্টগ্রাম- খুলনা রুটে নিয়মিত যাতায়াত করে। সচারচর এ গাড়িগুলো মংলা পর্যন্ত যায় না বলে মংলা থেকে বত্রিশ কিমি দূরে কাটাখালী নামক পয়েন্টে নেমে যাওয়াটাই সুবিধাজনক। তাই করি আমরা। সেখান থেকে ১,৫০০.০০ টাকায় মাইক্রোবাস ভাড়া করে মংলা পৌছাই ঘড়ির কাটা ধরে প্লান মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের পনর মিনিট পর। আলহামদুলিল্লাহ্‌।

জনাব মোঃ কায়সুজ্জামান পিকলু, (Piqlu Zaman) ২৮/৩০ বছরের টগবগে এক যুবক, ট্যুর অপারেটর যাকে আমাদের গাইড হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আগের দিন রাতে, অপেক্ষা করে ছিলেন বাস স্টান্ডেই। প্রাথমিকভাবে পরিচিত হলাম, কথা হলো টুকটাক। প্রথম পরিচয়েই মনে হলো অসম্ভব আন্তরিক এবং ডেডিকেটেড। তার কাছেই জানলাম, আমাদের ট্যুর অপারেটর মাথাপিছু টাকার একটা অংশ রেখে আমাদেরকে এই গাইড তথা অপারেটর এর কাছে হ্যান্ডওভার করে দিয়েছেন। সবকিছু গুছিয়ে আনার দায়দায়িত্বটা তারই। অর্থাৎ একপ্রকার বিক্রি হয়ে গেছি। অবশ্য এতে ভালোই হয়েছে।



লঞ্চে উঠে পিকলু আমাদের তিন দিন আর দুই রাতের ওভারঅল ট্যুর প্লান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা দিলেন। আমরা চলতে শুরু করলাম পশুর নদির বুক চিড়ে। ফ্রেশ হয়ে বসলাম নাস্তার টেবিলে।
ট্যুর অপারেটর যেমনটা বলেছিলেন, ঠিক সেভাবেই ম্যানু ধরে লঞ্চে খাবার সার্ভ করা হয়েছে সময় ধরে। সাদা ভাত, ভর্তা, ডিম, খিচুড়ি, পোলাও, রুপচাদা, রুই এর সাথে খুলনার বিখ্যাত ফাইস্যা মাছ, গরু, দেশী মুরগি, কবুতর, বারবিকিউ, ফ্রুটস, ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রতিবেলায়ই খাবার ছিলো পরিমানে অত্যধিক আর স্বাদে অতুলনীয়। দশ/ বার বছরের অভিজ্ঞ পাঁচক আংকেল হাসিমুখে সবটুকু আন্তরিকতা দিয়েই তার কাজটি করে গেছেন নিষ্ঠার সাথে। 

প্লান অনুযায়ী হাড়বাড়িয়া, কটকা, টাইগার পয়েন্ট, জামতলী সী বীচ, দুবলার চর এবং করমজল হয়ে আমরা মংলা ফেরত আসি। লঞ্চের আকার ও সমুদ্রস্রোত বিবেচনায় নিয়ে হিরনপয়েন্ট যাওয়া বাদ দিতে হয়েছে। শুরু থেকে শেষ, লঞ্চে ষাট ঘন্টার জার্নিতে সবটা সময়েই আমরা আমাদের গাইডকে পেয়েছি বন্ধুর মতো, ভীষন কেয়ারিং হিসেবে। কখন কি করতে হবে, কোন ধরনের ড্রেসআপ কমফোর্টেবল হবে, কিভাবে পথ চলতে হবে, বন্য পশু প্রানীর দেখা পেলে কী করতে হবে সব কিছু আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন ছাত্র পড়ানোর মতো করে। কথা প্রসংগে বলছিলেন, কেবল পেশা নয় বরং সুন্দরবন তার জন্য একটি আবেগের জায়গাও। আমাদের এক গ্রুপমেইড সবার অগোচরে তাকে হরিনের মাংস ম্যানেজ করা যায় কিনা বললে স্পষ্টতই না করেছেন। বলেছেন, আমাদের কারো কারো শখের কারনে বাঘের মতো হরিনটাও বিলুপ্ত হতে শুরু করলে এ বনের অবশিষ্ট থাকবে কী! ইস! সবার যদি এই বোধটুকু হতো! একজন পিকলুর জন্য আমাদের ট্যুরকালীন সময়টা নি:সন্দেহে সুখকর হয়েছে অনেক। প্রথম দিকের মন খারাপ করাটা উবে গিয়ে কেবল আনন্দঘন সময়ই কাটিয়েছি আমরা।

পৃথিবীখ্যাত সুন্দরবন, আমাদের দেশটির জন্য সৃষ্টিকর্তার রহমতস্বরুপ এ বনের সৌন্দর্য আর বিশালতা, বনকেন্দ্রিক নৈসর্গিক শোভা আর আমাদের মুগ্ধতা বিষ্ময় জাগানিয়া সুখস্মৃতি কেবল এখন। খুব কাছ থেকে দেখে প্রকৃতঅর্থেই প্রেমে পড়ে গেছি এই বনের,আমাদের গর্বের ধনের।
অপেক্ষাকৃতভাবে, বনে ঘুরার স্পটগুলোকে অনেক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন মনে হয়েছে আমার। তবুও অধিকতর সতর্কতা প্রয়োজন। এখানে সেখানে এটা সেটা না ফেলে, বনের গাছপালার ডাল না ভেংগে, উচ্চস্বরে শব্দ করে পশুপাখিদের স্বাভাবিক লাইফে ডিস্টার্ব না করে আমরা প্রমান দিতে পারি একজন সত্যিকারের পর্যটনপ্রেমী হিসেবে, প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে। এটা মহানুভবতা নয়, বরং দায় আমাদের, আমাদের দায়িত্ব।

সময় সুযোগ করে আবার কখনো যাব, ইনশাল্লাহ। সে পর্যন্ত কেবল পিকলু নয়, বরং আমার গ্রুপ মেম্বার, কলিগ ও ফ্রেন্ড Iftekharul Islam, Alamgir Hossain, Sakerin Chowdhury Shakil, Saifur Rahman Raju, Mohammad Taslim, Kazi Anowarul Hoque, Mejbah Uddin Khaled, Md Abdul Hakim, Dewan Md Billal Hossain, Sohrab Hossain Robin এবং Hasnat Mir সবাইকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা এহেন ভালোলাগার বিনির্মানে একসাথে, এক হয়ে ছিলাম বলে।

স্বর্গের সিড়ি / মায়ুং কপাল


Article and Photos by  Razib Hossain
November 1,2019

মায়ুং পাহাড়ের উপরে অবস্থিত মায়ুং পাড়াতে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয় এই সিড়ি। স্থানীয়রা একে হাতিমূরা বলে থাকেন। 



সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে এখান থেকে পুরো খাগড়াছড়ি দেখা যায়। মায়ুং পাহাড়ে দাঁড়িয়ে চারপাশ কতটা অসম্ভব সুন্দর সেটা ওখানে না গেলে বোঝানো সম্ভব না।

যেভাবে যাবেন:

 খাগড়াছড়ি শহড় থেকে অটোতে করে চলে যাবেন জামতলি নামক স্থানে, ভাড়া নেবে ১০ টাকা। (স্টেডিয়াম পার করে কিছুদূর সামনে)

এরপর সেখান থেকে ৫ মিনিট হাটার পর একটি খাল পার হতে হবে। খাল পার হতে লাগবে ৫ টাকা। তারপর মোটামুটি ১ঃ২০-১ঃ৩০ ঘন্টা হাটলেই পৌছে যাবেন কাঙ্ক্ষিত স্বর্গে যাওয়ার সিড়িতে। আর পাহাড়ে হাটার অভ্যাস থাকলে ৫০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টাতেই পৌছানো সম্ভব।


পরামর্শ থাকবে জনপ্রতি অবশ্যই মিনিমাম ১.৫ লিটার পানি ও স্যালাইন নিয়ে যাবেন। খাল পেরোনোর আগে কিছু দোকান পরবে ওখান হালকা খাবার কিনে নিবেন, এরপর আর দোকান পাবেন না। আর চেষ্টা করবেন গাইড নিয়ে যাওয়ার, কারণ সিড়িতে যাওয়ার সময় অনেক জায়গাতেই দুই দিকে যাওয়ার রাস্তা পরে। অবশ্য লোকালদের জিজ্ঞাসা করেও যাওয়া যায়। আমরা স্থানীয় একজন কে ৩০০ টাকা দিয়ে নিয়েছিলাম গাইড হিসেবে।
"" আমাদের দেশটা অনেক সুন্দর, যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ ও সৌন্দর্য নষ্ট করবেন না"

সোনাদিয়া দ্বীপ






Article and Photo by Rakibul Islam Rakib


সোনাদিয়া দ্বীপ কক্সবাজার জেলার মহেশখালি উপজেলার একটি সুন্দর দ্বীপ। এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৯ বর্গ কিমি.। কক্সবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিমি উত্তর-পশ্চিমে এবং মহেশখালি দ্বীপের দক্ষিনে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত। একটি খাল দ্বারা এটি মহেশখালি দ্বীপ থেকে বিছিন্ন হয়েছে। তিন দিকে সমুদ্র সৈকত, সাগর লতায় ঢাকা বালিয়াড়ি, কেয়া- নিশিন্দার ঝোপ, ছোট-বড় খাল বিশিষ্ট প্যারাবন এবং বিচিত্র প্রজাতির জলাচর পাখি দ্বীপটিকে করেছে অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। সোনাদিয়া দ্বীপের মানব বসতির ইতিহাস মাত্র ১০০-১২৫ বছরের। দ্বীপটি ২টি পাড়ায় বিভক্ত। পূর্ব ও পশ্চিম পাড়া। দ্বীপের মোট জনবসতি প্রায় ২০০০ জন। এই দ্বীপে ২টি মসজিদ, ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি সাইক্লোন সেন্টার, আনুমানিক ১২টি গভীর নলকূপ রয়েছে। পূর্ব পাড়ায় তুলনামূলকভাবে জনবসতি বেশী। মাছ ধরা এবং মাছ শুকানো, চিংড়ি ও মাছের পোনা আহরন দ্বীপের মানুষের প্রধান পেশা। কিছু মানুষ ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও কাঠের সাধারন নৌকা এবং উহা চালানোর সহকারী হিসাবে কাজ করেও জীবিকা নির্বাহ করে। চারিদিকে নোনা পানি বেষ্টিত হওয়ায় এই দ্বীপে তেমন কোন খাদ্য শষ্য উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। দৈনন্দিন প্রয়োজনাদি জিনিস পত্র সব মহেশখালি থেকে ক্রয় করে আনতে হয়।

ক্যাম্পিং করার জন্য আদর্শ একটা জায়গা এই সোনাদিয়া, বন্ধুরা মিলে তাবু নিয়ে কয়েকদিনের জন্য ছুটে যেতে পারেন নির্জন এই দ্বীপে। বিশেষ করে চাঁদনী রাতে এই সোনাদিয়ার সৈকতে একটা রাত ক্যাম্পিং আর বার বি কিউ পার্টি করে দেখতে পারেন, দেখুন দুনিয়াটা কত সুন্দর।

কিভাবে যাবেনঃ

ঢাকার কমলাপুর, সায়েদাবাদ, কল্যাণপুর ও দেশের যেকোনো স্থান থেকে বাস, ট্রেন বা অন্য কোনো বাহনে করে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। কক্সবাজার কস্তুরী ঘাট থেকে স্পিডবোট বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তারপর যেতে হবে মহেশখালী। এক্ষেত্রে প্রথমে আপনাকে কলাতলী বা লাবণী পয়েন্ট থেকে কক্সবাজারের ৬ নং ঘাট এ আসতে হবে। ওখানে মহেশখালী যাওয়ার জন্যে স্পীড বোট পাবেন, ভাড়া প্রতিজন ৭৫ টাকা, মহেশখালী ঘাটে পৌঁছতে সময় লাগবে ১২-১৫ মিনিট। স্পীড বোটে চড়তে ভয় লাগলে গাছের বোটে চড়ে আসতে পারেন, ভাড়া ৩০ টাকা, সময় লাগবে ৪৫-৫০ মিনিট।

মহেশখালী ঘাটে নেমে রিক্সা নিয়ে চলে আসবেন গোরকঘাটা বাজারে, ভাড়া ২০ টাকা। এরপর আপনাকে যেতে হবে ঘটিভাঙ্গায়, মহেশখালীর গোরকঘাটা থেকে ঘটিভাঙার দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার। ৩-৪ জন হলে একটা সিএনজি নিয়ে যেতে পারেন ঘটিভাঙ্গা, ভাড়া ১৫০-১৭০ টাকা।

সেখান থেকে আবার ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সোনাদ্বিয়া দ্বীপে যেতে হয়। ঘটিভাঙা নেমে খেয়া নৌকায় সোনাদিয়া চ্যানেল পার হলেই সোনাদিয়া। ভাটার সময় খালে খুব বেশি পানি থাকেনা। সোনাদিয়া যাওয়ার দুটো উপায় আছে। হেঁটে যাওয়া অথবা জোয়ার এলে নৌকা। প্রতিদিন জোয়ারের সময় পশ্চিম সোনাদিয়া থেকে ঘটিভাঙা পর্যন্ত মাত্র একবার একটি ট্রলার ছেড়ে আসে। এই ট্রলারটিই কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রীদের তুলে নিয়ে আবার ফিরতি যাত্রা করে। ভাড়া প্রতিজন ২৫ টাকা ।

ঘটিভাঙ্গা থেকে সোনাদিয়া পশ্চিম পাড়ার উদ্দেশ্যে দিনে শুধু মাত্র একটি বোট যায়। বোট ছাড়ার সময় জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে, সাধারণত সকাল ১০ টা বা ১১ টার দিকে ছাড়ে । ৪০-৫০ মিনিটের মধ্যেই আপনি পৌঁছে যাবেন সোনাদিয়ায়, ভাড়া প্রতিজন ২৫ টাকা । বোট থেকে নেমে কাছেই বন বিভাগের একটা বিল্ডিং আছে, ওখানে রেস্ট নিতে পারেন, কিংবা কিছুক্ষণের জন্যে বসে আড্ডা দিতে পারেন পাশের ঝাউবাগানে । এরপর স্থানীয়দের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে চলে যেতে পারেন বীচে, ১০-১৫ মিনিট হাঁটলেই দেখা পাবেন সমুদ্র সৈকতের ।

ঘটিভাঙ্গা থেকে হেঁটে হেঁটেও সোনাদিয়া যাওয়া যায়, তবে তা একটু কষ্টকর। হেঁটে গেলে আপনাকে সোনাদিয়া পুর্ব পাড়ায় যেতে হবে, ওদিকে থাকা খাওয়ার কোন ব্যবস্থা এখনও হয়নি, তাই পশ্চিম পাড়া চলে যাওয়াটাই ভালো।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার থেকেও সরাসরি স্পিডবোট রিজার্ভ করে সোনাদিয়া দ্বীপে যাওযার ব্যবস্থা রয়েছে। সে জন্য নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। যারা ভ্রমণকে অ্যাডভেঞ্চারময় করতে ভালোবাসেন তারা কিছু বাড়তি খরচ করে কক্সবাজার থেকে সরাসরি স্পিডবোটে করে সোনাদিয়া দ্বীপে যেতে পারেন।
আরেকটা সুখবর, এখন সরাসরি গাড়িতে করে মহেশখালী যাওয়া যায়। যারা বোটে চড়তে ভয় পান বলে স্থলপথে আসতে চান বা প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে যেতে চান তাদেরকে কক্সবাজার থেকে বা ঢাকা/চট্টগ্রাম থেকে আসার পথে চকরিয়া নামতে হবে। চকরিয়া থেকে জীপ/সিএনজিতে করে বদরখালি এবং তারপর জীপ/সিএনজিতে করে গোরকঘাটা বাজারে যেতে হবে।

থাকা-খাওয়াঃ

সোনাদিয়া দ্বীপে পর্যটকদের থাকার জন্য কোনো আবাসিক হোটেল নেই। খাওয়ারও তেমন কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় লোকজনকে টাকা দিলে তারা খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে। আর সোনাদিয়া দ্বীপে রাত্রি যাপনের ক্ষেত্রেও ভরসা সেই স্থানীয় বাসিন্দাদের। তবে রাতে থাকার কষ্টের কথা চিন্তা করে যারা সূর্যোদয়ের আগেই ফিরে আসবেন তারা সোনাদিয়া দ্বীপের আসল সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হবেন। এখানকার সূর্যাস্ত আরও অসাধারণ। সন্ধ্যায় সাদা পালক দুলিয়ে সারি সারি বক উড়ে যায় আপন ঠিকানায়। নীল আকাশের কপালে কে যেনো দেয় লাল টিপ। আস্তে আস্তে যখন সূর্য হারিয়ে যায় সাগরের বুকে তখন তৈরি হয় এক মোহনীয় পরিবেশ। আর সোনাদিয়া দ্বীপে রাত্রিযাপন হতে পারে আপনার জীবনের সেরা রাতের একটি।

রাত্রী যাপন করতে চাইলে স্থানীয়দের বাসায় থাকতে হবে, এক্ষেত্রে গিয়াস উদ্দিন নামের ঐ এলাকার এক ছেলে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারবে, বিনিময়ে তাকে কিছু দিয়ে দিলেই হবে। আগে থেকে বলে রাখলে টাটকা সামুদ্রিক মাছ বা শুটকি রেঁধে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে দিবে, আগেও উনি বেশ কিছু ট্যুরিস্টকে এ ব্যাপারে হেল্প করেছেন। এছাড়া চাইলে বন বিভাগের অফিসে থাকতে পারেন, সেক্ষেত্রে ওখানকার স্টাফদের অনুমতি নিতে হবে।

সোনাদিয়া দ্বীপে দুইটি পাড়া আছে। পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া। ঘোরাঘুরি ও ক্যাম্পিং করার জন্য পশ্চিমপাড়া সম্পূর্ণ নিরাপদ।

বিঃ দ্রঃ কক্সবাজার থেকে একদিনে সোনাদিয়া ঘুরে আসা সম্ভব না, হাতে অন্তত দুইটা দিন সময় নিয়ে বের হোন, তাহলে সোনাদিয়ার পাশাপাশি মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, রাখাইন পাড়া, বৌদ্ধমন্দির, চরপাড়া, লবণের মাঠ, পানের বরজ- সবকিছু ভাল মত দেখতে পারবেন। রিক্সায় উঠার আগে আশেপাশের স্থানীয় কারো কাছ থেকে ভাড়াটা জেনে নিবেন, তারপর দরদাম করে উঠবেন, নয়তো কিছু কিছু রিকশাওয়ালা খুব ঝামেলা করে।

April 23,2017

"একদিনে পাথরঘাটা শহর "

28 Oct'19

প্রাকৃতিক বন আর সাগর হাতছানিতে মুগ্ধ হতে ঘুরে আসতে পারেন বরগুনা জেলায় অবস্থিত হরিণঘাটা পর্যটন কেন্দ্র থেকে। বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলা সদর তালতলী থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে হরিণঘাটা বাজারের পাশ থেকেই এই বনের শুরু। হরিণঘাটা বনের কাছ দিয়ে বয়ে চলা বলেশ্বর, বিষখালি এবং পায়রা নদী বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। দেখা হতে পারে বনের প্রধান আকর্ষণ হরিণ, শূকর ও সাপের সঙ্গে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য এ বনে রয়েছে পাচঁ তাল ওয়াচ টাওয়ার। জোয়ার - ভাটার কারনে এখানে এক সময় আপনার পায়ের নিচে পানি থাকবে আরেক সময় থাকবে না। একটা কাঠের ব্রিজও আছে এবং ব্রিজটা সোজা সমুদ্রে চলে যায়। সবুজ বনের ভেতরের দিয়ে তৈরী রাস্তা ধরে নদীর কাছে যাওয়া যায়। বনের মধ্যে থাকা খাল দিয়ে ট্রলারে করে বন দেখতে দেখতে চলে যেতে পারবেন তিন নদীর মোহনা ও সমুদ্রের কাছে। ট্রলার দিয়ে সমুদ্রে গিয়েছি কারন ব্রিজ দিয়ে গেলে বেশি সময় লাগতো ব্রিজটার কিছু জায়গায় ভাঙা চিল। ট্রলার টা বেশ বড় চিল, ভাড়া ৫০০/৬০০/- (যাওয়া +আসার), ব্রীজের নিচে ট্রলার পাবেন। শরীর ঠান্ডা করার জন্য গোসল করতে পারবেন তিন নদী ও সাগরের মোহনায়। বনের ভিতর প্রবেশ ফি১১.৩০ টাকা। 



হরিনঘাটা থেকে বাইকে ৩০ টাকা প্রতিজন ভাড়া দিয়ে যেতে পারেন পাথরঘাটা লঞ্চঘাট, লঞ্চ ছাড়বে বিকাল ৪ টায়| চাইলে পাথরঘাটা বাজারে দুপুরের খাবার টা সেরে নিতে পারেন| সেখানে পেয়ে যাবেন ছানার তৈরি সুস্বাদু মিষ্টি| পাথরঘাটা থেকে লঞ্চে করে যাবেন তালতলি বাজারে| ভাড়া জনপ্রতি ৯০/ টাকা| লঞ্চ বঙ্গোপসাগরের পাশ ঘেষে আপনাকে নিয়ে চলে যাবে তালতলি বাজার ঘাটে। ছোট লঞ্চে বসে সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় ভালোই উপভোগ করার মতো। 



তালতলি আসতে আসতে আসতে সন্ধ্যা হবে, চাইলে সেখানে থাকতে পারেন কম খরচের হোটেলে| অথবা সেখান থেকে মাহিন্দ্রায় করে চলে আসতে পারেন আমতলী| আমতলী থেকে চাইলে আপনি কুয়াকাটা যেতে পারেন,পটুয়াখালী যেতে পারেন, বরিশাল যেতে পারেন এমনকি রাত ১০-১১ টার বাস ধরে ঢাকায়ও চলে আসতে পারেন|



 ঢাকা গাবতলি থেকে সরাসরি পাথরঘাটা যাওয়ার বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৬৫০ টাকা, যেতে সময় লাগবে আট-নয় ঘণ্টা। চাইলে বরগুনা বা বরিশালগামী লঞ্চে চড়েও যেতে পারবেন। আমি বলব বরিশালের লঞ্চে যেতে,সেখান থেকে বরগুনা যেতে। বরিশাল থেকে প্রতি ঘন্টায় পাথরঘাটার উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। বরিশাল থেকে পাথরঘাটার ভাড়া ১৮০ টাকা। আর যারা সময় বাঁচাতে চান তারা বরগুনার লঞ্চ ধরবেন। ১১-১২ ঘণ্টার লঞ্চ জার্নির পর কাকচিড়ায় গিয়ে নামতে হবে। কাকচিড়া থেকে মোটরবাইক অথবা মাহিন্দ্রতে করে আধা ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে পাথরঘাটায় আসতে হবে ভাড়া নিবে ৪০/৫০টাকা। পাথারঘাটায় নেমে টেম্পু, মাহিন্দ্র অথবা মোটরবাইকে যাত্রা করে ২৫-৩০ মিনিট পরই দেখা মিলবে সেই কাঙ্ক্ষিত জায়গা হরিণঘাটার, আটো রিক্সা ভাড়া নিবে ১০০টাকা,।
পাথারঘাটা বঙ্গোপসাগরের খুব কাছের অঞ্চল হওয়ায় সেখানে খাবার হোটেলগুলোতে পাবেন সব ধরনের সামুদ্রিক মাছও।

বিঃ দ্রঃ পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোন কিছু করবেন না, স্থানীয় মানুষদের সম্মান দিন, আর যত্রতত্র ময়লা ফেলে আসবেন না। ঘুরেন দায়িত্ববোধের সাথে।

রাঙামাটি থেকে একদিনে ধূপপানি ঝর্না ভ্রমণের বৃত্তান্ত



 Article by  Asif Ahmed
Oct 20, 19 
Original link

রাঙামাটি থেকে একদিনে ধূপপানি ঝর্না ভ্রমণের বৃত্তান্ত। সবাই তো কাপ্তাই হয়ে যায়, আমি একটু ভিন্ন রুটের বর্ননা দিচ্ছি।

Photo:Collected
 ১৪ অক্টোবর। সকাল ছয়টায় আমরা পৌঁছে যাই রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাটে। সেখানে প্রায় সোয়া এক ঘন্টা দেরী হয় কারন আমাদের ট্যুরিস্ট বোটে তেল নেওয়া ছিল না। সোয়া সাতটার দিকে আমরা যাত্রা শুরু করি বিলাইছড়ির উদ্দেশ্যে। কথা ছিল দুই ঘন্টায় বিলাইছড়ি পৌঁছাবো৷ বাস্তবে তিন ঘন্টার বেশি লেগে গিয়েছিল। তাই লঞ্চ/ট্রলার ভাড়া করার সময় একটু কথাবার্তা ক্লিয়ার করে নিবেন৷ তারা তেল বাঁচাতে যথেষ্ট ধীরে লঞ্চ চালিয়েছে। যাইহোক, রাঙামাটি থেকে কাপ্তাইয়ের পাশ ঘেঁষে যখন বিলাইছড়ির রুটে প্রবেশ করেছিলাম তখনই মনে হচ্ছিলো যেন স্বর্গের দ্বার খুলে গেছে। বিলাইছড়িটা রাঙামাটি জেলা থেকে একটু বিচ্ছিন্ন বলে এদিকের সৌন্দর্যের রূপটা আগে দেখা হয়নি।

যাইহোক, আমরা সাড়ে দশটায় গিয়ে পৌঁছাই বিলাইছড়ির হসপিটাল ঘাটে। বিলাইছড়ি বাজারে যাওয়ার আগেই বিজিবি আর আর্মির দুটো চেকপোস্ট আছে। ট্যুরিস্ট হিসেবে গেলে অবশ্যই আইডি কার্ডের চারটা ফটোকপি নিতে ভুলবেন না কারন পরে আরও চেকপোস্ট আছে। এনআইডি হলে ভাল, না থাকলে স্টুডেন্ট আইডি হলেও হবে।

বিলাইছড়িতে সুন্দর একটা বাজার আছে। বেশ উপরে উঠতে হয় যদিও৷ ওখানে ট্রেকিং শু, থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট, ফার্মেসি প্রায় সবই আছে৷ ওখানে হালকা নাস্তা করে মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে একটা পাকা কলার কাঁদি কিনে আমরা এগারোটার দিকে রওনা দিলাম উলুছড়ির উদ্দেশ্যে৷ আমাদের প্রথম লঞ্চটার সাথে চুক্তি ছিল সে সারাদিন বিলাইছড়ি অপেক্ষা করে আমাদেরকে আবার রাঙামাটি পৌঁছে দিবে সন্ধ্যায়। বিলাইছড়ি থেকে স্থানীয় লঞ্চে (যথেষ্ট গতিশীল এবং লম্বাটে) যেতে হয় উলুছড়ি পর্যন্ত। ফেরার পথে সে ব্যাক করাবে বিলাইছড়ি পর্যন্ত। ভাড়া ১৫০০~২০০০ টাকা। দরদাম করতে হয়। এই বোটটা আমাদেরকে বিলাইছড়ির এক স্থানীয় বন্ধু ঠিক করে দিয়েছিল। এছাড়াও দুইজন স্থানীয় মাঝির নাম্বার আছে, চাইলে এদের সাথেও যোগাযোগ করে যেতে পারেন। (ইউসুফ মাঝি ০১৫৩৯৫৩০০৩৭, সুজন মাঝি ০১৮৬১৭৯২৪৫২)। মনে রাখবেন বিলাইছড়ির দিকে শুধু রবি আর টেলিটকের নেট পাওয়া যায়। তাই সেভাবেই সিম নিয়ে যাবেন।

বিলাইছড়ি থেকে প্রায় সাড়ে বারোটায় গিয়ে পৌঁছাই উলুছড়ি। গাইড নিতে হয় সেখান থেকে। গাইডকে নিয়ে সেখানে বৈঠা নৌকায় উঠতে হয়৷ উলুছড়ির পর একটা সোয়াম্প আছে, যেখানে ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে যাওয়া যায় না। এই সোয়াম্পটা অসম্ভব সুন্দর। হঠাৎ দেখলে মনে হবে ছোটোবেলার সেই "লেক প্লাসিড" মুভির সোয়াম্পের মতো। মনে হয় যেন এখুনি হুট করে একটা পাগলাটে কুমির এসে নৌকা উল্টে দিবে! সেখানে বক, পানকৌড়ি থেকে শুরু করে ঈগল পর্যন্ত শত প্রজাতির পাখি দেখা যায়। শুনশান নিস্তব্ধতার মাছে ঈগলের ডাক শুনে শরীর শিউরে উঠতে বাধ্য৷ সোয়াম্পের ঠিক মাঝ বরাবর একটা সরু জায়গায় আছে হাজার হাজার সাদা শাপলা। আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা সেখানে পৌঁছেছি দুপুরে। একটা শাপলাও ফুটে ছিল না! ভোরে পৌঁছাতে পারলে হয়তো সাদা শাপলার সৌন্দর্যে আরেকটু বেশি মুগ্ধ হতে পারতাম।

আমাদের সাথে গাইড হিসেবে ছিল উজ্জ্বল তঞ্চংগ্যা। প্রচন্ড একটিভ একজন মানুষ৷ ট্রেকিংয়ে গেলে যত কম ওজনের ব্যাগ ক্যারি করা যায় ততো কম ক্যারি করবেন৷ দরকার হলে বোটে মালামাল রেখে যান, কেউ হাত দিবে না৷ ক্যামেরা-মোবাইল সাবধানে পলিথিনে মুড়ে ক্যারি করবেন৷ গ্রুপে গেলে একটা/দুটো ব্যাগে প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে পালা করে ব্যাগ বহন করবেন যেন একজনের উপর চাপ না যায়। একটা ব্যাগ গাইডকেও দিতে পারেন।

সোয়াম্পটা পার হয়ে আমাদের নৌকা যেখানে থামলো এখান থেকেই মূল ট্রেকিং শুরু। প্রথম বিশ মিনিট প্রায় সমতল দিয়েই ট্রেকিং করতে হয়৷ মাঝে দুইবার পাহাড়ী ছড়া পার হতে হয়। হাঁটু বা কোমর পর্যন্ত ডোবার শুরু এখান থেকেই৷ মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন। আমরা বৃষ্টির দিনে যাওয়ায় প্রচন্ড স্রোত ছিল৷ ছোট্ট একটা ছবির মতো গ্রাম পার হবেন এই সময়টাতে। পাহাড়ী মাচা, জুমক্ষেত আর পাহাড়ীদের সহজ সুন্দর জীবন দেখতে দেখতে রাস্তাটা ফুরোবে৷

তারপর শুরু হবে চড়াই-উৎরাই। প্রথমে শুধু উঠতেই থাকবেন! খাড়া পাহাড়ের গায়ে সিঁড়ির মতো করে কেটে রাখা আছে। তাতেও কোনো লাই হয়নি৷ স্টেপগুলো এতো উঁচু উঁচু যে অল্পতেই হাঁপ ধরে যায়। থাই মাসল আর কাফ মাসলে ক্র্যাম্প হয়ে যেতে পারে যদি পূর্বে ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা না থাকে৷ মোটামুটি প্রথম পাহাড় ডিঙ্গিয়েই জিভ বের হয়ে যায়।

এরপর কিছুটা পথ পাহাড়ী রাস্তায় হাঁটতে হয়৷ এর মাঝে মাঝে দুই পাহাড়কে জোড়া লাগাতে কিছু বাঁশের সাঁকো আছে, সেগুলো পার হওয়ার সময় একটু সাবধানে পার হবেন৷ গাইডকে দেখে মনে হবে সে বাতাসে ভেসে পার হচ্ছে৷ কারন তার জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা সবই ওখানে। গাইডের মতো করে পার হতে গেলে বিপদে পড়তে পারেন৷ সাঁকোগুলোগুলো দেখতে অনেকটা "টেম্পল রানের" মতো। পাহাড় আর জঙ্গলের ভেতর সাঁকো পার হওয়ার সময় জংলী লতা এসে ঘাড় ছুঁয়ে যাবে। তখন একটু দেখেশুনে পার হবেন। কারন পাহাড়ভর্তি "গ্রীন ভাইন স্নেক" বা সবুজ লতা সাপ৷ এর বেশিরভাগই নির্বিষ হলেও কিছু জাত বিষাক্ত।

পাহাড় বাইতে শুরু করার পর প্রায় দেড় ঘন্টা লাগে ধূপপানি গ্রামে পৌঁছাতে। একের পর এক পাহাড় উঠবেন। একদম টপে আছে মানুষের সমান উঁচু ঘাসের বন। এর ভেতর দিয়েই পৌঁছে যাবেন গ্রামে। গ্রামটা পাহাড়ের উপর কিছুটা সমতলে অবস্থিত। ওখানে পাহাড়ী বাড়িঘরে দেখবেন নানা জাতের ফলের গাছ আর শূকর-ছাগলের পাল। মাচার মতো একটা দোকান আছে। চিপস-কেক-কোক থেকে শুরু করে প্রায় সবই পাবেন। এখানে বেশি খেয়ে পেট ভর্তি করবেন না। একটু জিরিয়ে মূল গন্তব্যের দিকে রওনা দিবেন। যদি ভারী কিছু থাকে, চাইলে এখানে রেখে যেতে পারেন।

এরপর বাকি পথটা শুধু নামার গল্প। নামতেই থাকবেন, নামতেই থাকবেন। যখন মনে হবে এই বুঝি নামা শেষ হলো, তখনই শুনবেন দানব ঝর্নার গর্জন!! কিন্তু ঝর্না তখনও দেখা যাবে না। কিছুদূর হেঁটে একটা সাইনবোর্ড দেখবেন। যেখানে বলা আছে "ধূপপানি কোনো পর্যটন এলাকা না। এটা একজন ভান্তের তীর্থস্থান।" ওখানে ঘুরতে গেলে সেভাবেই বিহেইভ করুন। পিকনিকের মতো নাচ গান করবেন না।

এরপরই একটু সামনে আগায়ে থমকে যাবেন! এতক্ষণ যতোটা খাড়া পথ বেয়ে নিচে নামছিলেন, সামনে দেখবেন তার দ্বিগুণ খাড়া পথে সিঁড়ি করা আছে!! এই জায়গাটায় অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করে নামবেন। হঠাৎ পড়ে গেলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে।

আমরা যখন এদিকে নামছিলাম তখন দুইজন পাহাড়ী ছেলে ওটা বেয়ে উঠছিলো। তাদেরকে হাঁপাতে দেখেই মন খারাপ হয়ে গিয়েছিলো! ওনাদের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে আমাদের কি অবস্থা হবে!!
যাইহোক, ওটা নেমে আর অল্প কিছুদূর গিয়েই বামে একটা বাঁক আছে, বাঁকটার মাথায় আবার বড় একটা পাথর আছে। মানে সৃষ্টিকর্তা যেন সুন্দর করে গুছিয়ে এতোটা নাটকীয়তা সাজিয়ে রেখেছেন। পাথরের ওপাশেই ঝর্না, কিন্তু পাথরের জন্য দেখা যায় না বাঁকের এপার থেকে। পাথরটাকে পাশ কাটিয়ে সামনে গিয়েই দেখা মিললো সেই অপরূপ সৌন্দর্যের। প্রায় দুই-আড়াই ঘন্টার ট্রেকিংয়ের কষ্ট ফুরুৎ করে উড়ে গেলো। প্রায় মিনিটখানেক শুধু হাঁ করেই তাকিয়ে ছিলাম ধূপপানির ঝর্নার দিকে। যদিও জুন-জুলাইয়ের মতো পানির দেখা পাইনি, তাও যা দেখেছি তাতেই মনে হচ্ছিলো এটাই স্বর্গ।
ধূপপানি ঝর্নার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো এর ভেতরের গুহাটা। শুধুমাত্র গুহার ভেতরে ঢুকে একটা ছবি বা ভিডিও করার ইচ্ছা থেকেই এই সময়ে ধূপপানি যাওয়া। ভিডিও করে আসার পর শুনলাম গুহার শেষ মাথাতেই নাকি একটা সাপ আছে!! যে কারনে কেউ পুরো গুহা নিয়ে ছবি তুলতে পারে না। ব্যাপারটা আমার জানা ছিল না বলে আমি একদম শুয়ে শুয়ে গুহার শেষ মাথাতেই ক্যামেরা সেট করে ভিডিও করে এসেছি!! কোনো সাপ থাকবে এটা কল্পনাও করিনি, সাপ দেখিও নাই! এখন ইনফোটা জানার পর থেকে গা শিরশির করছে!!

প্রায় চল্লিশ মিনিট দাপাদাপি করে আমরা ফিরতি পথ ধরলাম। সময় ফুরিয়ে আসছিলো বলে বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি। অলরেডি বাজে সোয়া তিনটা। এর ভেতর প্রকৃতিও রুদ্রমূর্তি ধারন করেছিল। ট্রেকিংয়ের সময়টাতে ছিল এক্সট্রিম গরম। এতোই গরম যে সান বার্ন হয়ে এক একজনের অবস্থা খুব কাহিল। সময়টাও ছিল একদম খাড়া দুপুর! আর ফিরতি পথে এতোই বৃষ্টি আর বজ্রপাত যে মনে হচ্ছিলো পাশের পাহাড়েই বাজ পড়ছে!

এর ভেতর দিয়েই ফিরতি পথে চলে এলাম সোয়াম্পের শেষ মাথায়। পথিমধ্যে পথ এতোটাই পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিলো, এক পা আগালে দুই পা পিছলিয়ে যাচ্ছিলাম আমরা। সব আলগা মাটিগুলো কাদা হয়ে খুব বাজে অবস্থা করে ফেলেছিলো।

যাইহোক, আল্লাহর অশেষ রহমতে তেমন কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই আমরা চলে এলাম উলুছড়ি। আটজনের টীমের চারজনই পিছলিয়ে পড়েছিলো বিভিন্ন জায়গায়, আর একজনকে ধরেছিল জোঁকে। এমনিতে খুব বেশি জোঁক নাই ধূপপানিতে। তাও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে ঘুরতে যাবেন। সাথে স্যালাইন রাখবেন।

উলুছড়ি থেকে বিলাইছড়ি আসতে আসতে বেজে গিয়েছিলো প্রায় সাতটা। পথিমধ্যে দুটো আর্মি চেকপোস্ট পড়ে। সাথে কোনো ডিফেন্স অফিসার না থাকলে অবশ্যই বিকেল পাঁচটার আগে বিলাইছড়ির আর্মি ক্যাম্প পার হবেন, নাহলে রাত কাটিয়ে যেতে হবে বিলাইছড়িতেই৷
সাতটায় বিলাইছড়ি ঘাটের "ভাতঘর" রেস্তোরাঁয় ভাত খেতে বসলাম। সারাদিনে এটাই প্রথম বড় কোনো খাওয়া। সাদা ভাত, ডাল, আলু ভর্তা আর দেশী মুরগীর তরকারি যে এতো অমৃতের মতো লাগতে পারে তা আগে জানা ছিল না। ট্রেকিংয়ের কারনে অবশ্যই একটা ইফেক্ট পড়েছে, এমনিতেও তাদের খাবার খুবই ফ্রেশ এবং সুস্বাদু।

এরপর সাড়ে সাতটায় আমরা রওনা দিলাম রাঙামাটির উদ্দেশ্যে। পথের আর্মি আর বিজিবি চেকপোস্ট পার হয়ে মূল কাপ্তাই লেকে উঠলাম। সেদিন ছিল প্রবারণা পূর্নিমার পরের রাত। আকাশ ভরা থালার মতো চাঁদ আর হাজার হাজার তারায় পুরো লেক আলোকিত হয়ে ছিল। আর দূর পাহাড় থেকে একের পর এক আকাশে উঠছিলো শত শত ফানুস। দূরের নীলচে তারাগুলো যেন লালচে হয়ে ধরায় নেমে আসছিলো।

পূর্নিমার রাতে সাতজন মানব সন্তান কাপ্তাই লেকের বুকে ভাসতে ভাসতে আর গান গাইতে গাইতে রাত সাড়ে দশটায় পৌঁছে গেলাম রাঙামাটিতে। শেষ হলো আমাদের ধূপপানি ঝর্না অভিযান। দিনটা ফুরিয়ে গেছে, অসংখ্য মোমেন্টের ছবি তোলা হয়নি, কিন্তু স্মৃতিতে রয়ে গেছে শত শত গল্প। গল্পগুলো তোলা থাকুক। বেঁচে থাকলে শোনাবো নাতিপুতিকে।।

বিদ্রঃ যেখানে ঘুরতে যাবেন অবশ্যই অপচনশীল দ্রব্য ফেলবেন না। ধূপপানি ঝর্নার ঠিক আগে আগে কয়েক প্যাকেট বিরিয়ানি পড়ে থাকতে দেখেছি৷ প্রকৃতিকে এভাবে নষ্ট করবেন না। চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল সাথে করে নিয়ে আসুন। দেশটা নিজের, নিজেই সুন্দর রাখুন।

খরচের ব্যাপারটার ব্রেকডাউন দিচ্ছিঃ

রাঙ্গামাটি-বিলাইছড়ি-রাঙ্গামাটি টুরিস্ট বোট ভাড়া - ২৫০০ টাকা।
বিলাইছড়ি-উলুছড়ি-বিলাইছড়ি বোট ভাড়া - ১৮০০ টাকা।
উলুছড়ি সোয়াম্পের বইঠা নৌকা ২টা - ৬০০ টাকা
গাইড - ৫০০ টাকা।
লাঞ্চ/ডিনার - ৭০০টাকা
পথে খাওয়ার জন্য কেক, কলা, স্ন্যাক্স এসব যে যার মত করে খরচ করেছি। হিসেব করা হয়নি।
গ্রুপ করে গেলে খুব বেশি একটা খরচ হয়না।
#দেশেই_ঘুরি, দেশেই ঘুরুন।।

"চায়ের দেশে একদিন"

Article and Photos by   Smita Debnath
শ্রীমঙ্গল নিয়ে লিখতে বসার আগে টিওবি তে এই শহর নিয়ে লেখাগুলো পড়ছিলাম, খুব বেশি লেখাও পেলাম না তেমন। শ্রীমঙ্গল কে যদি এক কথায় প্রকাশ করতে বলা হয় তবে বলা যায় সব ঋতুতেই সুন্দর এই শহর! বাংলাদেশে যে যায়গাটি তে গেলে আপনি কখনোই বোর ফিল করবেন না , সেটি শ্রীমঙ্গল, অন্তত আমি তাই মনে করি । ছোটবেলা থেকে হবিগঞ্জ শহরে বড় হওয়া আমি বহু বার গিয়েছি শ্রীমঙ্গল এ, কিন্তু এখনো ছুটি পেলে সেখানেই ছুটে যেতে ইচ্ছা করে। 
শ্রীমঙ্গল এর মূল আকর্ষণ হল এর ট্যুরিস্ট স্পট গুলো;পাহাড়, রেইন ফরেস্ট, হাওর আর সবুজ চা বাগান এর এক অনন্য সমন্বয় হল শ্রীমঙ্গল। বাংলাদেশের একমাত্র চা গবেষণা কেন্দ্রটিও রয়েছে শ্রীমঙ্গল এ। এছাড়া ও সাত কালারের চা (এখন আট কালারের চাও পাওয়া যায়) , মনিপুরী পাড়া ও তাদের ঐতিহ্যবাহি শাড়ির কদর ও রয়েছে দেশ জুড়ে।
এবারের পুজো তে শ্রীমঙ্গল এ প্রথমবারের মত সোলো ট্রাভেল করার সুযোগ হয়েছিল । কেউ যদি একদিনে শ্রীমঙ্গল ঘুরে আসতে চান ,তাহলে ঢাকা থেকে এনা পরিবহন এ করে চলে যেতে পারেন (ভোর ৫.৩০ থেকে শুরু ওদের বাস সার্ভিস) শ্রীমঙ্গল এ নেমেই দুপুরের খাবার সেরে নিতে পারেন পানসী রেস্টূরেন্টে(বেশ সাশ্রয়ী , দুই জনে পেট পুরে খেলেও বিল ৩৫০/৪০০টাকা এর বেশি আসার কথা না , আর অবশ্যই ওদের চা খেতে ভুলবেন না, এক কথায় অসাধারণ ) , এরপর একটি টমটম (ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা) অথবা সিএনজি ভাড়া করে(ঘন্টা হিসেবে অথবা দিন হিসেবে , ফেস্টিব ওকেশন ছাড়া যেকোনো সময় ঘন্টায় ভাড়া ১৫০টাকা হয় ) পুরো শহরই ঘুরে ফেলতে পারবেন । শহরের ভেতরে চা বাগান , লাউয়াছড়া, বধ্যভূমি, বিটিআরআই ঘুরে দেখতে পারবেন ,আর নীলকন্ঠ টি কেবিনে(নতুন টাই ভাল আগের টার থেকে) আট কালেরে চা বা স্পেশাল দুধ চা টেস্ট করে দেখার ও সু্যোগ মিলে যাবে এই অল্প সময়েই । এছাড়াও মনিপুরী পাড়া থেকে শাড়ি , শাল চাদর এইগুলো কিনতে ভুলবেন না , গিফট হেসেবে দারুন জনপ্রিয় এই মনিপুরী শাড়ি! 
যারা একটু সময় নিয়ে থেকে ঘুরতে চান তাদের জন্য রয়েছে ৫ তারকা হোটেল সহ আরও অনেক রিসোর্ট। একদিন থাকতে পারলে দেখে আসা যাবে মাধবপুর লেক ও , যা কিনা শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে।
এই শীতে ঘুরে আসতে পারেন চা এর রাজধানী শ্রীমঙ্গল এ , চা প্রেমীরা চা কিনতে ভুলবেন না , চা এর কেজি ৩০০ থেকে শুরু করে ১২০০ টাকা পর্যন্ত আছে । 

শ্রীমঙ্গল এমনিতেই বাংলাদেশের অন্যান্য শহরের থেকে পরিষ্কার ও সুন্দর । তাই যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে এর সৌন্দর্য কে নষ্ট না করি । 
 

ZOom-In Photograhy Club-Join and showcase your photographs today-It's free !

As an admin of ZOom-In Photography Club,I would invites you to become a free member of Zoomin Photography Clubs ! Showcase your photographs today. JOIN NOW




ZOom-In Photogaphy Club site's landing page



ZOom-In Photography Club's Gallery/explore page



খুলনার ঐতিহ্যবাহী আসল চুই ঝাল মাংস


খুলনা,বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় এই চুইলতা জন্মে। যশোর ও খুলনায় আত্মীয় স্বজন বেড়াতে এলে চুইয়ের ডাল দিয়ে রান্না করা মাংস থাকে খাদ্যতালিকায় প্রথম। চুইলতার আছে ভেষজগুন। এই লতার শিকড়, কান্ড,পাতা,ফুল-ফল সবই ভেষজগুণ সম্পন্ন। গ্যাস নিবারণ,রুচি বাড়াতে, ক্ষুধামন্দা দুর করতে এইটি বেশ কার্যকর ।

খাসি ও গরুর চুইঝাল মাংস

ইদানিং ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুইঝালের রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। এই সব রেস্টুরেন্টে খাসি ও গরুর মাংসের চুইঝাল পাওয়া যায়। পাঠক, আজকে আপনাদেরকে পরিচয় করে দিব, মিরপুরের একটি চুইঝাল রেস্টুরেন্টের সাথে। সনি সিনেমা হল থেকে যে রাস্তাটি চিড়িয়াখানার দিকে গেছে, সে রাস্তার পশ্চিম পাশে খুলনা হোটেল । হোটেলের সামনে বিলর্বোডে লেখা,‘ এখানে খুলনার এতিহ্যবাহী চুকনগরের বাবুর্চি দ্বারা চুইঝালের খাসির গোস্ত ও গরুর গোস্ত ভূনা ঘরোয়া পরিবেশে পরিবেশন করা হয়’। দুপুর দেড়’টা। হোটেলে ঢুকলাম। হোটেলের ভিতরটা বেশ পরিষ্কার। এ মুহুর্তে কাস্টমার কম। একটা শ্লেফে উপরের দিকে তোরো প্রকারের ভর্তা রাখা। নিচের তাকের দিকে একপাশে ডিমের তরকারী ও মুরগীর তরকারী রাখা। কিন্তুু চুইঝালের কোন ডিশ্ নাই। প্রায় যখন হতাশ, তখন হোটেলের ম্যানেজার এগিয়ে এলো। চুইঝালের পাতিল এখনো চুলায়। প্রায় নামানোর সময় হয়ে এলো। কিছুক্ষণ পওে চুই ঝাল দিয়ে রান্না গরুর ও খাসির ভূনা ভর্তি ডিশ এনে আমার সামনে রাখলো, তখন আমার আমুদ দেখে কে! ভূনা মাংস থেকে ধোঁয়া উঠছে। আস্ত রসূণ দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি চুইয়ের ডাল রয়েছে। দেখেই জিভেতে পানি আসে। কিভাবে বিক্রি করেন?-জিজ্ঞেস করলাম। প্রতি পিস ১৩০ টাকা। পার্সেল অর্ডার দিলাম। লোভ সামলাতে না পেরে হোটেলে বসেই এক পিছ মুখে চালান করে দিলাম। আলাদা একটা স্বাদ । মরিচের মতোই ঝাল। ঝাল বেশীক্ষণ থাকে না। এই চুইঝালের মাংস ভূনা না খেলে আসলেই আফসোস । তাই যারা খাদ্যরসিক ও ভোজনবিলাসী তারা মিরপুরে এলে একবার ঢু মারতে পারেন নিচের ঠিকানায়:


প্লট নং-৪, বীর বিক্রম হেমায়েত উদ্দিন সড়ক,(চিড়িয়াখানা রোড়),রাইনখোলা,মিরপুর-১,ঢাকা-১২১৬।

রাঙামাটির পথের ধূলোয়

ইউটিউবে একটি গান আছে ‘কবে যাব পাহাড়ে, আহারে! আহারে! ’। গানটি যতবার শুনি মনটা উদাস হয়ে যায়। পাহাড় আমাকে বড্ড বেশী টানে। অমোঘ সেই টান। সমুদ্র আমার কাছে প্রায় অবহেলিত। পৃথিবীর মানুষকে নাকি দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এক ভাগ ভালবাসে পাহাড় আর অন্যভাগ সমুদ্র। পাহাড়ের আছে দুর্নিবার টান। এই টান যে অনুভব করে,তার ঘরে থাকা দায়। পাহাড় চিরকালই রহস্যে ঘেরা। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে অপার বিস্ময়, সৌন্দর্য এখানে ক্লান্তিহীন। পাহাড় যেন বলে,আমাকে খোঁজ, আমাকে আবিষ্কার কর, তাহলেই পৃথিবীর সমস্ত রূপ-রস-গন্ধ তোমাকে দেব।

কাপ্তাই লেক

অপার্থিব সৌন্দর্যের খোঁজে মানুষ ছুটে চলে পাহাড়ে। পাহাড়ের এসে নিজেকেই খুঁজে ফিরি আমি। পাহাড়ী নদীর গতিশীলতা, বনফুল, পাহাড়ের সাথে মেঘেদের মিতালী, আঁকা-বাঁকা রাস্তা,পাহাড়ী মেয়েদের অবাধ জলকেলি-মনে জাগায় আশ্চর্য শিহরণ। শহরের দুূষিত বায়ু যখন ফুসফুসে জ্বালা ধরায়, চিন্তাশক্তি যখন শ্লথ হয়ে যায়, সুকঠিন জীবন সংগ্রামে জীবন যখন আর্তনাদ করে উঠে বলে ‘মুক্তি চাই’। ইংরেজীতে যাকে বলে ‘এস্কেপ’। তখন মনে জেগে উঠে পালাবার সাধ। শুধু আমারই না, মনে হয় সকলেরই। পালাতে চাই। পিছনে পড়ে থাকুক ঘটি-বাটি-লন্ঠন।


কাপ্তাই লেক

আজন্ম ভ্রমণপিয়াসী মন আর ক্লান্ত দেহটিকে নিয়ে চেপে বসি রাঙামাটিগামী বাসে। বাস ছাড়ে কলাবাগান থেকে। ঘড়িতে তখন রাত ১১ টা ২৫।কর্মব্যস্ত শহর তখন বিশ্রামের কাছে আশ্রয় নিয়েছে। জীবনসংগ্রামে পর্যদুস্ত নগরবাসীরা নিজ নিজ আশ্রয়ে ফিরছে। আগামীকালের লড়াইয়ের জন্য বিশ্রাম চাই, শক্তি চাই। সারাদিন চোর,বদমাস আর প্রতারকদের ( সাধুজনেরাও আছে) সাথে সওদা করে জীবন কলুষিত,চাই প্রিয়জনের সান্নিধ্য।


গতিজড়তার জন্য কেমন যেন ঝিমুনি আসছে। মস্তিক সজাগ।বাসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি। নিজেকে প্রশ্ন করি, কেন রাঙামাটি? অনেকবার তো গিয়েছিস ওখানে। কি আছে ওখানে? গুন গুন করে গান ধরি-
                                                   ওখ্যান গেলে মাদল পাবি,
                                                   মেয়ে-মরদের আদর পাবি,
                                                  এখ্যান তোরে মানাইছে নারে
                                                    এক্কেবারে মাইছেনারে।
                                                  নদী ধারে শিমুলের ফুল,
                                    নানা পাখির বাসা রে, নানা পাখির বাসা ।
                          কাল সকালে ফুটিবে ফুল, মনে ছিল আশা রে, মনে ছিল আশা।




অন্ধকার ভেদ করে বাস এগিয়ে চলে কুমিল্লা পিছনে ফেলে। পিছিয়ে যায়, হারিয়ে যায় শহর। ঘুম আসছে, ঘুম! কয়েক ঘন্টা পরেই মুক্তি সমাগত-সেই আনন্দই আমাকে ডেকে নিয়ে যায় ঘুমের দেশে। ভোর। আধো ঘুম আধো জাগরণের মধ্যে টের পেলাম বাস চলছে রাঙামাটির দিকে। আঁকা-বাঁকা রাস্তা। জানালার বাইরে আধো আলো আধো অন্ধকার। হাল্কা কুয়াশা।বাসের সহযাত্রীরা কেউ ঘুমে, কেউ বা জেগে। বাসের প্রায় অর্ধেক যাত্রীই উপজাতীয়। আধুনিক পোষাক-আশাক। স্মাট। শিক্ষিত-শিক্ষিতা। চাকমা তরুণীগুলো বেশ সুন্দরী, তাদের কটাক্ষ যে কোন তরুণের বক্ষ চিরে দিতে পারে। ভেদভেদি পেরিয়ে বাস ঢুকে রাড়ামাটি শহরে।

কাপ্তাই লেক


হোটেল সুফিয়া ইন্টারন্যাশনাল। এর আগে যতবার রাড়ামাটি এসেছি, ততবার এই হোটেলেই উঠেছি। একসময় এই হোটেলই ছিল পর্যটকদের জন্য আর্দশ। এখন অবশ্য বেশ কিছু আধুনিক হোটেল, রির্সোট গড়ে উঠেছে। এই হোটেলের বৈশিষ্ট্য হলো, এটি কাপ্তাই লেকের ঠিক পাশে। এসি-নন এসি রুম। আছে নিজস্ব ঘাট। ঢাকা থেকেই ২ টি এসি রুম বুক করেছিলাম। আমার সাথে আছে আমার পরিবার,শ্যালিকা ও তার হাসবেন্ড (উদ্দেশ্য হানিমুন!)। লেক সাইড এসি রুম। বারান্দা থেকে লেকের অনেকটাই চোখে পড়ে। হোটেল প্রায় পর্যটকশূন্য। অক্টোবর মাসে সাধারণত পর্যটকরা কম আসে। বাংলাদেশে পর্যটন মৌসূম এখনও শুরু হয়নি। আমাদের মতো অল্প কয়েকজন বোর্ডার আছে। বেশীরভাগই চাটগাঁয়র।

রুম সার্ভিসের মাধ্যমে বাইরের হোটেল থেকে নাস্তা এনে খেতে হলো। হোটেলের একমাত্র রেস্টেুরেন্টটি আপাতত বন্ধ। রুম বয়ের নাম ঝুলন ! (রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রিজ থেকে নাকি এই নামকরন)। বেশ চটপটে। তার কাছ বোট ভাড়ার খবর নিলাম। হোটেলের নিজস্ব ঘাটে আছে বোট। আপাতত ঘন্টাদুয়েক বিশ্রাম।


মায়াবী ঝর্ণা

বেলা এগারোটায় চলে এলাম ঘাটে। ঘাটে বেশ কয়েকটি কাঠের বোট আছে। একটি প্লাষ্টিক বডি বোট দেখতে পেলাম। আকারে ছোট। সুবিধা একটিই-ইঞ্চিনের শব্দ কম হয়। রেট চড়া-প্রায় ২৪০০ টাকা। ঠিক করলাম কাঠের বোট। আকারে বড়। ইঞ্চিনের শব্দ বিকট। কিছুক্ষণ মলামুলির পর ১৪০০ টাকা ঠিক হলো। মাঝি বাঙালী। সাথে কম বয়সী হেলপার। গন্তব্য শুভলং ঝর্ণা। আহামরি ঝর্ণা নয়। আগেও গিয়েছি এবং প্রতিবারই নিরাশ হয়েছি। ক্ষীণ পানির ধারা শুভলং পাহাড়ের উপর থেকে নিচে ধাবিত। তাতেই পর্যটকদের কি উল্লাস! হোটেলের সীমানা ছাড়িয়ে বোট এগিয়ে চলছে শুভলং-এর দিকে। পানি নীল। দুরে সবুজ টিলার হাতছানি। পানিতে ভাসছে পানি,জুস আর সফ্ট ড্রিংকসের খালি বোতল। হায়রে মানুষ! যে পাত্রে খাস, সেই পাত্রেই হাগিস ! মৃদু বাতাস। মাথার উপর নরম রোদের ছোঁয়া। চোখের ফোকাস অসীম। চিত্ত প্রসন্ন। কর্ণ কিষ্ণিত অ¯িহর ইঞ্জিনের শব্দে। পরিবার পরিজনের সাথে হাসি-তামাসা। সেলফি। ক্যামেরার শাটার পড়ার শব্দ। আবেশে ঘুম চলে আসে।

আমার বড় মেয়ে রোসা ,সহধর্মী মুনিয়া, শ্যালিকা রাহা,  আর ছোট মেয়ে লিরিক

পাহাড়ের গায়ে লেথা ‘বরকল উপজেলা’, পাশেই ‘ঝুমঘর রেস্টুরেন্ট। যাইনি কখনো। বোটও থামাইনি এখানে। গন্তব্য শুভলং ঝর্ণা। দুর থেকে চোখে পড়ে শুভলং ঝর্ণা। পাহাড়ের গা ঘেসে নিচে পড়ছে পানির ক্ষীণ ধারা । খুবই হতাশাজনক দৃশ্য। বোট ভেড়ানোর ইচ্ছেটাই উড়ে গেল। পাশ কাটিয়ে চলে এলাম সামনে। পাহাড়ের উপরে সুউচ্চ বুদ্ধ মূর্তি উচ্চতা ২৯ ফুট ৮ ইঞ্চি। ছোট্ট এই দ্বীপটির নাম ‘হেমন্ত কিজিং পাড়া’। এখানে আছে বৌদ্ধ বিহার আর বৌদ্ধ ভিক্ষুদের থাকার আশ্রম। ধ্যানরত গৌতম-এর মূর্তি নয় এটি। এক হাত তুলে সমস্ত জগতকে আর্শীবাদ করছেন-‘জগতের সকল প্রাণী সুধী হউক’। অন্য হাতে ধরা মাটির পাত্র-অন্ন ধারক। দৃষ্টি তাঁর অসীমে। বোট ভিড়াতে বললাম। ছোট ঘাটের মতো। দু-একটি বোট ভিড়েছে। ভীড় নেই তেমন। একটি ইষ্টক নির্মিত সিঁড়ি ধাপে ধাপে উঠে গেছে উপরে। ঘাটের পাশেই ছোট্ট বাজারের মতো। ডাব,কলা,পানীয়,কাপড়-চোপড়ের দোকান। বেচাকেনায় ব্যস্ত চাকমা নারী-পুরুষ। সূর্য মাথার উপরে। বেশ গরম। ডাবের অর্ডার দিলাম। সুমিষ্ট পানি গলা বেয়ে নেমে গেলো। ছবি তুললাম বেশকিছু। ডাবের দোকানের পাশে খানিকটা খালি জায়গা। সেথানে বসে আপনমনে বাঁশের নল দিয়ে বানানো হুকোয় দম দিচ্ছে এক আদিবাসী। আয়েশে চোখ বোঁজা। বাশেঁর চোঙায় ফিট করা কলকি দিয়ে ধূঁয়ো বের হচ্ছে। ক্যামেরার শাটারের শব্দে চোখ খুললেন তিনি। রক্ত জবার মতো টকটকে লাল। এই বাম্বু ধূমপায়ীদের কিছু ছবি তুলেছিলাম বনরূপা বাজারে। এরা যখন ধুমপাণ করে তখন তা নিবিষ্ট মনেই করে। নট নড়ন-চড়ন। ট্রাইও করেছিলাম একবার। যা কড়া! একটানেই মাথা ভোঁ-ভোঁ।


বৌদ্ধ বিহার

বোটের মাঝির সাথে আলাপ করছি নানা বিষয় নিয়ে। বেশ মিশুক। কথা প্রসংগে একটা ছড়ার (ঝর্ণা) কথা বলল। যাওয়ার পথেই নাকি পড়বে। আপত্তি করলাম না। ঘুরতেই তো এসেছি।

ছোট ঝর্ণা। নাম মায়াবী ঝর্ণা। কালচে পাথরের গা বেয়ে নেমেছে। চারিদিকে শীতল পরিবেশ। ঝর্ণা থেকে একটু দুরে ডাব নিয়ে বসেছে একজন। আক›ঠ পান করছে কয়েকজন। বেশ কয়েকজন ছেলে-ছোকরা ঝর্ণার পানিতে অবগাহন করছে মনের আনন্দে। সেকি উল্লাস! একজন গান ধরেছে, ‘ আমি তো ভালা না, ভালা লইয়াই থাইকো’। বেশ চটুল গান। ঝর্ণার পানিতে গা ধূঁয়ে ভালা হওয়ার চেষ্টায়রত। ছবি তোলা হলো, সাথে সেলফি। সেলফি এখন একজনের ছবি নয়। ফ্রেমে ঠাসাঠাসি মুখ। বাঁকানো-কেলানো হাসি।


খিদে লেগেছে। কবি সুকান্ত লিখেছিলেন,‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়’। আসলে পেটে খিদে থাকলে সবকিছু বিষাদ লাগে। পূর্ণিমার বিশাল চাঁদকেও খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে জাগে। বোটে ফিরে এলাম। গন্তব্য ভোজনালয়। আগেই বোটের মাঝির মাধ্যমে আগেই খাবারের অর্ডার দিয়েছিলাম। টিলার উপর ছিমছাম রেস্টুরেন্ট। নাম চ্যাং-প্যাং। বোট এসে ভিড়ল রেস্টুরেন্টের ঘাটে। ইট বিছানো সিঁড়ি ধাপে ধাপে উপরে উঠে গেছে। খাবারের মেনূ আগে থেকেই ঠিক করা। আতপ চালের ভাত, কাচ্চকি মাছের ফ্রাই, বাম্বু চিকেন আর ডাল। রেস্টুরেন্ট থেকে কাপ্তাই লেকের এরিয়াল ভিউ। অপূর্ব নির্সগ দৃশ্য। পাশের টিলার উপর বাঁশের কয়েকটি ঘর। চারদিকে কলা গাছের বেষ্টনী। মাথার উপর নীল আকাশ। মনে মনে ভাবি, এখানে একরাত থাকলে ভাল হতো। কিস্তু বিধি বাম। রাতে থাকার ব্যব¯হা নেই এই সব টিলায়। নির্জন নক্ষত্র ভরা রাত-ওই যে সূদুর নিহারিকা-আহ্ আফসোস! ভোজনপর্ব শেষ। বেশ তৃপ্তিকর খাবার। কাঁচকি মাছের ফ্রাই ছিল বেশ মুচমুচে।বাম্বু চিকেন আহামরি কিছু নয়। আদার গন্ধটা একটু বেশী। চা-টা যেমন তেমন।

বেলা প্রায় তিনটে। সূর্যের আঁচ তেমন একটা নেই। টুরিষ্ট বোটগুলো ফিরে চলছে। আমরাও ফিরে চলছি হোটেলপানে। একসারি জেলে নৌকা চলে গেল আমাদের বোটকে পাশ কাটিয়ে। দেখার মতো দৃশ্য।


হোটেলের বারান্দা। বাইরে বিষন্ন আলো-রাত নামছে। বারান্দা থেকে দেখছি লেকের কালো জল। মৃদু ঢেউ আছড়ে পড়ছে হোটেলের গায়ে। ঘরে ফিরছে পাখিরা। ভাবছি এখন কি করা যায়। হোটেল বয় একটা রেস্টুরেন্টের খবর দিল। পাইর্টেস রেস্টুরেন্ট। খাবারও নাকি ভালো। ঠিকানা ডিসি বাংলো পার্ক। হোটেল থেকে বের হলাম। রাত নেমেছে। মাথার উপর প্রায় গোলাকার চাঁদ। হোটেলের সামনেই ব্যস্ত রাস্তা। অটো ঠিক করা হলো। ভাড়া ১০০ টাকা। একটু বেশীই মনে হলো। আঁকা-বাঁকা মসৃন রাস্তা। চন্দ্রালোকিত রাত। কাপ্তাই লেককে হাতের বায়ে রেখে অটো ছুটে চলছে আধাঁর ভেদ করে। আধাঁরের পটভূমিতে কাপ্তাই লেকের উপর ঝুলে আছে পূর্ণিমার চাঁদ। লেকের পানিতে আলোর নৃত্য। ইচ্ছে করলে এখানে কাটিয়ে দেওয়া যায় পুরো রাত। চাঁদে-ধরা মানুষ হওয়ার আপাতত ইচ্ছে নেই। ডিসি-বাংলো পার্ক। অটো নামিয়ে দিল লোহার গেটের পাশে। রাস্তা বেশ নির্জন। ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম হোটেলে ফেরার অটো বা লোকাল বাস এখান থেকে পাওয়া যাবে কিনা। উত্তরে ড্রাইভার বলল, পাওয়ার স¤ভবনা কম। চিন্তার বিষয়। ড্রাইভারকে বললাম, ঠিক একঘন্টা পর এসে আমাদেরকে এখান থেকে উঠিয়ে নিতে। কিছুক্ষণ ভেবে ড্রাইভার রাজি হয়ে গেলো ভাড়া না নিয়েই।


ডিসি-বাংলো পার্কটি একটি নিচু টিলার উপরের অংশ সমতল করে বানানো হয়েছে। বিশাল সবজ মাঠ। রেলিং দিয়ে ঘেরা। গেট পেরিয়ে এগুলে হাতের বায়ে বাচ্চাদের খেলাধূলার জন্য দোলনা,স্লিপার রয়েছে। বেশকিছু কংক্রিটের বেঞ্জ। পার্কের শেষ মাথায় পুকুরের কোল ঘেষে ‘পাইর্টেস রেস্টুরেন্ট’। জলদস্যূ নৌকার আদলে তৈরী রেস্টুরেন্ট। আলোকসজ্জার জন্য অন্ধকারের পটভূমিতে চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে। আসন গ্রহন করার পর মেনু দিকে চোখ বুলালাম। ফ্রাইড চিকেন, রাইস, ফ্রেঞ্জ ফ্রাই, জুস। ডিনারের অনেক সময় রয়েছে,তাই ভারী কিছুর দিকে গেলাম না। মাসরুম ফ্রাই আর ড্রিংকসের অর্ডাও দিলাম। মাসরুম ফ্রাই-এর ব্যাপারে প্রাথমিক আপত্তি উঠলো। আমি আমার সিদ্ধান্তে অটুট রইলাম। ধোাঁয়া উঠা মাসরুম ফ্রাই আসলো। পেটে চালান হয়ে গেলো নিমিষেই। প্রশংসার ঝড় বয়ে গেলো আমার আর মাসরুম ফ্রাইয়ের উপর দিয়ে। মাসরুম ফ্রাই তো কম খাওয়া হয়নি,অথচ এত উপাদেয় আর মুচমুচে ফ্রাই আগে খাওয়া হয়নি। আমার ওয়াইফ ও শ্যালিকা এই ভাজা মাসরুমে এতই বিমোহিত যে, তারা পরের দিনের ডিনারের অর্ডার (সাথে এই মাসরুম ফ্রাই) অগ্রীম দিয়ে দিল। রাত গড়িয়ে নয়টা। আড্ডা আর সেলফি তুলতে তুলতে বেশ খানিকটা কোয়ালিটি টাইম পাস করলাম। অটো এসে গেছে। এবার হোটেলপানে। উদ্দেশ্য রাত্রিযাপন। রাত বেশী হয়নি, রাস্তা-ঘাট ফাঁকা। বেশিরভাগ দোকানপাটের শাটার নেমে গেছে। রাতের আঁধার কেটে অটো ছুটে চলছে। কাপ্তাই লেক আর চাঁদ এখন আমাদের হাতের ডানে। রাতের সৌন্দর্য-এ আমরা প্রায় বোবা। মাথার উপর অনন্ত নক্ষত্রবীথি।

হোটেলে সকালে ঘুম থেকে উঠা আসলে একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। প্রতিবারই এই চ্যালেঞ্জে-এ হেরেছি। এরজন্য হয়তো হোটেলের নরম তুলতুলে বিছানাই দায়ী। হোটেলের পাশে এক রেস্টুরেন্ট থেকে নাস্তা সারলাম। পরটা,ভাজি, ডিমের ওমলেট আর চা। আজ শুক্রবার। শহরে ছুটির আমেজ। আগের রাতেই ঠিক করা ছিল অটে। গন্তব্য কাপ্তাই। রেস্টুরেন্টের বাইরে অটো দাড়িয়ে। হোটেল টু কাপ্তাই আপ-ডাউন ভাড়া ১৪০০ টাকা।

যাত্রা শুরু। রোদেলা সকাল। শহরের ভিতর আঁকা-বাঁকা রাস্তা পেরিয়ে অটে এগিয়ে চলছে। রাঙামাটি-কাপ্তাই রাস্তা বেশী চওড়া নয়। রাস্তার একপাশে আমাদের সংগী কাপ্তাই লেক। অন্যপাশে পাহাড়-টিলা আর জংগল। বেশ লম্বা একটি ব্রীজ কাপ্তাই লেকের উপর। ছবি তোলার জন্য নামলাম। লেকের নীল পানি। মাথার উপর পেজা তুলার মতো মেঘ। ল্যান্ডস্কেপের জন্য আর্দশ। খুব যত্ন করে ফ্রেমিং করলাম। আশানুরুপ ছবি তুলতে পেরে মনটা ভরে গেল। ড্রাইভার বলল, আরো ঘন্টা তিনেক পরে কাপ্তাই বাঁধের কাছে যাওয়া যাবে। আঁকা-বাঁকা রাস্তা ক্রমশ উপরে উঠছে। চারপাশে নৈসর্গিক দৃশ্য। রাস্তার পাশে বুনো ঝোপঝাড়ে ফুটে আছে অসংখ্য বনফুল। যতই উপরে উঠছি, ততই চোখের সামনে খুলে যাচ্ছে সৌন্দর্যের অদেখা ভুবন। পুরো কাপ্তাই লেকের এরিয়াল ভিউ। অনেক নীচে নীল জলরাশির মধ্যে জেগে আছে ছোট ছোট বিছিন্ন সবুজ দ্বীপ। টুরিষ্ট বোটগুলোকে লাগছে খেলনা বোটের মতো। দুরে-বহু দুরে ঝাপসা নীল পাহাড়-মায়াবী হাতছানি। সামনে একটা বাজার। পাহাড়ী উপজাতীয়দের ভিড়। সবার পরনে রঙবেরঙের পোষাক। কিছু মহিলার হাতে তাজা জবা ফুল। পুজার অর্ঘ্য। কারোও হাতে প্রসাদের প্যাকেট। রাস্তার একধারে কচি সবুজ ডাব নিয়ে বসেছে কিছু উপজাতি মহিলারা। দামে বেশ সস্তা। অটো থেকে নেমে পড়লাম। উদ্দেশ্য ডাব খাওয়া নয়, সিগারেট। ডাবের পানির সাথে সিগারেটের ধোঁয়া। লেকের পানির উপর জেগে আছে মন্দিরের চূড়া। সমস্ত মন্দির পানির নীচে। চূড়ায় গাঁদা ফুলের মালা। পূজা-অর্চণা নিয়মিতই চলে। ভাবতেই কেমন যেন রোমাঞ্চ জাগে। সাথে বেদনাও। একটা আস্ত জনপদ কাপ্তাই লেকের নীচে।


এখানে কাপ্তাই লেকের ইতিহাস একটু তুলে ধরলে নিশ্চয় বাহুল্য হবে না।১৯৫৬ সাল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার রাঙামাটি জেলায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে কর্ণফুলি নদীতে জল-বিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু করে। এই বাঁধের ফলে রাঙামাটির ৫৪,০০০ একর (২২০ বর্গকি.মি) এলাকা পানির নীচে চলে যায় এবং এই কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়। লক্ষাধিক উপজাতি ও বাঙালী লোক তাদের ঘর-বাড়ি,কৃষিজমি হারায়। অনেকে অরুণাচল,মিজোরাম ও ত্রিপুরায় আশ্রয় নেয়। তাছাড়া তৎকালীন চাকমা রাজা ত্রিদ্বিপ রায়ের (বর্তমান রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশিষ রায়ের পিতা) রাজবাড়ি ১৯৬০ সালের দিকে পানির তলায় ডুবে যায়। পরে অবশ্য কাপ্তাই লেকের পানি কমে গেলে রাজবাড়িটি দৃশ্যমান হয় এবং রাঙামাটিতে পর্যটকদের প্রধান আর্কষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। চাকমাদের অতি পবিত্র এই রাজবাড়ি। অনেকে আগে গিয়েছিলাম। জুতা খুলে ঢুকতে হয়। ভিতরে একটা মিউজিয়াম। ছবিসহ চাকমা রাজাদের ইতিহাস।এইবার যাওয়ার উপায় নেই। বর্তমানে পর্যটকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়না এখানে।


বর্তমানে ফিরে আসি। অটো চলছে। প্যাঁচালো রাস্তা দিয়ে উপরে উঠছে। রাস্তা খাড়া। ইঞ্জিনের আর্তচিৎকার। ভয় লাগছে-না জানি ইঞ্চিন বিগড়ে যায়। ড্রাইভার নির্বিকার। মুখে অভয় বাণী। টুরিষ্ট স্পটের নাম ‘বেড়াইন্যা’। হাতের ডানে পড়। এখানে থামলাম না। আমাদের গন্তব্য কাপ্তাই বাঁধ। ড্রাইভার বলল, কাপ্তাই বাঁধে এখন সাধারণ টুরিষ্টদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। অসাধারণ টুরিষ্ট- যারা উপর মহল থেকে পারমিশন আনতে পারে,কেবল তারাই কাপ্তাই বাঁধ পরিদর্শণ করতে পারে। তবে বাঁধের কাছে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর একটি পিকনিক স্পট আছে-ছুটির দিনে বেশ জন সমাগম হয়। ড্রাইভারকে বললাম,‘ আমায় হাত ধরে সখা নিয়ে চল, আমি যে পথও চিনি না’। বেশ কয়েকটা চেক-পোষ্ট পার হতে হলো। পিকনিক স্পট-এ নামলাম। অটো আমাদেরকে নামিয়ে দিয়ে একটু দুরে যেয়ে পার্ক করলো। পাহাড়ের মাথা সমান করে পিকনিক স্পটটি গড়ে উঠেছে। ছুটির দিন বলে ভিড় বেশী।বেশীর ভাগই চিটাগাং-এর লোকাল। কোলাহলে মুখর। সবাইকে মনে হলো খুশির ঠেলায় ঘোরতে এসেছে। সবুজ ঘাসে ছাওয়া স্পটটি রেলিং দিয়ে ঘেরা। রেলিঙের পাশে দাড়ালে অনেক নীচে লেকের নীল জল চোখে পড়ে।একপাশে একটা এসি কটেজ। রাতে থাকা যায়। ইচ্ছে করলে সারাদিনের জন্য ভাড়া নেওয়া যায়। একটা সিঁড়ি ধাপে ধাপে টিলার শরীর কেটে নিচে চলে গেছে। নিচে সুন্দর ছোট একটা ব্রীজ দুটি টিলাকে সূংযুক্ত করেছে। লেকে বোট আছে বেশকিছু। কিছু পয়সা খরচ করলেই আপনাকে ঘুরিয়ে আনবে। সিঁড়ি দিয়ে উঠা নামায় আমি নেই। রেলিং-এর পাশে ঠেস দিয়ে দাড়িয়ে সৌন্দর্য অবলোকন করলাম। টিলাগুলো সবুজ। নীল আকাশের ছায়া পড়েছে লেকের জলে।


দুপুর গড়িয়ে বিকেল। পেটে দানা পানি কিছু নেই। সৌর্ন্দয উপভোগ অপেক্ষা পেট-পূজো উত্তম। সবাইকে নিয়ে অটোতে উঠে পড়লাম। অটোতে মোটামুটি গাদাগাদি করেই বসতে হয়েছে। পিছনে আমার সহধর্মী মুনিয়া, শ্যালিকা রাহা, আমার বড় মেয়ে রোসা আর ছোট মেয়ে লিরিক। সামনে ড্রাইভারের পাশে আমি (লেখক) ও শ্যালিকার স্বামী অভি প্রায় বাদুড় ঝোলার মতো। যতবার রাস্তার বাঁক পেরিয়েছি,মনে হয়েছে এই বুঝি ছিটকে পড়লাম। রাস্তা এমন চড়াই-উতরাই আর আঁকা-বাঁকা জানলে মাইক্রো ভাড়া করতাম। পাঠকরা, আপনারা যদি এখানে কোন দিন আসেন, তাহলে প্রাইভেট কার অথবা মাইক্রো ভাড়া করে আসবেন। যাত্রা সুগম ও আরামদায়ক হবে।


মসৃণ রাস্তা । চারিদিকে পাহাড়। পাহাড়ের গায়ে বিশাল গাছগুলো প্রহরীর মতো দাড়িয়ে আছে। শাল-সেগুন-মেহগনি আর নাম না জানা কত গাছ। মাঝে মাঝে পায়ে চলা কাঁচা রাস্তা হারিয়ে গেছে কোন টিলার দিকে। বাতাসে বুনো প্রকৃতি ঘ্রাণ। একটা রেস্টুরেন্টের সামনে এসে থামলো অটো। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের। ভিতরে উঁকি দিলাম। খাবারের কথা একজনকে বলতেই বলল টোকেন নিতে হবে। সেল্ফ সার্ভিস। ঘুরতে এসে টোকেন নিয়ে সেল্প সার্ভিসে খাবার সংগ্রহ করতে হবে। মেজাজটাই বিগড়ে গেল। ধুর ছাই! এখানে না। অন্য কোথাও যেতে হবে। ড্রাইভারকে বললাম অন্যকোন রেস্টেুরেন্টে নিয়ে যেতে। মাইল তিনেক যাওয়ার পর আমাদেরকে এক তলা একটা রেস্টুরেন্টে নামিয়ে দিল। ঠিক রাস্তার উপরে রেস্টুরেন্টটি।একদিকে পাহাড়,অন্যদিকে লেকের পাড়। ভিতরে দেখলাম অনেকগুলো লম্বা টেবিল । প্রায় খালি। এক কোনে ক্যাশ-কাউন্টার। ওয়েটার ছুটে এল। চটপটে। মুখে অমায়িক হাসি। টেবিল পরিষ্কার করে দিল। খাবারের মেনু সাধারণ। আতপ চালের ভাত, কাচকি মাছের ফ্রাই,গরু মাংসের ভূনা ডাল আর সালাদ। খিদে লেগেছিল। সবাই তৃপ্তি করে খেলাম।খাওয়ার পর এক কাপ চা হাতে রেস্টেুরেন্টের বাইরে লনে এসে বসলাম। সামনে কাঠের রেলিং। কাপ্তাই লেক চলে গেছে দুরে দুটি টিলার মাঝখান দিয়ে। একটা টিলার উপরের কিছু অংশ পরিষ্কার করে চা চাষ করা হয়েছে। পাশে একটি বাঁশের কুটির। আকাশে পেঁজা তুলার মতো মেঘ। শিল্পী হলে হয়তো রঙ-তুলি নিয়ে বসে পড়তাম। আপাতত আমার ডি-এস-এল-আরই ভরসা। বিকেল ঘনিয়ে আসছে। সূর্যের তেজ কমে গেছে। আলো থাকতে থাকতে হোটেলে ফিরতে হবে। দিনের আলোতে পাহাড় যতই আনন্দদায়ক হোক না কেন, রাতে ঠিক ততটা আনন্দদায়ক নাও হতে পারে। অচেনা জায়গা,সাথে পরিবার-পরিজন।যেকোন বিপদ হতে পারে। আলো থাকতে থাকতে ফেরাই বুদ্ধিমানের কাজ। ড্রাইভারের খাওয়া শেষ হয়ে গেলে ফিরতি পথ ধরলাম। পাহাড়ে বিকেল নামছে। চারিদিকে মায়াবী আলো ছড়িয়ে একটি দিনের অবসান হচ্ছে। রাস্তা এখন ঢালু। অটো নিচে নামছে পাহাড়ী রাস্তা দিয়ে।


এ রাস্তায় বাস চলে না। মাঝে মাঝে দু-একটা অটো, মাইক্রো কিংবা প্রাইভেট কার আমাদেওকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। রাস্তায় লোকজন নেই বললেই চলে। দু-একজন পাহাড়ী হেঁটে চলছে। প্রচন্ড পরিশ্রমী পাহাড়ীরা। হেঁটে যেতে পারে, মাইলের পর মাইল ক্লান্তিহীন। লোকালয় এখানে দুরে দুরে। পদযুগলই একমাত্র ভরসা। সামনে ‘বেড়াইন্যা’ নামে লেক শোর ক্যাফে পড়ল। পাঠক, যাওয়ার সময় এই স্পটটিতে আমরা যাইনি। এখন ফেরার সময় এখানে একটু ঢু মারলাম।রাস্তা থেকে একটি পায়ে চলা পথ চলে গেছে লেকে দিকে। পথের দু’ধারে লম্বা শণ ঘাস। লেকের এক পাশে স্পিডবোর্ড ভাসছে বেশকিছু।পাশেই রেস্টুরেন্টে প্রবেশের পথ।লেকের পাড়ে বেশ কিছু জমি অধিগ্রহণ করে গড়ে উঠেছে এই রেস্টুরেন্টটি। বড় গাছের নীচে একটি টায়ারের দোলনা। আশে পাশে ছোট ছোট বেঞ্চ। একপাশে মূল রেষ্টুরেন্ট । কাঠামো টিন ও বাঁশের। লেকের ঠিক কিনারা ঘেষে কাঠের পাটাতন। উপরে খড়ের ছাউনি। সেখানে বসে একজোড়া প্রেমিক-প্রেমিকা হাতে হাত রেখে দুনিয়াদারী ভূলে পরষ্পরের দিকে তাকিয়ে আছে। আমার সফরসংগীরা চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লো। কেউ গেল টয়লেটে হাল্কা হতে আবার কেউ একটা বেঞ্চ দখল করে লেকের দিকে উদাস নয়নে তাকিয়ে রইল। আমার মেয়েরা টায়ারের দোলনায় দোল খাচ্ছে আর হাসছে। গাছের নীচে একটা বেঞ্চ দখল করলাম। গাছের তির্যক ছায়া লেকের পানি ছুঁয়ে আছে। সামনে দিগন্ত বিস্তৃত লেকের জলরাশি দুরের পাহাড়ের সাথে মিতালী করেছে।

মনের কোনে কোথায় যেন বিচ্ছেদের সূর। ফিরতে হবে। ফিরে চললাম অটো-এর দিকে। ড্রাইভারকে বললাম তবলছড়ি থামতে। তবলছড়িতে একটা মার্কেট আছে। রাঙামাটি শহরের শেষপ্রান্তে মার্কেটটি। উপজাতীয় পণ্য সামগ্রীর অনেকেগুলো দোকান। উপজাতীয় তরুণীরাই দোকান চালায়। কেনাকাটা শেষ হয়েও শেষ হচ্ছে না। বউ,শ্যালিকা আর মেয়েরা মনের খুশিতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঢুকছে আর আমার মানিব্যাগ ক্রমে হালকা হচ্ছে। মাকেটিং-এ মেয়েরা বোধ হয় কখনো ক্লান্ত হয় না। হোটেলে ফিরলাম। রাঙামাটিতে আজকেই শেষ রাত। ডিনার করলাম ডিসি-বাংলোর সেই পাইরেট রেস্টুরেন্টে । মেনু গতকালকেই ঠিক করা ছিল। খাওয়াদাওয়া আর আড্ডা চলল রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত। আহারান্তে আবার হোটেলে ফিরলাম। এগারোটার মধ্যে বিছানায়। কালকে ফিরতে হবে ঢাকায়। সব পাখি ঘরে ফিরে-আমাদেরকেও ফিরতে হবে নিজ আলয়ে-পিছনে পড়ে থাকবে শুধু স্মৃতির খঁড়-কুঁটো।


আবার আসিব ফিরে


photography by Shubho Salateen


আবার আসিব ফিরে

 আবার আসিব ফিরে ধানসিড়ির তীরে — এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় — হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঠাঁলছায়ায়;
হয়তো বা হাঁস হব — কিশোরীর — ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারা দিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধ ভরা জলে ভেসে-ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়;

হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;
হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেচাঁ ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;
হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;
রূপসা ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক শাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙা রায় — রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিবে ধবল বক: আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে —

বনলতা সেন





 বনলতা সেন

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের 'পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, 'এতোদিন কোথায় ছিলেন?'
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে—সব নদী—ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।

Banalata Sen

A thousand years I have walked these paths,
From the harbour at Malacca in the dark of night
To the straits of Ceylon at glimmer of dawn.
Much have I travelled -
The grey world of Ashoka-Bimbisara,
Further yet,
The dark city of Vidharbha;
Around me life foams its stormy breath.
Weary of soul,
I found a moment's respite in her presence -
She: Banalata Sen of Natore.
Her hair the ancient darkness of Vidisha,
Face a sculpture from Sravasthi.
A sailor in distant oceans, rudderless, lost,
When hoves into view
Island of grass through fronds of cinnamon,
A green relief
So she felt to me.
In the darkness she spoke -
"All these years, where had you been?"
Her eyebrows arched like the soaring wings of a bird -
She: Banalata Sen of Natore.
With the sound of dewdrops,
Comes evening.
The sunset fringe of gold on the eagle's wing
Melts into the night
And the glow of fireflies.
Birds return to nest -
The shop of life
Shuttered for the day.
Left behind in the darkness
Face to face -
Only she: Banalata Sen of Natore.

Jibananda Das. Translated from the original Bengali by Amitabha Mukerjee