Beauty Lassi-A famous drink of Old Dhaka

Do you want a heavenly taste and get rid of all sorts of weariness? You must drink at least a glass of Lassi at Beauty Lassi and Kacchi Ghor. This famous lassi shop is situated at  30/A Johnson Road,Old Dhaka.In Old Dhaka there are many famous drinks (Mughal and Sultani Period) are still available including this Lassi and tasty Sharbat.

This north India originated famous drink now became an integrated part of our culture.

Make Money with your leadsleap account-Work smater not harder

People are searching the net to find the true way to make some extra income.But it is really hard to find the real sites or the methods to earn some handsome amount of money.There so many scam sites on the net,that we feel sometimes frustrate. We work harder and harder day by day but we gain some pennies.

Here I sharing one of my secret ways to make money online.The technique is not so harder.Just follow the steps below

1. Go to  LeadsLeap Profit System
2. Join the LeadsLeap and get a free account
3. Click on the 'Get My Free System '  to view how the system work.
4.You are done.Enjoy earning

So guys, make money fast today. Hope for the best !

Bangladesh won 19 Gold Medals in S.A GAMES 2019

 সাবাস বাংলাদেশ: এস.এ গেমসে বাংলাদেশের ১৯ সোনা

অভিন্দন! অভিন্দন!
কে বলেছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা দুর্বল? বাংলাদেশ যে বাঘের দেশ,তা আরেকবার প্রমাণ করলো বাংলাদেশের সোনার ছেলে-মেয়েরা। আমরাও পারি অন্যদেশের খেলোয়াড়দের সাথে প্রতিযোগীতা করে সর্ব্বোচ পদক ছিনিয়ে আনতে পারি, সেটাই প্রমাণিত হলো। আমরা যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ,বিশেষ করে পেঁয়াজ কিনতে হিমসিম খাচ্ছি,দিশেহারা বোধ করছি,ঠিক সেই সময় এই সংবাদ আমাদেরকে আবারো আশার আলো দেখালো। 

SAG2019: Dipu Chakma wins first gold for Bangladesh in taekwondo-photo courtesy:Dhaka Tribune

এস.এ গেমসে দেশের মাটিতে আমরা জিতে ছিলাম ১৮ টি সোনা।
দেশের বাইরে ভারতের মাদ্রাজে ১৯৯৫ সালে ৭ টি সোনা আর  ২০১৯ এসে পেলাম ১৯টি সোনা ।

এস.এ গেমসের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের জন্য প্রথম সোনাটি এনে দেন দিপু-তায়কোয়ান্দো থেকে। সবশেষে ছেলেদের ক্রিকেট থেকে পেলাম ১৯ নম্বর সোনা।

My Product Review: Casio Enticer Chronograph Black dial-5374

Once again, I am reviewing one of my favorite Casio watches. Now it is Casio 5374. When i saw the watch on a local e-shop,I was just amazed.I hesitated to order the watch because it was costly.It's price was 6000 BDT. My Temptation won. I ordered the watch and waited for it to be delivered.After couple of days, I received the watch with a nice box.

The watch is very much fashionable.The thing which I like most is the accuracy of time keeping.This watch has a pretty nice black leather band.Water resistant to 50m.

Conclusion: It is a nice watch to wear.I use it everyday from my indoor to outdoor activities.Be careful about the mineral glass cover. I got scratch on the glass in a few months.Adjustment keys are little bit difficult.There are three adjustment keys-above one for adjusting Name of days, the middle is for adjusting dials of minute and hour and lower key is for adjusting the date.For the product specification you can check here. Check my previous review on Casio AW-80 

Chandranath Temple (চন্দ্রনাথ মন্দির) : A Budget Travel in one day

Chandranath Temple is situated in Sitakunda,Chittagong,Bangladesh.Here I am giving you a travel description of  a traveler Rezwan Tahmi.

He visited Chandranath Temple,which cost him only 500 BDT in just one day.

Start from Dhaka to Sitakunda by Mail Train ( local train ) at 10:30 pm from Kamalpur Rail Station. Fair:120 taka. The train will reach at sitakunda station within 7.00 am next day.

Get out from the train at  Sitakunda station. Take a rest,refresh and go for the breakfast in a local restaurant. Budget for breakfast 20-30 taka per person.

Photo courtesy : Rezwan Tahmi
Go to Chandranath Bazar and hire a CNG auto up to Chandranath Hill .  Fair: 20 taka/person

Buy some light snacks such as Water,Bread,Banana,potato chips before start journey to Chandranath Hill. There is no hotel or restaurant in the hilly region.

Buy a bamboo stick as it is very useful for tracking.Price:20 taka.It will take 2 hours to climb the Chandranath temple.While tracking take rest and enjoy the surrounding beauties of the hill.

After climbing the Chandranath Temple, enjoy the silence of the hills and fresh air.If you are lucky enough you can see  clouds flying near you.Keep the environment clean as it is a holly place for the hindu pilgrims.

Photo courtesy : Rezwan Tahmi

 Climb down from  the hill and reach Sitakunda Bazar with 6:00 pm.Get in a train to Chittagong at 6:30 pm.You will reach in Chittagong Station in 7:30 pm.

Take diner and board to Mail Train to Dhaka at 10:30 pm.You will reach Dhaka at 7:00 am.

Disclaimer : The cost may very person to person.

My Product Review: Casio AW-80

I have  a serious weakness about watches. In leisure time I browse a lot of sites on watches.While browsing on the net, I saw a Casio watch.It was stylish Digital-Analog watch.I immediately ordered the watch on a local Bangladeshi e-store.I costs me around 38 $ or 3000 BDT with 50 BDT Shipping charge. I received and unpacked it. The watch is good looking.It has only two dials ( both have radium).Hours and Minutes. The watch has two portions-analog and digital. 10 years battery life and 50m water resistant.The watch is light weighted and stylish fabric wrist band.

Conclusion: Stylish and comfortable.Light weight.Affordable.I use it everywhere-from bathroom to outdoor.

Manual of  Casio AW-80

SafeList Mailer Advertising-Best Converting Traffic Sites

There are thousands of  safelists and mailers are online.If you want to promote your online business,want signups and making sales then, email marketing is now essential way to do so. Here I listed top safelists and mailers for my online business on basis of  total number of email recipients,click volumes,CTR,age of safelist and  highly ranked by independent testing sites.

Leads, Leads, Leads!

Email Marketing Evolved!

bangla jokes

ভিক্ষুক : স্যার, ১০ টাকা দেন, চা খাব ।
লোক: কেন?? চা তো ৫ টাকা কাপ...
ভিক্ষুক: স্যার..সাথে গার্লফ্রেন্ড আছে তো, তাই..
লোক: ভিক্ষুক হয়ে গার্লফ্রেন্ডও বানিয়েছ দেখছি।
ভিক্ষুক : জী না স্যার...গার্লফ্রেন্ডই বরং আমাকে ভিক্ষুক বানিয়েছে ।

দাদু: ওই ছেলে, নারিকেল গাছে উঠেছিস কেন?
ছেলে: এখান থেকে ENGINEERING   কলেজের মেয়েদের দেখা যাচ্ছে।
দাদু: হাতটা ছেড়ে দে, MEDICAL  কলেজের মেয়েদের দেখতে পাবি।

নির্জন অন্ধকার পার্ক। এক ভীরু প্রেমিক তার সাহসী প্রেমিকাকে নিয়ে এক বেঞ্চে বসে আছে। এমন সময় চারদিক ভালো করে দেখে প্রেমিকাকে আমতা আমতা করে বলল—
প্রেমিক: ইয়ে মানে, এই অন্ধকারে যদি তোমার হাতটা ধরে চুমু খাই, তুমি কি রাগ করবে?
প্রেমিকা: না, তোমাকে ছিঁচকে চোর বলব।
প্রেমিক: কেন?
প্রেমিকা: কারণ, পুরো একটা গাড়ি চুরি করার সুযোগ পেয়েও তুমি শুধু একটা টায়ার চুরি করতে চাও।

স্বামী - স্ত্রী শুয়ে আছেন। ফোন বাজছে।বেজেই চলছে।
স্ত্রী ফোন ধরতে গেলেন।স্বামী টের পেয়ে বললেন,
আমাকে চাইলে বলবে আমি বাসায় নেই।
স্ত্রী ফোন ধরে বললেন,ও এখন বাসায়।

স্বামী ক্রুদ্ধ ভঙ্গিতে বিছানায় উঠে বসে --
তোমাকে কি বলতে বললাম আর তুমি কি বললে?!!

স্ত্রী: ওটা আমার কল ছিলো।

একটি ছোট ছেলে একটি চাকু নিয়ে তার হাতে গার্লফ্রেন্ডের নাম লিখল। কয়েক মিনিট পর সে জোরে কাঁদতে লাগল।
- কেন? ব্যথা করছে?
- না!
- তাহলে?
- বানান ভুল হইছে!

দুই ভিক্ষুকের মধ্যে আলাপ হচ্ছে-
১ম ভিক্ষুক : আমার যদি ৫ কোটি টাকা থাকতো!
২য় ভিক্ষুক : তাইলে কী করতি?
১ম ভিক্ষুক : তাইলে একটা শপিংমল বানাইতাম।
২য় ভিক্ষুক : শপিংমল দিয়া তুই কী করবি?
১ম ভিক্ষুক : শপিংমলের সামনে ভিক্ষা করতাম!

নবদম্পতির মাঝে ঝগড়া হয়েছে-
স্ত্রী: আমি বাপের বাড়ি চলে যাচ্ছি।
স্বামী: এই নাও ভাড়া।
স্ত্রী: কত দিচ্ছ? এতে তো ফেরার ভাড়া হবে না।
স্বামী: ফিরতে কে বলেছে?

বহু বছর পর দুই বান্ধবীর মধ্যে কথোপকথন-
১ম বান্ধবী: জানিস, আমাদের লিলি না খুবই ঘরোয়া মেয়ে।
২য় বান্ধবী: কী রকম?
১ম বান্ধবী: ও আমাদের পাড়ার সব ছেলের ঘরেই যায়! একটাও বাদ নাই!

বিয়ে-শাদির কথাবার্তা চলছে-

মেয়েপক্ষ: শুনলাম ছেলে নাকি মদ খায় খুব?

ছেলেপক্ষ: তা একটু আধটুৃ....আমার ছেলে স্বভাবে-আচরণে কিন্তু খুবই ভালো। মিথ্যে বলবো না আপনাদের, মানে ও আজকাল একটু বেশীই....এই তো তিন-চার পেগ...তাও রাতের বেলায়।

মেয়েপক্ষ: দেশী না বিদেশী মদ?

ছেলেপক্ষ: এই তো জনি ওয়াকার...সব বিদেশী।

মেয়েপক্ষ: এই বিয়ে পাক্কা। ছেলে পছন্দ হয়েছে আমাদের। বোঝা যাচ্ছে, ছেলের কামাই-রোজগার বেশ ভালো। 

সকাল আটটা। মিসেস কামাল কাজে কর্মে ব্যস্ত। বাসার কলিং বেল বেজে উঠলো। দরজা খুলে মিসেস কামাল অবাক। এক কাজের বুয়া দাড়িয়ে আছে।

মিসেস কামাল: কে তুমি? কি চাও ??

বুয়া: আপা...আমারে চিনতে পারলেন না?..আমি আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড। গতকাল আপনে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিছিলেন না...আপনার বুয়া চইলা গেছে...হেই লাইগ্যা আমি আগের বাড়ির কাজ বাদ দিয়া আপনার বাড়ি চইল্যা আইলাম।

মিসেস কামাল: তো..আমার বাসার ঠিকানা কই পাইলা??

বুয়া: ও...হেই কথা ! আপনার ছেলে দিছে...হে আবার আমার মাইয়্যার ফেসবুক ফ্রেন্ড। 

পুরানো ঢাকার ঠাটারীবাজার।

সকাল সাতটা । এক কবুতরের দোকানে এক ক্রেতা এসে বিভিন্ন কবুতর দেখছে।
দোকানী পানের পিক ফেলে আর আড়ে আড়ে ক্রেতার দিকে চায়।

কবুতরের দোকানী: এই  জোড়া কবুতর লন...খুবই প্রভুভক্ত। 

ক্রেতা খুশিমনে একজোড়া কবুতর কিনে চলে গেল।
পাশের দোকান পাশেই দাড়িয়ে ছিল। 

পাশের দোকানী: তোমার তো হেই কিসমত..সক্কালেই কাষ্টমার পাইল্যা...তয় ক্যামনে বুজলা কবুতর দুইড়া প্রভুভক্ত?

কবুতরের দোকানী: বুজলা না? বিকেলেই দেখবা কবুতর দুইটা ফিরা আাইছে...হে..হে। 

নববর্ষের রাতে মাতাল হয়ে বাড়ি ফিরেছে জ্যাক। বাড়ি ফিরেই বউয়ের ভয়ে একটা বই খুলে পড়তে শুরু করল সে। কিছুক্ষণ পর তার স্ত্রী এল ঘরে।
স্ত্রী : আবারও মাতাল হয়ে এসেছ, তাই না?
জ্যাক : কই? না তো!
স্ত্রী : তাহলে আমার মেকাপ বক্স খুলে কী এত বকবক করছ? 

এক রাতে দুই মাতাল রাস্তা দিয়ে হাঁটছলি। কিছুক্ষণ যাওয়ার পর এক আলিশান বাড়ি দেখে ১ম মাতাল বলল-
১ম মাতাল : ওই যে বিল্ডিংটা দেখছিস, ওটা আমার।
২য় মাতাল : চল এক কাজ করি ওটাকে দু’জনে ঠেলে আমাদের এলাকায় নিয়ে যাই।

তারপর দু’জন গায়ের জামা খুলে বিল্ডিংটাকে ঠেলতে লাগলো। তখন পিছন থেকে এক চোর এসে শার্ট দুটি নিয়ে কেটে পড়লো।
২য় মাতাল : আমরা বিল্ডিংটাকে ঠেলে অনেকদুর নিয়ে আইছি।
১ম মাতাল : কী করে বুঝলি?
২য় মাতাল : দেখ না, আমাদের খুলে রাখা শার্ট কি আর দেখা যাচ্ছে? 

স্ত্রী : কী করছ তুমি?
স্বামী : দেখ না মাছি মারছি।
স্ত্রী : কয়টি মারলে?
স্বামী : সর্বমোট পাঁচটি। এর মধ্যে তিনটি পুরুষ মাছি আর দুটি মেয়ে মাছি।
স্ত্রী : কী করে বুঝলে?
স্বামী : তিনটি মাছি বসা ছিল মদের বোতলের ওপর। আর দুটি বসা ছিল টিভির ওপর! 

হোটেলে এক কাষ্টমার বয়কে বলছে: এটা চা না কফি? এতদম পেট্রোলের মতো লাগছে।
বয়: তাহলে ওটা কফিই হবে। কারন চা’টা তো কেরোসিনের মতো লাগে। 

বিয়ে বাড়িতে এক ভদ্রলোক তার ছোট ছেলেকে নিয়ে এসেছেন।
ছেলে: আচ্ছা বাবা, বর-কনে হাত ধরাধরি করে আছে কেন?
বাবা: রেসলিং-এর আগে হ্যান্ডশ্যাক করতে হয় জানিস না? 

আদালতে দুইপক্ষের উকিলে ঝগড়া বেঁধেছে।
প্রথম উকিল: আপনি মিত্যাবাদী,জোচ্চোর।
দ্বিতীয় উকিল: মুখ সামলে কথা বল। তুমি তো ধাপ্পাবাজ,নচ্ছার ।
বিচারক: আ, এত গোলমাল কিসের। আপনারা দুজনকেই দেখছি বেশ ভালোভাবেই চিনেন, এখন মামলার কথা বলুন।  

একটি ছেলে রাস্তায় কুকুরের লেজ ধরে টানছিল আর কুকুরটি পালানোর চেষ্টা করছিল।
ছেলেটির মা: খোকন, কুকুরের লেজ ধরে আবার টানছ?
ছেলে: বারে, আমি তো কেবল লেজ ধরে আছি, কুকুরটাই টানাটানি করছে।  

প্রাকটিসের সময় এক অ্যাথলেট তার কোচকে : (খুব উত্তেজিতভাবে) আমার স্টপওয়াচে এইমাত্র দেখলাম, আমি বিশ্ব রের্কডেরও কম সময়ে ৪০০ মিটার দৌড় শেষ করেছি। এটা এখন কাকে জানানো দরকার?
কোচ: ঘড়ির ম্যাকানিককে।  

to be continue... 

পেঁয়াজ কান্ড

রামায়ণে বানরকুলের রাজা হনুমান লেজে আগুন ধরাইয়া যেমন রাবণ রাজ্য জ্বালাইয়া দিয়াছিল, তেমনি পেঁয়াজের আগুনে জ্বলিতেছে সমগ্র বাংলাদেশ। কোথায় নেই পেঁয়াজের আলোচনা, পাড়ার গলির মুদির দোকান হইতে শুরু করিয়া বনেদি লোকের শয়নকক্ষ,দূতাবাস,সচিবালয় পর্যন্ত পেঁয়াজের আলোচনা চলিতেছে। বয়স্ক মুরব্বীরা আলোচনা করিতেছে যে তাঁরা বাপের জন্মেও ২৬০ টাকা কেজি পেঁয়াজ কিনিয়া খায় নাই। কয়দিন আগে যখন একটি পেঁয়াজের খরিদ মূল্য একটি ডিমের সমান হইলো তখন একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হইল,‘ আপনি কি পেঁয়াজ দিয়া ডিম খাইবেন নাকি ডিম দিয়া পেঁয়াজ ?’। পেঁয়াজ নিয়ে সমগ্র জাতি আজ চিন্তিত। যে পেয়াঁজ রসূই ঘরের এক কোনায় অবহেলায় পড়িয়া থাকিত, সেই পেয়াঁজই এখন সর্বেসর্ব্বা-তার ঝাঁঝে সবার ত্রাহি ত্রাহি  অবস্থা। আগে যিনি এক সাথে দুই-তিন কেজি পেঁয়াজ কিনিতেন, তিনিই এখন অনেক সময় লইয়া বাছিয়া বাছিয়া নাদুস-নুদুস দেখিয়া হাফ কিলো পেঁয়াজ কিনিতেছেন। বাসায় আসিয়া বউকে বেশ বড় রকম ঝাড়ি মারিয়া বলিতেছেন,‘এই পেঁয়াজ দিয়াই সারা মাস কভার করিতে হইবে’ বউটি তখন জটিল ক্যালকুলেশন করিতে বসিল-কি ভাবে একটি পেয়াজে এক সপ্তাহ পার করিবে? অংক পরীক্ষার আগেও এতো পরিশ্রম করিতে হয় নাই বউটির ।

একেকজন আড়ৎদার প্রচুর পরিমানে পেঁয়াজ মওজুদ করিয়া, সিন্ডিকেট করিয়া আংগুল ফুলিয়া কলা গাছ হইয়া গিয়াছে। আপনি সারা জীবন পরিশ্রম করিয়া যা কামাইবেন, একজন অসাধু ব্যবসায়ী মাত্র কয়েক মাসে তার বহুগুন কামাইয়া আমাদের দিকে তাকাইয়া মুচকি মুচকি হাসিতেছেন। এই হাসির যৎসামান্য পাড়ার মুদির দোকানীর মুখে পর্যন্ত আসিয়া গিয়াছে। ভাবটা এমন যেন-দেখলেন, কি সুন্দর একটা ল্যাং মারিলাম।

কয়েকদিন আগে পাশের বাড়ীর এক ভাবীকে দেখিলাম, পেঁয়াজ কলি (পাতা) কিনিয়া বেশ আনন্দের সাথে বাড়ি ফিরিতেছেন,পেয়াঁজ কলির সাথে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পেঁয়াজ পাওয়ার সেকি আনন্দ!
ফেইসবুকের ব্যবহারকারীরা রাতের ঘুম হারাম করিয়া পেঁয়াজ বিষয়ক স্টেটাস দিয়া যাইতেছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের দমন করিবার জন্য পেয়াঁজ বর্জন করার হুমকি দিতেছেন। কমেন্টে লিখিতেছেন-গত তিন সপ্তাহ ধরিয়া পেঁয়াজ কিনিতেছেন না । পেঁয়াজ ছাড়াও খাবার যথেষ্ট উপাদেয়। অনলাইনে পেয়াজের ছবি এখন ভাইরাল। বেশ কয়েকজনকে দেখিলাম পেঁয়াজের সাথে সেলফি তুলে পোষ্ট দিয়াছেন।

টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকরা দেশের বিভিন্ন পাইকারী ও খুচরা বাজার থেকে ঘন্টায় ঘন্টায় লাইভ প্রচার করিতেছেন। চলিতেছে চুল-চেরা বিশ্লেষণ। সাংবাদিকদের তির্যক প্রশ্নে লাজুক(?) হাসি ব্যবসায়ীদের। টক-শোতে পেঁয়াজ নিয়ে আলোচনার ঝড় বহিতেছে। আলোচকরা মুখের ফেনা তুলে ফেলছেন-আড়ৎদার,পাইকারী এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের তুলোধূনো করিতেছেন। এই সমস্যা মোকাবিলা করিবার নানা ফন্দি ফিকির বাহির করিয়া আরামে চোখ বুঁজিয়া কফি পাত্রে চুমুক দিতেছেন। আগে যাহারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডের বিশ্লেষণ করিতেন-তাহারা এখন একেকজন পেঁয়াজ-বিশেষজ্ঞ।  বিমানে করিয়া পেঁয়াজ আসিয়াছে।  পেয়াঁজ আসিয়াছে সূদুর মিশর থেকে ও।  লাল-হলুদ বিশাল বিশাল পেঁয়াজ দেখিয়া আমরা প্রভূত আনন্দ পাইতেছি। কিন্তুু দাম চড়া দেখিয়া আমরা হাত-পা গুটাইয়া বসিয়া আছি। সূলভে পেঁয়াজ খাওয়ার আশা প্রায় ছাড়িয়া দিয়াছি। পেঁয়াজ খাইয়া কি লাভ? পেঁয়াজই সব নষ্টের গোড়া-এক্ষণে একটা কৌতুকের কথা মনে পড়িয়া গেল-মুরব্বীসহ পাত্র আসিয়াছে কনের বাড়িতে।  সাথে ঘটক।  ঘটককে কনের পিতা  জিজ্ঞেস করিল,

‘পাত্র কেমন?’
‘পাত্র ভাল-খালি একটু পেঁয়াজ খায়’  ঘটক বলিল।
‘ পেয়াজ খায়? তা কখন খায় ’?  কনের পিতার প্রশ্ন।
‘ এই যখন একটু মাংস খায়’ -ঘটক পান চিবাইতে চিবাইতে বলিল।
‘ বেশ-বেশ, তা মাংস কখন খায় ? ’-কনের পিতার প্রশ্ন।
‘ এই ধরেন, যখন একটু মদ-টদ খায়’ ঘটক আমতা আমতা করে বলিল।
বাহির হইয়া গেল তো থলের বিড়াল। বাহির হোক থলের বিড়াল। পেঁয়াজ ছাড়া আমাদের চলিবে না।  পেঁয়াজ ছাড়া আমরা মাংস-মাছ পাতে তুলিবো না।  কয়েকদিন চেষ্টা করিয়াছি, কিন্তু তরকারী মুখে তুলিতে অক্ষম হইয়াছি। তাই কবিগুরুর সূরে বলিতে হইতেছে-তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার মাছের দোঁ-পেঁয়াজি চাই।

শুভ সালাতিন

How to recharge Titas Gas Prepaid Meter

Hi dear fellow, Titas Gas Authority have installed Prepaid Gas Meter.  Many clients have found it somewhat difficult to recharge gas meter with the printed users manual-the instructions on the leaflet.

Today I want to share some quick tips on recharging Titas Gas Meter that is installed in your house. When your account balance goes down ( the bar on the right screen indicates the balance) to one bar-it starts to blink ( you may have only 2 or 3 unit for using) it needs to recharge.

Please follow the following procedures.

a. Go to the recharge point with the card. Refill 1000 taka in case of  first time.The vendor will take 10 taka as a service charge.

b. Take and reserve the payment token (it will be needed in future)

c. First, Press A Button  3 times for interval of  one second time and see for flashing IN on the Gas Charge screen.

d. Place the card on near/close to the the indicated sign ▭ while the IN sign flashing.

e. Card sign will be displayed.Just keep the card contact with the meter.

f. When the End sign displays, just take off the card and your meter is successfully recharged.

Note:  Do not try to recharge your meter while it displays full charge ( 4 bars), It may display error (E30- I experienced it ) and fail to recharge.

আমার পড়া বই ১: ইন দ্য হ্যান্ড অব তালেবান ( In the hand of Taliban by Yvonne Ridley)

বইটির( In the hand of Taliban by Yvonne Ridley)  লেখিকা বিখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক ইভন রিডলি। ২০০১ সালে টুইন-টাওয়ারে বিমান হামলার পরে তিনি পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছিলেন পার্সপোট ও ভিসা ছাড়া  এবং যথারীতি তালেবানদের হাতে বন্দি হন। এই বইটিতে তিনি বর্ণনা করেছেন তালেবানদের বন্দিশালায় কাটানো ভয়াবহ ১০ দিনের অভিজ্ঞতার কথা।

তালেবানরা তাঁর সাথে অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করেন এবং আন্তজাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার কারনে তালেবানরা তাঁকে সস্মানে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

বইটি পড়ে এই মহিলার সাহস ও মনোবল দেখে আর্শ্চয হয়েছি। ইভন রিডলি স্বভাবে বেপরোয়া। সংবাদের পিছনে যে সংবাদ থাকে তা বের করার জন্য তিনি যেকোন ঝুকি নিতে পারেন। তালেবানরা মুক্তি দেওয়ার পর তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে সমগ্র-   বিশ্ব-হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। বর্তমান মুসলিম বিশ্ব-এ  ইভন রিডলি এখন একটি আলোচিত নাম।

২৪০ পাতার বইটির স্বছন্দ অনূবাদ করেছেন আরার হামীম। বইটি প্রকাশ করেছে নবপ্রকাশ ২০১৭ সালে।

সুন্দরবন ভ্রমন : ব্যক্তিগত সুখস্মৃতি ও একজন গাইডের পাঁচালী।

 Article and Photos by Kabir Uddin Ahmed

নতুন বছরের প্রথম দিনটিকে টার্গেট করে চারমাস আগ থেকেই খোঁজখবর করছিলাম কিভাব সুন্দরবন যাব, কাদের সাথে যাব এসব। ToB Helpline এর সুবাদে মংলার স্থানীয় এক ভদ্রলোকের সাথে কথা হলো, এনশিওর করলেন আমাদের ট্যুরের সব আয়োজন করে দিবেন বলে। কিন্তু নির্ধারিত তারিখের দিনকয়েক আগে জানালেন কেবল আমাদের বার জনের জন্য ব্যবহার উপযোগী তার লঞ্চটি আদারওয়াইজ ভাড়া হয়ে গেছে। অনুরোধ করলেন আমাদের ডেট পেছাতে। সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দিলাম তাকে। কিন্তু সংগত কারনেই মন খারাপ হলো।

হাড়বারিয়া পয়েন্ট
 ToB Helpline এর সাহায্য নিয়ে আবার খোঁজাখুঁজি। ঢাকাস্থ এক ট্যুর অপারেটর এর সাথে কথা হলো। এনশিওর করলেন তিনিও। শর্ত এবং চাহিদা মোতাবেক ৫০% অর্থ অগ্রিম পে করে দেই। কিন্তু জার্নি শুরুর তিন/চারদিন আগে অনুরোধ করলেন অবশিষ্ট অর্থও পে করে দিতে, ভালো লাগেনি যেটা। লজিক্যালও মনে হয়নি। এরপর বারজনের জাহাজ নষ্ট হয়ে গেছে জানিয়ে অনুরোধ করলেন বড় একটি গ্রুপের সাথে বড় লঞ্চে যেতে। না করায় অগত্যা রাজি হলেন বিকল্প ব্যবস্থা করতে। মন খারাপ হলো আবারো। 

নির্ধারিত দিনে চট্টগ্রাম থেকে আমরা যাত্রা শুরু করি। হানিফ পরিবহন, সৌদিয়া এবং ঈগল পরিবহন চট্টগ্রাম- খুলনা রুটে নিয়মিত যাতায়াত করে। সচারচর এ গাড়িগুলো মংলা পর্যন্ত যায় না বলে মংলা থেকে বত্রিশ কিমি দূরে কাটাখালী নামক পয়েন্টে নেমে যাওয়াটাই সুবিধাজনক। তাই করি আমরা। সেখান থেকে ১,৫০০.০০ টাকায় মাইক্রোবাস ভাড়া করে মংলা পৌছাই ঘড়ির কাটা ধরে প্লান মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের পনর মিনিট পর। আলহামদুলিল্লাহ্‌।

জনাব মোঃ কায়সুজ্জামান পিকলু, (Piqlu Zaman) ২৮/৩০ বছরের টগবগে এক যুবক, ট্যুর অপারেটর যাকে আমাদের গাইড হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আগের দিন রাতে, অপেক্ষা করে ছিলেন বাস স্টান্ডেই। প্রাথমিকভাবে পরিচিত হলাম, কথা হলো টুকটাক। প্রথম পরিচয়েই মনে হলো অসম্ভব আন্তরিক এবং ডেডিকেটেড। তার কাছেই জানলাম, আমাদের ট্যুর অপারেটর মাথাপিছু টাকার একটা অংশ রেখে আমাদেরকে এই গাইড তথা অপারেটর এর কাছে হ্যান্ডওভার করে দিয়েছেন। সবকিছু গুছিয়ে আনার দায়দায়িত্বটা তারই। অর্থাৎ একপ্রকার বিক্রি হয়ে গেছি। অবশ্য এতে ভালোই হয়েছে।

লঞ্চে উঠে পিকলু আমাদের তিন দিন আর দুই রাতের ওভারঅল ট্যুর প্লান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা দিলেন। আমরা চলতে শুরু করলাম পশুর নদির বুক চিড়ে। ফ্রেশ হয়ে বসলাম নাস্তার টেবিলে।
ট্যুর অপারেটর যেমনটা বলেছিলেন, ঠিক সেভাবেই ম্যানু ধরে লঞ্চে খাবার সার্ভ করা হয়েছে সময় ধরে। সাদা ভাত, ভর্তা, ডিম, খিচুড়ি, পোলাও, রুপচাদা, রুই এর সাথে খুলনার বিখ্যাত ফাইস্যা মাছ, গরু, দেশী মুরগি, কবুতর, বারবিকিউ, ফ্রুটস, ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রতিবেলায়ই খাবার ছিলো পরিমানে অত্যধিক আর স্বাদে অতুলনীয়। দশ/ বার বছরের অভিজ্ঞ পাঁচক আংকেল হাসিমুখে সবটুকু আন্তরিকতা দিয়েই তার কাজটি করে গেছেন নিষ্ঠার সাথে। 

প্লান অনুযায়ী হাড়বাড়িয়া, কটকা, টাইগার পয়েন্ট, জামতলী সী বীচ, দুবলার চর এবং করমজল হয়ে আমরা মংলা ফেরত আসি। লঞ্চের আকার ও সমুদ্রস্রোত বিবেচনায় নিয়ে হিরনপয়েন্ট যাওয়া বাদ দিতে হয়েছে। শুরু থেকে শেষ, লঞ্চে ষাট ঘন্টার জার্নিতে সবটা সময়েই আমরা আমাদের গাইডকে পেয়েছি বন্ধুর মতো, ভীষন কেয়ারিং হিসেবে। কখন কি করতে হবে, কোন ধরনের ড্রেসআপ কমফোর্টেবল হবে, কিভাবে পথ চলতে হবে, বন্য পশু প্রানীর দেখা পেলে কী করতে হবে সব কিছু আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন ছাত্র পড়ানোর মতো করে। কথা প্রসংগে বলছিলেন, কেবল পেশা নয় বরং সুন্দরবন তার জন্য একটি আবেগের জায়গাও। আমাদের এক গ্রুপমেইড সবার অগোচরে তাকে হরিনের মাংস ম্যানেজ করা যায় কিনা বললে স্পষ্টতই না করেছেন। বলেছেন, আমাদের কারো কারো শখের কারনে বাঘের মতো হরিনটাও বিলুপ্ত হতে শুরু করলে এ বনের অবশিষ্ট থাকবে কী! ইস! সবার যদি এই বোধটুকু হতো! একজন পিকলুর জন্য আমাদের ট্যুরকালীন সময়টা নি:সন্দেহে সুখকর হয়েছে অনেক। প্রথম দিকের মন খারাপ করাটা উবে গিয়ে কেবল আনন্দঘন সময়ই কাটিয়েছি আমরা।

পৃথিবীখ্যাত সুন্দরবন, আমাদের দেশটির জন্য সৃষ্টিকর্তার রহমতস্বরুপ এ বনের সৌন্দর্য আর বিশালতা, বনকেন্দ্রিক নৈসর্গিক শোভা আর আমাদের মুগ্ধতা বিষ্ময় জাগানিয়া সুখস্মৃতি কেবল এখন। খুব কাছ থেকে দেখে প্রকৃতঅর্থেই প্রেমে পড়ে গেছি এই বনের,আমাদের গর্বের ধনের।
অপেক্ষাকৃতভাবে, বনে ঘুরার স্পটগুলোকে অনেক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন মনে হয়েছে আমার। তবুও অধিকতর সতর্কতা প্রয়োজন। এখানে সেখানে এটা সেটা না ফেলে, বনের গাছপালার ডাল না ভেংগে, উচ্চস্বরে শব্দ করে পশুপাখিদের স্বাভাবিক লাইফে ডিস্টার্ব না করে আমরা প্রমান দিতে পারি একজন সত্যিকারের পর্যটনপ্রেমী হিসেবে, প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে। এটা মহানুভবতা নয়, বরং দায় আমাদের, আমাদের দায়িত্ব।

সময় সুযোগ করে আবার কখনো যাব, ইনশাল্লাহ। সে পর্যন্ত কেবল পিকলু নয়, বরং আমার গ্রুপ মেম্বার, কলিগ ও ফ্রেন্ড Iftekharul Islam, Alamgir Hossain, Sakerin Chowdhury Shakil, Saifur Rahman Raju, Mohammad Taslim, Kazi Anowarul Hoque, Mejbah Uddin Khaled, Md Abdul Hakim, Dewan Md Billal Hossain, Sohrab Hossain Robin এবং Hasnat Mir সবাইকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা এহেন ভালোলাগার বিনির্মানে একসাথে, এক হয়ে ছিলাম বলে।

স্বর্গের সিড়ি / মায়ুং কপাল

Article and Photos by  Razib Hossain
November 1,2019

মায়ুং পাহাড়ের উপরে অবস্থিত মায়ুং পাড়াতে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয় এই সিড়ি। স্থানীয়রা একে হাতিমূরা বলে থাকেন। 

সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে এখান থেকে পুরো খাগড়াছড়ি দেখা যায়। মায়ুং পাহাড়ে দাঁড়িয়ে চারপাশ কতটা অসম্ভব সুন্দর সেটা ওখানে না গেলে বোঝানো সম্ভব না।

যেভাবে যাবেন:

 খাগড়াছড়ি শহড় থেকে অটোতে করে চলে যাবেন জামতলি নামক স্থানে, ভাড়া নেবে ১০ টাকা। (স্টেডিয়াম পার করে কিছুদূর সামনে)

এরপর সেখান থেকে ৫ মিনিট হাটার পর একটি খাল পার হতে হবে। খাল পার হতে লাগবে ৫ টাকা। তারপর মোটামুটি ১ঃ২০-১ঃ৩০ ঘন্টা হাটলেই পৌছে যাবেন কাঙ্ক্ষিত স্বর্গে যাওয়ার সিড়িতে। আর পাহাড়ে হাটার অভ্যাস থাকলে ৫০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টাতেই পৌছানো সম্ভব।

পরামর্শ থাকবে জনপ্রতি অবশ্যই মিনিমাম ১.৫ লিটার পানি ও স্যালাইন নিয়ে যাবেন। খাল পেরোনোর আগে কিছু দোকান পরবে ওখান হালকা খাবার কিনে নিবেন, এরপর আর দোকান পাবেন না। আর চেষ্টা করবেন গাইড নিয়ে যাওয়ার, কারণ সিড়িতে যাওয়ার সময় অনেক জায়গাতেই দুই দিকে যাওয়ার রাস্তা পরে। অবশ্য লোকালদের জিজ্ঞাসা করেও যাওয়া যায়। আমরা স্থানীয় একজন কে ৩০০ টাকা দিয়ে নিয়েছিলাম গাইড হিসেবে।
"" আমাদের দেশটা অনেক সুন্দর, যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ ও সৌন্দর্য নষ্ট করবেন না"

সোনাদিয়া দ্বীপ

Article and Photo by Rakibul Islam Rakib

সোনাদিয়া দ্বীপ কক্সবাজার জেলার মহেশখালি উপজেলার একটি সুন্দর দ্বীপ। এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৯ বর্গ কিমি.। কক্সবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিমি উত্তর-পশ্চিমে এবং মহেশখালি দ্বীপের দক্ষিনে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত। একটি খাল দ্বারা এটি মহেশখালি দ্বীপ থেকে বিছিন্ন হয়েছে। তিন দিকে সমুদ্র সৈকত, সাগর লতায় ঢাকা বালিয়াড়ি, কেয়া- নিশিন্দার ঝোপ, ছোট-বড় খাল বিশিষ্ট প্যারাবন এবং বিচিত্র প্রজাতির জলাচর পাখি দ্বীপটিকে করেছে অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। সোনাদিয়া দ্বীপের মানব বসতির ইতিহাস মাত্র ১০০-১২৫ বছরের। দ্বীপটি ২টি পাড়ায় বিভক্ত। পূর্ব ও পশ্চিম পাড়া। দ্বীপের মোট জনবসতি প্রায় ২০০০ জন। এই দ্বীপে ২টি মসজিদ, ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি সাইক্লোন সেন্টার, আনুমানিক ১২টি গভীর নলকূপ রয়েছে। পূর্ব পাড়ায় তুলনামূলকভাবে জনবসতি বেশী। মাছ ধরা এবং মাছ শুকানো, চিংড়ি ও মাছের পোনা আহরন দ্বীপের মানুষের প্রধান পেশা। কিছু মানুষ ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও কাঠের সাধারন নৌকা এবং উহা চালানোর সহকারী হিসাবে কাজ করেও জীবিকা নির্বাহ করে। চারিদিকে নোনা পানি বেষ্টিত হওয়ায় এই দ্বীপে তেমন কোন খাদ্য শষ্য উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। দৈনন্দিন প্রয়োজনাদি জিনিস পত্র সব মহেশখালি থেকে ক্রয় করে আনতে হয়।

ক্যাম্পিং করার জন্য আদর্শ একটা জায়গা এই সোনাদিয়া, বন্ধুরা মিলে তাবু নিয়ে কয়েকদিনের জন্য ছুটে যেতে পারেন নির্জন এই দ্বীপে। বিশেষ করে চাঁদনী রাতে এই সোনাদিয়ার সৈকতে একটা রাত ক্যাম্পিং আর বার বি কিউ পার্টি করে দেখতে পারেন, দেখুন দুনিয়াটা কত সুন্দর।

কিভাবে যাবেনঃ

ঢাকার কমলাপুর, সায়েদাবাদ, কল্যাণপুর ও দেশের যেকোনো স্থান থেকে বাস, ট্রেন বা অন্য কোনো বাহনে করে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। কক্সবাজার কস্তুরী ঘাট থেকে স্পিডবোট বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তারপর যেতে হবে মহেশখালী। এক্ষেত্রে প্রথমে আপনাকে কলাতলী বা লাবণী পয়েন্ট থেকে কক্সবাজারের ৬ নং ঘাট এ আসতে হবে। ওখানে মহেশখালী যাওয়ার জন্যে স্পীড বোট পাবেন, ভাড়া প্রতিজন ৭৫ টাকা, মহেশখালী ঘাটে পৌঁছতে সময় লাগবে ১২-১৫ মিনিট। স্পীড বোটে চড়তে ভয় লাগলে গাছের বোটে চড়ে আসতে পারেন, ভাড়া ৩০ টাকা, সময় লাগবে ৪৫-৫০ মিনিট।

মহেশখালী ঘাটে নেমে রিক্সা নিয়ে চলে আসবেন গোরকঘাটা বাজারে, ভাড়া ২০ টাকা। এরপর আপনাকে যেতে হবে ঘটিভাঙ্গায়, মহেশখালীর গোরকঘাটা থেকে ঘটিভাঙার দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার। ৩-৪ জন হলে একটা সিএনজি নিয়ে যেতে পারেন ঘটিভাঙ্গা, ভাড়া ১৫০-১৭০ টাকা।

সেখান থেকে আবার ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সোনাদ্বিয়া দ্বীপে যেতে হয়। ঘটিভাঙা নেমে খেয়া নৌকায় সোনাদিয়া চ্যানেল পার হলেই সোনাদিয়া। ভাটার সময় খালে খুব বেশি পানি থাকেনা। সোনাদিয়া যাওয়ার দুটো উপায় আছে। হেঁটে যাওয়া অথবা জোয়ার এলে নৌকা। প্রতিদিন জোয়ারের সময় পশ্চিম সোনাদিয়া থেকে ঘটিভাঙা পর্যন্ত মাত্র একবার একটি ট্রলার ছেড়ে আসে। এই ট্রলারটিই কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রীদের তুলে নিয়ে আবার ফিরতি যাত্রা করে। ভাড়া প্রতিজন ২৫ টাকা ।

ঘটিভাঙ্গা থেকে সোনাদিয়া পশ্চিম পাড়ার উদ্দেশ্যে দিনে শুধু মাত্র একটি বোট যায়। বোট ছাড়ার সময় জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে, সাধারণত সকাল ১০ টা বা ১১ টার দিকে ছাড়ে । ৪০-৫০ মিনিটের মধ্যেই আপনি পৌঁছে যাবেন সোনাদিয়ায়, ভাড়া প্রতিজন ২৫ টাকা । বোট থেকে নেমে কাছেই বন বিভাগের একটা বিল্ডিং আছে, ওখানে রেস্ট নিতে পারেন, কিংবা কিছুক্ষণের জন্যে বসে আড্ডা দিতে পারেন পাশের ঝাউবাগানে । এরপর স্থানীয়দের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে চলে যেতে পারেন বীচে, ১০-১৫ মিনিট হাঁটলেই দেখা পাবেন সমুদ্র সৈকতের ।

ঘটিভাঙ্গা থেকে হেঁটে হেঁটেও সোনাদিয়া যাওয়া যায়, তবে তা একটু কষ্টকর। হেঁটে গেলে আপনাকে সোনাদিয়া পুর্ব পাড়ায় যেতে হবে, ওদিকে থাকা খাওয়ার কোন ব্যবস্থা এখনও হয়নি, তাই পশ্চিম পাড়া চলে যাওয়াটাই ভালো।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার থেকেও সরাসরি স্পিডবোট রিজার্ভ করে সোনাদিয়া দ্বীপে যাওযার ব্যবস্থা রয়েছে। সে জন্য নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। যারা ভ্রমণকে অ্যাডভেঞ্চারময় করতে ভালোবাসেন তারা কিছু বাড়তি খরচ করে কক্সবাজার থেকে সরাসরি স্পিডবোটে করে সোনাদিয়া দ্বীপে যেতে পারেন।
আরেকটা সুখবর, এখন সরাসরি গাড়িতে করে মহেশখালী যাওয়া যায়। যারা বোটে চড়তে ভয় পান বলে স্থলপথে আসতে চান বা প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে যেতে চান তাদেরকে কক্সবাজার থেকে বা ঢাকা/চট্টগ্রাম থেকে আসার পথে চকরিয়া নামতে হবে। চকরিয়া থেকে জীপ/সিএনজিতে করে বদরখালি এবং তারপর জীপ/সিএনজিতে করে গোরকঘাটা বাজারে যেতে হবে।


সোনাদিয়া দ্বীপে পর্যটকদের থাকার জন্য কোনো আবাসিক হোটেল নেই। খাওয়ারও তেমন কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় লোকজনকে টাকা দিলে তারা খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে। আর সোনাদিয়া দ্বীপে রাত্রি যাপনের ক্ষেত্রেও ভরসা সেই স্থানীয় বাসিন্দাদের। তবে রাতে থাকার কষ্টের কথা চিন্তা করে যারা সূর্যোদয়ের আগেই ফিরে আসবেন তারা সোনাদিয়া দ্বীপের আসল সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হবেন। এখানকার সূর্যাস্ত আরও অসাধারণ। সন্ধ্যায় সাদা পালক দুলিয়ে সারি সারি বক উড়ে যায় আপন ঠিকানায়। নীল আকাশের কপালে কে যেনো দেয় লাল টিপ। আস্তে আস্তে যখন সূর্য হারিয়ে যায় সাগরের বুকে তখন তৈরি হয় এক মোহনীয় পরিবেশ। আর সোনাদিয়া দ্বীপে রাত্রিযাপন হতে পারে আপনার জীবনের সেরা রাতের একটি।

রাত্রী যাপন করতে চাইলে স্থানীয়দের বাসায় থাকতে হবে, এক্ষেত্রে গিয়াস উদ্দিন নামের ঐ এলাকার এক ছেলে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারবে, বিনিময়ে তাকে কিছু দিয়ে দিলেই হবে। আগে থেকে বলে রাখলে টাটকা সামুদ্রিক মাছ বা শুটকি রেঁধে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে দিবে, আগেও উনি বেশ কিছু ট্যুরিস্টকে এ ব্যাপারে হেল্প করেছেন। এছাড়া চাইলে বন বিভাগের অফিসে থাকতে পারেন, সেক্ষেত্রে ওখানকার স্টাফদের অনুমতি নিতে হবে।

সোনাদিয়া দ্বীপে দুইটি পাড়া আছে। পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া। ঘোরাঘুরি ও ক্যাম্পিং করার জন্য পশ্চিমপাড়া সম্পূর্ণ নিরাপদ।

বিঃ দ্রঃ কক্সবাজার থেকে একদিনে সোনাদিয়া ঘুরে আসা সম্ভব না, হাতে অন্তত দুইটা দিন সময় নিয়ে বের হোন, তাহলে সোনাদিয়ার পাশাপাশি মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, রাখাইন পাড়া, বৌদ্ধমন্দির, চরপাড়া, লবণের মাঠ, পানের বরজ- সবকিছু ভাল মত দেখতে পারবেন। রিক্সায় উঠার আগে আশেপাশের স্থানীয় কারো কাছ থেকে ভাড়াটা জেনে নিবেন, তারপর দরদাম করে উঠবেন, নয়তো কিছু কিছু রিকশাওয়ালা খুব ঝামেলা করে।

April 23,2017

"একদিনে পাথরঘাটা শহর "

28 Oct'19

প্রাকৃতিক বন আর সাগর হাতছানিতে মুগ্ধ হতে ঘুরে আসতে পারেন বরগুনা জেলায় অবস্থিত হরিণঘাটা পর্যটন কেন্দ্র থেকে। বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলা সদর তালতলী থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে হরিণঘাটা বাজারের পাশ থেকেই এই বনের শুরু। হরিণঘাটা বনের কাছ দিয়ে বয়ে চলা বলেশ্বর, বিষখালি এবং পায়রা নদী বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। দেখা হতে পারে বনের প্রধান আকর্ষণ হরিণ, শূকর ও সাপের সঙ্গে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য এ বনে রয়েছে পাচঁ তাল ওয়াচ টাওয়ার। জোয়ার - ভাটার কারনে এখানে এক সময় আপনার পায়ের নিচে পানি থাকবে আরেক সময় থাকবে না। একটা কাঠের ব্রিজও আছে এবং ব্রিজটা সোজা সমুদ্রে চলে যায়। সবুজ বনের ভেতরের দিয়ে তৈরী রাস্তা ধরে নদীর কাছে যাওয়া যায়। বনের মধ্যে থাকা খাল দিয়ে ট্রলারে করে বন দেখতে দেখতে চলে যেতে পারবেন তিন নদীর মোহনা ও সমুদ্রের কাছে। ট্রলার দিয়ে সমুদ্রে গিয়েছি কারন ব্রিজ দিয়ে গেলে বেশি সময় লাগতো ব্রিজটার কিছু জায়গায় ভাঙা চিল। ট্রলার টা বেশ বড় চিল, ভাড়া ৫০০/৬০০/- (যাওয়া +আসার), ব্রীজের নিচে ট্রলার পাবেন। শরীর ঠান্ডা করার জন্য গোসল করতে পারবেন তিন নদী ও সাগরের মোহনায়। বনের ভিতর প্রবেশ ফি১১.৩০ টাকা। 

হরিনঘাটা থেকে বাইকে ৩০ টাকা প্রতিজন ভাড়া দিয়ে যেতে পারেন পাথরঘাটা লঞ্চঘাট, লঞ্চ ছাড়বে বিকাল ৪ টায়| চাইলে পাথরঘাটা বাজারে দুপুরের খাবার টা সেরে নিতে পারেন| সেখানে পেয়ে যাবেন ছানার তৈরি সুস্বাদু মিষ্টি| পাথরঘাটা থেকে লঞ্চে করে যাবেন তালতলি বাজারে| ভাড়া জনপ্রতি ৯০/ টাকা| লঞ্চ বঙ্গোপসাগরের পাশ ঘেষে আপনাকে নিয়ে চলে যাবে তালতলি বাজার ঘাটে। ছোট লঞ্চে বসে সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কায় ভালোই উপভোগ করার মতো। 

তালতলি আসতে আসতে আসতে সন্ধ্যা হবে, চাইলে সেখানে থাকতে পারেন কম খরচের হোটেলে| অথবা সেখান থেকে মাহিন্দ্রায় করে চলে আসতে পারেন আমতলী| আমতলী থেকে চাইলে আপনি কুয়াকাটা যেতে পারেন,পটুয়াখালী যেতে পারেন, বরিশাল যেতে পারেন এমনকি রাত ১০-১১ টার বাস ধরে ঢাকায়ও চলে আসতে পারেন|

 ঢাকা গাবতলি থেকে সরাসরি পাথরঘাটা যাওয়ার বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৬৫০ টাকা, যেতে সময় লাগবে আট-নয় ঘণ্টা। চাইলে বরগুনা বা বরিশালগামী লঞ্চে চড়েও যেতে পারবেন। আমি বলব বরিশালের লঞ্চে যেতে,সেখান থেকে বরগুনা যেতে। বরিশাল থেকে প্রতি ঘন্টায় পাথরঘাটার উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। বরিশাল থেকে পাথরঘাটার ভাড়া ১৮০ টাকা। আর যারা সময় বাঁচাতে চান তারা বরগুনার লঞ্চ ধরবেন। ১১-১২ ঘণ্টার লঞ্চ জার্নির পর কাকচিড়ায় গিয়ে নামতে হবে। কাকচিড়া থেকে মোটরবাইক অথবা মাহিন্দ্রতে করে আধা ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে পাথরঘাটায় আসতে হবে ভাড়া নিবে ৪০/৫০টাকা। পাথারঘাটায় নেমে টেম্পু, মাহিন্দ্র অথবা মোটরবাইকে যাত্রা করে ২৫-৩০ মিনিট পরই দেখা মিলবে সেই কাঙ্ক্ষিত জায়গা হরিণঘাটার, আটো রিক্সা ভাড়া নিবে ১০০টাকা,।
পাথারঘাটা বঙ্গোপসাগরের খুব কাছের অঞ্চল হওয়ায় সেখানে খাবার হোটেলগুলোতে পাবেন সব ধরনের সামুদ্রিক মাছও।

বিঃ দ্রঃ পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোন কিছু করবেন না, স্থানীয় মানুষদের সম্মান দিন, আর যত্রতত্র ময়লা ফেলে আসবেন না। ঘুরেন দায়িত্ববোধের সাথে।

রাঙামাটি থেকে একদিনে ধূপপানি ঝর্না ভ্রমণের বৃত্তান্ত

 Article by  Asif Ahmed
Oct 20, 19 
Original link

রাঙামাটি থেকে একদিনে ধূপপানি ঝর্না ভ্রমণের বৃত্তান্ত। সবাই তো কাপ্তাই হয়ে যায়, আমি একটু ভিন্ন রুটের বর্ননা দিচ্ছি।

 ১৪ অক্টোবর। সকাল ছয়টায় আমরা পৌঁছে যাই রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাটে। সেখানে প্রায় সোয়া এক ঘন্টা দেরী হয় কারন আমাদের ট্যুরিস্ট বোটে তেল নেওয়া ছিল না। সোয়া সাতটার দিকে আমরা যাত্রা শুরু করি বিলাইছড়ির উদ্দেশ্যে। কথা ছিল দুই ঘন্টায় বিলাইছড়ি পৌঁছাবো৷ বাস্তবে তিন ঘন্টার বেশি লেগে গিয়েছিল। তাই লঞ্চ/ট্রলার ভাড়া করার সময় একটু কথাবার্তা ক্লিয়ার করে নিবেন৷ তারা তেল বাঁচাতে যথেষ্ট ধীরে লঞ্চ চালিয়েছে। যাইহোক, রাঙামাটি থেকে কাপ্তাইয়ের পাশ ঘেঁষে যখন বিলাইছড়ির রুটে প্রবেশ করেছিলাম তখনই মনে হচ্ছিলো যেন স্বর্গের দ্বার খুলে গেছে। বিলাইছড়িটা রাঙামাটি জেলা থেকে একটু বিচ্ছিন্ন বলে এদিকের সৌন্দর্যের রূপটা আগে দেখা হয়নি।

যাইহোক, আমরা সাড়ে দশটায় গিয়ে পৌঁছাই বিলাইছড়ির হসপিটাল ঘাটে। বিলাইছড়ি বাজারে যাওয়ার আগেই বিজিবি আর আর্মির দুটো চেকপোস্ট আছে। ট্যুরিস্ট হিসেবে গেলে অবশ্যই আইডি কার্ডের চারটা ফটোকপি নিতে ভুলবেন না কারন পরে আরও চেকপোস্ট আছে। এনআইডি হলে ভাল, না থাকলে স্টুডেন্ট আইডি হলেও হবে।

বিলাইছড়িতে সুন্দর একটা বাজার আছে। বেশ উপরে উঠতে হয় যদিও৷ ওখানে ট্রেকিং শু, থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট, ফার্মেসি প্রায় সবই আছে৷ ওখানে হালকা নাস্তা করে মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে একটা পাকা কলার কাঁদি কিনে আমরা এগারোটার দিকে রওনা দিলাম উলুছড়ির উদ্দেশ্যে৷ আমাদের প্রথম লঞ্চটার সাথে চুক্তি ছিল সে সারাদিন বিলাইছড়ি অপেক্ষা করে আমাদেরকে আবার রাঙামাটি পৌঁছে দিবে সন্ধ্যায়। বিলাইছড়ি থেকে স্থানীয় লঞ্চে (যথেষ্ট গতিশীল এবং লম্বাটে) যেতে হয় উলুছড়ি পর্যন্ত। ফেরার পথে সে ব্যাক করাবে বিলাইছড়ি পর্যন্ত। ভাড়া ১৫০০~২০০০ টাকা। দরদাম করতে হয়। এই বোটটা আমাদেরকে বিলাইছড়ির এক স্থানীয় বন্ধু ঠিক করে দিয়েছিল। এছাড়াও দুইজন স্থানীয় মাঝির নাম্বার আছে, চাইলে এদের সাথেও যোগাযোগ করে যেতে পারেন। (ইউসুফ মাঝি ০১৫৩৯৫৩০০৩৭, সুজন মাঝি ০১৮৬১৭৯২৪৫২)। মনে রাখবেন বিলাইছড়ির দিকে শুধু রবি আর টেলিটকের নেট পাওয়া যায়। তাই সেভাবেই সিম নিয়ে যাবেন।

বিলাইছড়ি থেকে প্রায় সাড়ে বারোটায় গিয়ে পৌঁছাই উলুছড়ি। গাইড নিতে হয় সেখান থেকে। গাইডকে নিয়ে সেখানে বৈঠা নৌকায় উঠতে হয়৷ উলুছড়ির পর একটা সোয়াম্প আছে, যেখানে ইঞ্জিন নৌকা নিয়ে যাওয়া যায় না। এই সোয়াম্পটা অসম্ভব সুন্দর। হঠাৎ দেখলে মনে হবে ছোটোবেলার সেই "লেক প্লাসিড" মুভির সোয়াম্পের মতো। মনে হয় যেন এখুনি হুট করে একটা পাগলাটে কুমির এসে নৌকা উল্টে দিবে! সেখানে বক, পানকৌড়ি থেকে শুরু করে ঈগল পর্যন্ত শত প্রজাতির পাখি দেখা যায়। শুনশান নিস্তব্ধতার মাছে ঈগলের ডাক শুনে শরীর শিউরে উঠতে বাধ্য৷ সোয়াম্পের ঠিক মাঝ বরাবর একটা সরু জায়গায় আছে হাজার হাজার সাদা শাপলা। আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা সেখানে পৌঁছেছি দুপুরে। একটা শাপলাও ফুটে ছিল না! ভোরে পৌঁছাতে পারলে হয়তো সাদা শাপলার সৌন্দর্যে আরেকটু বেশি মুগ্ধ হতে পারতাম।

আমাদের সাথে গাইড হিসেবে ছিল উজ্জ্বল তঞ্চংগ্যা। প্রচন্ড একটিভ একজন মানুষ৷ ট্রেকিংয়ে গেলে যত কম ওজনের ব্যাগ ক্যারি করা যায় ততো কম ক্যারি করবেন৷ দরকার হলে বোটে মালামাল রেখে যান, কেউ হাত দিবে না৷ ক্যামেরা-মোবাইল সাবধানে পলিথিনে মুড়ে ক্যারি করবেন৷ গ্রুপে গেলে একটা/দুটো ব্যাগে প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে পালা করে ব্যাগ বহন করবেন যেন একজনের উপর চাপ না যায়। একটা ব্যাগ গাইডকেও দিতে পারেন।

সোয়াম্পটা পার হয়ে আমাদের নৌকা যেখানে থামলো এখান থেকেই মূল ট্রেকিং শুরু। প্রথম বিশ মিনিট প্রায় সমতল দিয়েই ট্রেকিং করতে হয়৷ মাঝে দুইবার পাহাড়ী ছড়া পার হতে হয়। হাঁটু বা কোমর পর্যন্ত ডোবার শুরু এখান থেকেই৷ মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন। আমরা বৃষ্টির দিনে যাওয়ায় প্রচন্ড স্রোত ছিল৷ ছোট্ট একটা ছবির মতো গ্রাম পার হবেন এই সময়টাতে। পাহাড়ী মাচা, জুমক্ষেত আর পাহাড়ীদের সহজ সুন্দর জীবন দেখতে দেখতে রাস্তাটা ফুরোবে৷

তারপর শুরু হবে চড়াই-উৎরাই। প্রথমে শুধু উঠতেই থাকবেন! খাড়া পাহাড়ের গায়ে সিঁড়ির মতো করে কেটে রাখা আছে। তাতেও কোনো লাই হয়নি৷ স্টেপগুলো এতো উঁচু উঁচু যে অল্পতেই হাঁপ ধরে যায়। থাই মাসল আর কাফ মাসলে ক্র্যাম্প হয়ে যেতে পারে যদি পূর্বে ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা না থাকে৷ মোটামুটি প্রথম পাহাড় ডিঙ্গিয়েই জিভ বের হয়ে যায়।

এরপর কিছুটা পথ পাহাড়ী রাস্তায় হাঁটতে হয়৷ এর মাঝে মাঝে দুই পাহাড়কে জোড়া লাগাতে কিছু বাঁশের সাঁকো আছে, সেগুলো পার হওয়ার সময় একটু সাবধানে পার হবেন৷ গাইডকে দেখে মনে হবে সে বাতাসে ভেসে পার হচ্ছে৷ কারন তার জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা সবই ওখানে। গাইডের মতো করে পার হতে গেলে বিপদে পড়তে পারেন৷ সাঁকোগুলোগুলো দেখতে অনেকটা "টেম্পল রানের" মতো। পাহাড় আর জঙ্গলের ভেতর সাঁকো পার হওয়ার সময় জংলী লতা এসে ঘাড় ছুঁয়ে যাবে। তখন একটু দেখেশুনে পার হবেন। কারন পাহাড়ভর্তি "গ্রীন ভাইন স্নেক" বা সবুজ লতা সাপ৷ এর বেশিরভাগই নির্বিষ হলেও কিছু জাত বিষাক্ত।

পাহাড় বাইতে শুরু করার পর প্রায় দেড় ঘন্টা লাগে ধূপপানি গ্রামে পৌঁছাতে। একের পর এক পাহাড় উঠবেন। একদম টপে আছে মানুষের সমান উঁচু ঘাসের বন। এর ভেতর দিয়েই পৌঁছে যাবেন গ্রামে। গ্রামটা পাহাড়ের উপর কিছুটা সমতলে অবস্থিত। ওখানে পাহাড়ী বাড়িঘরে দেখবেন নানা জাতের ফলের গাছ আর শূকর-ছাগলের পাল। মাচার মতো একটা দোকান আছে। চিপস-কেক-কোক থেকে শুরু করে প্রায় সবই পাবেন। এখানে বেশি খেয়ে পেট ভর্তি করবেন না। একটু জিরিয়ে মূল গন্তব্যের দিকে রওনা দিবেন। যদি ভারী কিছু থাকে, চাইলে এখানে রেখে যেতে পারেন।

এরপর বাকি পথটা শুধু নামার গল্প। নামতেই থাকবেন, নামতেই থাকবেন। যখন মনে হবে এই বুঝি নামা শেষ হলো, তখনই শুনবেন দানব ঝর্নার গর্জন!! কিন্তু ঝর্না তখনও দেখা যাবে না। কিছুদূর হেঁটে একটা সাইনবোর্ড দেখবেন। যেখানে বলা আছে "ধূপপানি কোনো পর্যটন এলাকা না। এটা একজন ভান্তের তীর্থস্থান।" ওখানে ঘুরতে গেলে সেভাবেই বিহেইভ করুন। পিকনিকের মতো নাচ গান করবেন না।

এরপরই একটু সামনে আগায়ে থমকে যাবেন! এতক্ষণ যতোটা খাড়া পথ বেয়ে নিচে নামছিলেন, সামনে দেখবেন তার দ্বিগুণ খাড়া পথে সিঁড়ি করা আছে!! এই জায়গাটায় অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করে নামবেন। হঠাৎ পড়ে গেলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে।

আমরা যখন এদিকে নামছিলাম তখন দুইজন পাহাড়ী ছেলে ওটা বেয়ে উঠছিলো। তাদেরকে হাঁপাতে দেখেই মন খারাপ হয়ে গিয়েছিলো! ওনাদের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে আমাদের কি অবস্থা হবে!!
যাইহোক, ওটা নেমে আর অল্প কিছুদূর গিয়েই বামে একটা বাঁক আছে, বাঁকটার মাথায় আবার বড় একটা পাথর আছে। মানে সৃষ্টিকর্তা যেন সুন্দর করে গুছিয়ে এতোটা নাটকীয়তা সাজিয়ে রেখেছেন। পাথরের ওপাশেই ঝর্না, কিন্তু পাথরের জন্য দেখা যায় না বাঁকের এপার থেকে। পাথরটাকে পাশ কাটিয়ে সামনে গিয়েই দেখা মিললো সেই অপরূপ সৌন্দর্যের। প্রায় দুই-আড়াই ঘন্টার ট্রেকিংয়ের কষ্ট ফুরুৎ করে উড়ে গেলো। প্রায় মিনিটখানেক শুধু হাঁ করেই তাকিয়ে ছিলাম ধূপপানির ঝর্নার দিকে। যদিও জুন-জুলাইয়ের মতো পানির দেখা পাইনি, তাও যা দেখেছি তাতেই মনে হচ্ছিলো এটাই স্বর্গ।
ধূপপানি ঝর্নার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো এর ভেতরের গুহাটা। শুধুমাত্র গুহার ভেতরে ঢুকে একটা ছবি বা ভিডিও করার ইচ্ছা থেকেই এই সময়ে ধূপপানি যাওয়া। ভিডিও করে আসার পর শুনলাম গুহার শেষ মাথাতেই নাকি একটা সাপ আছে!! যে কারনে কেউ পুরো গুহা নিয়ে ছবি তুলতে পারে না। ব্যাপারটা আমার জানা ছিল না বলে আমি একদম শুয়ে শুয়ে গুহার শেষ মাথাতেই ক্যামেরা সেট করে ভিডিও করে এসেছি!! কোনো সাপ থাকবে এটা কল্পনাও করিনি, সাপ দেখিও নাই! এখন ইনফোটা জানার পর থেকে গা শিরশির করছে!!

প্রায় চল্লিশ মিনিট দাপাদাপি করে আমরা ফিরতি পথ ধরলাম। সময় ফুরিয়ে আসছিলো বলে বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি। অলরেডি বাজে সোয়া তিনটা। এর ভেতর প্রকৃতিও রুদ্রমূর্তি ধারন করেছিল। ট্রেকিংয়ের সময়টাতে ছিল এক্সট্রিম গরম। এতোই গরম যে সান বার্ন হয়ে এক একজনের অবস্থা খুব কাহিল। সময়টাও ছিল একদম খাড়া দুপুর! আর ফিরতি পথে এতোই বৃষ্টি আর বজ্রপাত যে মনে হচ্ছিলো পাশের পাহাড়েই বাজ পড়ছে!

এর ভেতর দিয়েই ফিরতি পথে চলে এলাম সোয়াম্পের শেষ মাথায়। পথিমধ্যে পথ এতোটাই পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিলো, এক পা আগালে দুই পা পিছলিয়ে যাচ্ছিলাম আমরা। সব আলগা মাটিগুলো কাদা হয়ে খুব বাজে অবস্থা করে ফেলেছিলো।

যাইহোক, আল্লাহর অশেষ রহমতে তেমন কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই আমরা চলে এলাম উলুছড়ি। আটজনের টীমের চারজনই পিছলিয়ে পড়েছিলো বিভিন্ন জায়গায়, আর একজনকে ধরেছিল জোঁকে। এমনিতে খুব বেশি জোঁক নাই ধূপপানিতে। তাও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে ঘুরতে যাবেন। সাথে স্যালাইন রাখবেন।

উলুছড়ি থেকে বিলাইছড়ি আসতে আসতে বেজে গিয়েছিলো প্রায় সাতটা। পথিমধ্যে দুটো আর্মি চেকপোস্ট পড়ে। সাথে কোনো ডিফেন্স অফিসার না থাকলে অবশ্যই বিকেল পাঁচটার আগে বিলাইছড়ির আর্মি ক্যাম্প পার হবেন, নাহলে রাত কাটিয়ে যেতে হবে বিলাইছড়িতেই৷
সাতটায় বিলাইছড়ি ঘাটের "ভাতঘর" রেস্তোরাঁয় ভাত খেতে বসলাম। সারাদিনে এটাই প্রথম বড় কোনো খাওয়া। সাদা ভাত, ডাল, আলু ভর্তা আর দেশী মুরগীর তরকারি যে এতো অমৃতের মতো লাগতে পারে তা আগে জানা ছিল না। ট্রেকিংয়ের কারনে অবশ্যই একটা ইফেক্ট পড়েছে, এমনিতেও তাদের খাবার খুবই ফ্রেশ এবং সুস্বাদু।

এরপর সাড়ে সাতটায় আমরা রওনা দিলাম রাঙামাটির উদ্দেশ্যে। পথের আর্মি আর বিজিবি চেকপোস্ট পার হয়ে মূল কাপ্তাই লেকে উঠলাম। সেদিন ছিল প্রবারণা পূর্নিমার পরের রাত। আকাশ ভরা থালার মতো চাঁদ আর হাজার হাজার তারায় পুরো লেক আলোকিত হয়ে ছিল। আর দূর পাহাড় থেকে একের পর এক আকাশে উঠছিলো শত শত ফানুস। দূরের নীলচে তারাগুলো যেন লালচে হয়ে ধরায় নেমে আসছিলো।

পূর্নিমার রাতে সাতজন মানব সন্তান কাপ্তাই লেকের বুকে ভাসতে ভাসতে আর গান গাইতে গাইতে রাত সাড়ে দশটায় পৌঁছে গেলাম রাঙামাটিতে। শেষ হলো আমাদের ধূপপানি ঝর্না অভিযান। দিনটা ফুরিয়ে গেছে, অসংখ্য মোমেন্টের ছবি তোলা হয়নি, কিন্তু স্মৃতিতে রয়ে গেছে শত শত গল্প। গল্পগুলো তোলা থাকুক। বেঁচে থাকলে শোনাবো নাতিপুতিকে।।

বিদ্রঃ যেখানে ঘুরতে যাবেন অবশ্যই অপচনশীল দ্রব্য ফেলবেন না। ধূপপানি ঝর্নার ঠিক আগে আগে কয়েক প্যাকেট বিরিয়ানি পড়ে থাকতে দেখেছি৷ প্রকৃতিকে এভাবে নষ্ট করবেন না। চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল সাথে করে নিয়ে আসুন। দেশটা নিজের, নিজেই সুন্দর রাখুন।

খরচের ব্যাপারটার ব্রেকডাউন দিচ্ছিঃ

রাঙ্গামাটি-বিলাইছড়ি-রাঙ্গামাটি টুরিস্ট বোট ভাড়া - ২৫০০ টাকা।
বিলাইছড়ি-উলুছড়ি-বিলাইছড়ি বোট ভাড়া - ১৮০০ টাকা।
উলুছড়ি সোয়াম্পের বইঠা নৌকা ২টা - ৬০০ টাকা
গাইড - ৫০০ টাকা।
লাঞ্চ/ডিনার - ৭০০টাকা
পথে খাওয়ার জন্য কেক, কলা, স্ন্যাক্স এসব যে যার মত করে খরচ করেছি। হিসেব করা হয়নি।
গ্রুপ করে গেলে খুব বেশি একটা খরচ হয়না।
#দেশেই_ঘুরি, দেশেই ঘুরুন।।

"চায়ের দেশে একদিন"

Article and Photos by   Smita Debnath
শ্রীমঙ্গল নিয়ে লিখতে বসার আগে টিওবি তে এই শহর নিয়ে লেখাগুলো পড়ছিলাম, খুব বেশি লেখাও পেলাম না তেমন। শ্রীমঙ্গল কে যদি এক কথায় প্রকাশ করতে বলা হয় তবে বলা যায় সব ঋতুতেই সুন্দর এই শহর! বাংলাদেশে যে যায়গাটি তে গেলে আপনি কখনোই বোর ফিল করবেন না , সেটি শ্রীমঙ্গল, অন্তত আমি তাই মনে করি । ছোটবেলা থেকে হবিগঞ্জ শহরে বড় হওয়া আমি বহু বার গিয়েছি শ্রীমঙ্গল এ, কিন্তু এখনো ছুটি পেলে সেখানেই ছুটে যেতে ইচ্ছা করে। 
শ্রীমঙ্গল এর মূল আকর্ষণ হল এর ট্যুরিস্ট স্পট গুলো;পাহাড়, রেইন ফরেস্ট, হাওর আর সবুজ চা বাগান এর এক অনন্য সমন্বয় হল শ্রীমঙ্গল। বাংলাদেশের একমাত্র চা গবেষণা কেন্দ্রটিও রয়েছে শ্রীমঙ্গল এ। এছাড়া ও সাত কালারের চা (এখন আট কালারের চাও পাওয়া যায়) , মনিপুরী পাড়া ও তাদের ঐতিহ্যবাহি শাড়ির কদর ও রয়েছে দেশ জুড়ে।
এবারের পুজো তে শ্রীমঙ্গল এ প্রথমবারের মত সোলো ট্রাভেল করার সুযোগ হয়েছিল । কেউ যদি একদিনে শ্রীমঙ্গল ঘুরে আসতে চান ,তাহলে ঢাকা থেকে এনা পরিবহন এ করে চলে যেতে পারেন (ভোর ৫.৩০ থেকে শুরু ওদের বাস সার্ভিস) শ্রীমঙ্গল এ নেমেই দুপুরের খাবার সেরে নিতে পারেন পানসী রেস্টূরেন্টে(বেশ সাশ্রয়ী , দুই জনে পেট পুরে খেলেও বিল ৩৫০/৪০০টাকা এর বেশি আসার কথা না , আর অবশ্যই ওদের চা খেতে ভুলবেন না, এক কথায় অসাধারণ ) , এরপর একটি টমটম (ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা) অথবা সিএনজি ভাড়া করে(ঘন্টা হিসেবে অথবা দিন হিসেবে , ফেস্টিব ওকেশন ছাড়া যেকোনো সময় ঘন্টায় ভাড়া ১৫০টাকা হয় ) পুরো শহরই ঘুরে ফেলতে পারবেন । শহরের ভেতরে চা বাগান , লাউয়াছড়া, বধ্যভূমি, বিটিআরআই ঘুরে দেখতে পারবেন ,আর নীলকন্ঠ টি কেবিনে(নতুন টাই ভাল আগের টার থেকে) আট কালেরে চা বা স্পেশাল দুধ চা টেস্ট করে দেখার ও সু্যোগ মিলে যাবে এই অল্প সময়েই । এছাড়াও মনিপুরী পাড়া থেকে শাড়ি , শাল চাদর এইগুলো কিনতে ভুলবেন না , গিফট হেসেবে দারুন জনপ্রিয় এই মনিপুরী শাড়ি! 
যারা একটু সময় নিয়ে থেকে ঘুরতে চান তাদের জন্য রয়েছে ৫ তারকা হোটেল সহ আরও অনেক রিসোর্ট। একদিন থাকতে পারলে দেখে আসা যাবে মাধবপুর লেক ও , যা কিনা শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে।
এই শীতে ঘুরে আসতে পারেন চা এর রাজধানী শ্রীমঙ্গল এ , চা প্রেমীরা চা কিনতে ভুলবেন না , চা এর কেজি ৩০০ থেকে শুরু করে ১২০০ টাকা পর্যন্ত আছে । 

শ্রীমঙ্গল এমনিতেই বাংলাদেশের অন্যান্য শহরের থেকে পরিষ্কার ও সুন্দর । তাই যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে এর সৌন্দর্য কে নষ্ট না করি । 

ZOom-In Photograhy Club-Join and showcase your photographs today-It's free !

As an admin of ZOom-In Photography Club,I would invites you to become a free member of Zoomin Photography Clubs ! Showcase your photographs today. JOIN NOW

ZOom-In Photogaphy Club site's landing page

ZOom-In Photography Club's Gallery/explore page

খুলনার ঐতিহ্যবাহী আসল চুই ঝাল মাংস

খুলনা,বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় এই চুইলতা জন্মে। যশোর ও খুলনায় আত্মীয় স্বজন বেড়াতে এলে চুইয়ের ডাল দিয়ে রান্না করা মাংস থাকে খাদ্যতালিকায় প্রথম। চুইলতার আছে ভেষজগুন। এই লতার শিকড়, কান্ড,পাতা,ফুল-ফল সবই ভেষজগুণ সম্পন্ন। গ্যাস নিবারণ,রুচি বাড়াতে, ক্ষুধামন্দা দুর করতে এইটি বেশ কার্যকর ।

খাসি ও গরুর চুইঝাল মাংস

ইদানিং ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুইঝালের রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। এই সব রেস্টুরেন্টে খাসি ও গরুর মাংসের চুইঝাল পাওয়া যায়। পাঠক, আজকে আপনাদেরকে পরিচয় করে দিব, মিরপুরের একটি চুইঝাল রেস্টুরেন্টের সাথে। সনি সিনেমা হল থেকে যে রাস্তাটি চিড়িয়াখানার দিকে গেছে, সে রাস্তার পশ্চিম পাশে খুলনা হোটেল । হোটেলের সামনে বিলর্বোডে লেখা,‘ এখানে খুলনার এতিহ্যবাহী চুকনগরের বাবুর্চি দ্বারা চুইঝালের খাসির গোস্ত ও গরুর গোস্ত ভূনা ঘরোয়া পরিবেশে পরিবেশন করা হয়’। দুপুর দেড়’টা। হোটেলে ঢুকলাম। হোটেলের ভিতরটা বেশ পরিষ্কার। এ মুহুর্তে কাস্টমার কম। একটা শ্লেফে উপরের দিকে তোরো প্রকারের ভর্তা রাখা। নিচের তাকের দিকে একপাশে ডিমের তরকারী ও মুরগীর তরকারী রাখা। কিন্তুু চুইঝালের কোন ডিশ্ নাই। প্রায় যখন হতাশ, তখন হোটেলের ম্যানেজার এগিয়ে এলো। চুইঝালের পাতিল এখনো চুলায়। প্রায় নামানোর সময় হয়ে এলো। কিছুক্ষণ পওে চুই ঝাল দিয়ে রান্না গরুর ও খাসির ভূনা ভর্তি ডিশ এনে আমার সামনে রাখলো, তখন আমার আমুদ দেখে কে! ভূনা মাংস থেকে ধোঁয়া উঠছে। আস্ত রসূণ দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি চুইয়ের ডাল রয়েছে। দেখেই জিভেতে পানি আসে। কিভাবে বিক্রি করেন?-জিজ্ঞেস করলাম। প্রতি পিস ১৩০ টাকা। পার্সেল অর্ডার দিলাম। লোভ সামলাতে না পেরে হোটেলে বসেই এক পিছ মুখে চালান করে দিলাম। আলাদা একটা স্বাদ । মরিচের মতোই ঝাল। ঝাল বেশীক্ষণ থাকে না। এই চুইঝালের মাংস ভূনা না খেলে আসলেই আফসোস । তাই যারা খাদ্যরসিক ও ভোজনবিলাসী তারা মিরপুরে এলে একবার ঢু মারতে পারেন নিচের ঠিকানায়:

প্লট নং-৪, বীর বিক্রম হেমায়েত উদ্দিন সড়ক,(চিড়িয়াখানা রোড়),রাইনখোলা,মিরপুর-১,ঢাকা-১২১৬।