ঢাকার বিভিন্ন এলাকার নামকরণের (থ--ব) ইতিহাস : পর্ব-২

দিলকুশা: নবাব স্যার সলিমুল্লাহ’র ভগ্নিপতি নবাব আজিম মিয়া মতিঝিলের সাধারণ বীমা ভবনের স্থানে একটি মনোহারী কুঠি নির্মাণ করে এর নাম দিয়েছিলেন দিলকুশা। কুঠিবাড়ির ভেতরে ছিল সুদৃশ্য পুকুর। পুকুরে ছিল কুমির। প্রতিদিন ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দিলকুশা ভবন দর্শনে আসত পর্যটকরা। সাতচল্লিশের দেশবিভাগের সময় সর্বপ্রথম অবহেলার স্বীকার হয় এই ভবন। দিলকুশা ভবন ধ্বংস করে দিয়ে পুকুর ভরাট করে ফেলা হয়। কুঠিবাড়ির একটি প্রাচীন মসজিদ আর নবাব পরিবারের কয়েকটি কবর ছাড়া আজ আর কোথাও দিলকুশার চিহ্নমাত্র নেই। 

 
১৯০৪ সালে Fritz Kapp এর তোলা দিলকুশা গার্ডেনসহ দিলকুশা প্রাসাদের ছবি।      
দোলাইগঞ্জ: প্রাক-মুঘল যুগে ঢাকা এখনকার মতো সমতল ছিল না। নানা জায়গায় নালা, ডোবা ও ঝিলের মতো ছিল। এসব জায়গায় বর্ষার পানি কমলে মশা-মাছি ও পোকা মাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যেত। ফলে তখনকার ঢাকায় কলেরা-বসন্ত, ডায়েরিয়া লেগেই থাকতো। পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নে ইসলাম খাঁ বুড়িগঙ্গা থেকে একটি কৃত্রিম খাল খনন করান। খালটি ঔপনিবেশিক আমলে ১৮৬৪ এবং ১৮৬৫ সালে ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। ১৯৬৭ পর্যন্ত দোলাই খাল ছিল বেশ বড় খাল। দোলাই খালের নামানুসারে একটি এলাকায় খালের পূর্বপাড়ে যেখানে নানারকম জিনিসপত্র বেচাকেনা হতো তা ‘দোলাইগঞ্জ’ নামে পরিচিতি লাভ করে। 

 
 
 ধোলাই খাল: ঢাকা শহরের বাণিজ্যিক ও ব্যস্ততম খাল ছিলো এটি, যার সরাসরি বুড়িগঙ্গা হয়ে বিশ্বের যোগাযোগ ছিল। খালের দুধারে ছিলো কাঠের আসবাবপত্রের দোকান এবং ধোপাঘর। কাঠের সামগ্রী আর ধোপারা কাপড় ধুতো সেখানে। সে থেকেই “ধোলাই খাল”।
 
 
বিজয়নগর: পুরানা পল্টন চৌরাস্তা থেকে যে রাস্তাটি কাকরাইলের দিকে গেছে তার মাঝামাঝি অংশে একটি পানির ট্যাঙ্ক রয়েছে। এই এলাকাটি ‘বিজয়নগর’ নামে পরিচিত। বিজয়নগরের নামকরণ করা হয়েছে বিজয় থেকে। কিন্তু এখানে কোনো যুদ্ধ হয়েছিল কিনা তা জানা যায়নি। অন্য মতে, বিজয় বাবু নামে কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি এই মহল্লা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নামানুসারেই হয়তো বিজয়নগরের নামকরণ করা হয়েছে।
 
বেগমবাজার: এই এলাকার নামকরণে সবচেয়ে জনপ্রিয় ইতিহাস হল, ১৯৩৯-১৯৪০ সালে সরফরাজ খান ঢাকার নায়েব-এ-নাজিম ছিলেন। তার মেয়ে ছিল লাডলি বেগম। অনেকের মতে তার নামেই এই এলাকার নামকরণ হয়। বেগমবাজার মসজিদের কাছাকাছি অবস্থিত বাজারটিও তার মালিকানাধীন ছিল। বাজারটি ১৯৭৭ সালে অগ্নিদগ্ধ হয়। অতঃপর কিছু বর্ধিত ভাতার বিনিময়ে সরকার লাডলি বেগমের কন্যা পুন্নী বেগম ও হাজি বেগম থেকে এর মালিকানা গ্রহণ করেন।

 

ঢাকার বিভিন্ন এলাকার নামকরণের ( অ--ত ) ইতিহাস : পর্ব-১

 প্রানের শহর ঢাকা। এই শহরের বিভিন্ন এলাকার নামকরনের পিছনে রয়েছে ইতিহাস। চলুন এই ইতিহাস একটু ঘাটাঘাটি করি।

 

 

অরফানেজ রোড: বকশীবাজারের পাশ দিয়ে যাওয়া অরফানেজ রোডের নির্দিষ্ট কোন নাম ছিল না প্রথমে। ১৯২৩ সালে প্রথম এই রাস্তার নামকরণ করা হয়। সন্তোষের রাণী দিনমণি চৌধুরানীর পৃষ্ঠপোষকতায় সেখানে চালু হয় একটি এতিমখানা, আর সে এতিমখানা/অরফানেজ থেকে রাস্তার নামও চলে আসে। 
 
আ 

 আজিমপুর (Azimpur) : সুবাদার শাহজাদা আজমের শাসনামলে (১৬৭৭-১৬৭৯) আজিমপুর প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বলে জানা যায়। ঢাকা রাজধানী হওয়ার পর মুঘল কর্মচারীদের জন্য এখানে কিছু বাড়িঘর বানানো হয়৷ পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে এখানে আবার সরকারি কর্মচারীদের জন্য কলোনি নির্মাণ হয়৷ শাহজাদা আজমের আমলেই সর্বপ্রথম এখানে কলোনি স্থাপন হয়৷ এর প্রাথমিক নাম ছিল আজমপুর৷ তাই ধারণা যে, সুবাদার আজমের নামেই আজিমপুর নামকরণ করা হয়েছে। অন্য সূত্রমতে, আওরঙ্গজেবের পৌত্র সুবাদার আজিমুশশানের আমলে আজিমপুরের উত্থান হয়।

Credit: Danita Delimont

 
আর্মানিটোলা (Armanitola): ১৭ শতকের দিকে আর্মেনীয়রা ব্যবসা করতে ঢাকায় আসে। তারা মূলত পাট, বস্ত্র, লবণ ও সুপারির ব্যবসা শুরু করে। ঢাকায় তারা দ্রুত স্থানীয়দের সাথে স্বাচ্ছন্দ্যে মিশে যায়। আর্মেনীয়রা ঢাকার যে স্থানটিতে শ্রেণিবদ্ধভাবে বাস করা শুরু করে, সে স্থানটি আর্মানিটোলা নামকরণ হয়। পুরান ঢাকায় সেই সময় আর্মেনীয়রাই প্রথম খ্রিস্টীয় ধর্মাবলম্বী ছিলেন। আর্মেনিয়ানদের সুবিধার্থে, ১৭৮১ সালে, আর্মানিটোলাতে একটি সমাধিস্থল নির্মাণের জমি দেন আগা মিনাস ক্যাটচিক। পরে সেখানেই, আর্মেনিয়ান চার্চ নির্মিত হয়।  
 
আলু বাজার (Alu Bazar): পুরান ঢাকার আলু বাজার এলাকায় কেবল আলু বিক্রি হতো তা কিন্তু নয়। ঐ এলাকায় বাজারটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের এক কর্মকর্তা আল্লাইয়ার খান। তখন বাজারের নাম হয় আল্লাইয়ার বাজার, সেখান থেকে বিকৃত হয়ে আল্লুর বাজার, তারপর আলুর বাজার হয়ে এখন আলু বাজার।
 
আসাদগেট: আসাদগেট এর নাম প্রথমে ছিল “আইয়ুব গেট”, স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের নামে। ১৯৬৯ সালে ১১ দফা দাবী আদায়ের আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদের নামে পরবর্তীতে এই গেটের নামকরণ হয়। আসাদ কিন্তু এই গেটের কাছে শহীদ হননি। স্বৈরাচারী শাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শহীদ হন বলে তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে এবং প্রতিবাদস্বরূপ ঢাকাবাসী এই গেটটির নাম পরিবর্তন করে।
 
আলমগঞ্জ: ঢাকার মিলব্যারাক এর কাছের একটি স্থান আলমগঞ্জ। ধোলাইখালের পূর্বে বর্তমান পোস্তগোলা-জুরাইন অঞ্চলে আলম মার্কেট নামে যে দোকান দেখা যায়, সেটি আলমগঞ্জ নামে পরিচিত। নামকরণ নিয়ে মতভেদ আছে। একটি মতে, বাদশাহ আলমগীরের নামানুসারে এর নাম হয়। অন্যমতে, মহল্লাটি প্রাক-মুঘল আমলে গড়ে উঠলেও নামটি মুঘলদের আমলে স্বীকৃতি পায়। জানা যায়, শাহজাহানের পুত্রদের মধ্যে উত্তরাধিকার যুদ্ধে শাহজাদা আলমগীর জয়ী হয়ে আওরঙ্গজেব নামে দিল্লীর সিংহাসনে বসেন। বিজয়কে স্মরণ করে সুবা বাংলার মুঘল কর্মচারীরা মিলব্যারাক বা কেল্লার পাশাপাশি স্থানটির নাম রাখেন আলমগঞ্জ।

 


 
ইন্দিরা রোড (Indira Road): অনেকের ধারণা ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নামে এলাকার নামকরণ করা হয়েছে। আসলে তা নয়। এককালে এ এলাকায় দ্বিজদাস বাবু নামে এক বিত্তশালী ব্যক্তি বসবাস করতেন। তার ছিল বিশাল বাড়ি। বাড়ির কাছের এই রাস্তাটি তার বড় মেয়ে ইন্দিরার নামে নামকরণ করা হয়। এরপর থেকে পুরো এলাকাটি এ নামেই প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
 
ইস্কাটন (Eskaton): ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে ঢাকার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লে ইউরোপের বণিকেরা এসে ভিড় জমায় ঢাকায়, গড়ে তুলে নিজস্ব আস্তানা। বাদ যায়নি স্কটল্যান্ডের বণিকরাও। একসময় ঢাকায় পাটের একচেটিয়া ব্যবসা ছিল স্কটিশদের হাতেই। তারা নিজেদের মতো করে একটি বসতিও গড়ে তুলেছিল ঢাকায়, এবং স্থাপন করেছিল একটি স্কটিশ চার্চ। কিন্তু স্থানীয়দের জিভে স্কটিশ শব্দটি আসত না, তাই স্কটিশদের বসতিকে তারা বিকৃতভাবে ইস্কাটন বানিয়ে নিয়েছিল বলে জানা যায়। 
 
ইংলিশ রোড ও ফ্রেঞ্চ রোড( English road and French road) : এখানে ইংলিশ ও ফ্রেঞ্চ দ্বারা কোনো জাতিকে বোঝানো হয়নি বরং এ দুটি আসলে দুজন ব্যক্তির নাম। ঢাকার একসময়কার বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন মি. ইংলিশ। তার সম্মানার্থে ধোলাইখাল পাড়ের এই রাস্তাটির নাম হয়েছে ইংলিশ রোড। একই কাহিনী ফ্রেঞ্চ রোডের ক্ষেত্রেও। ঢাকার আরেক বিভাগীয় কমিশনারের নাম ছিল মি. এফসি ফ্রেঞ্চ। তার সম্মানে ১৯১৮ সালে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি এ রাস্তার নাম রাখে ফ্রেঞ্চ রোড। 
 
ইসলামপুর (Islampur) : ঢাকার প্রথম মুঘল সুবাদার ছিলেন ইসলাম খান চিশতি। তিনিই মূলত মুঘল ঢাকার গোড়াপত্তন করেন। নানা বিদ্রোহ দমন করে তিনি বাংলার বিজয় চুড়ান্ত করেন এবং ১৬১২ সালের ১২ এপ্রিল রাজমহল থেকে প্রশাসনিক দপ্তর সরিয়ে মুঘল সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি স্থাপন করেন ঢাকায়। ঢাকার রাজধানীর মর্যাদালাভ, ঢাকার সত্যিকারের প্রতিষ্ঠা ইসলাম খা'র মেধার ফলশ্রুতি হলেও তাঁর নামে ঢাকার কোনো স্মরণীয় স্থানের নামকরণ করা হয়নি। তবে পুরান ঢাকার একটি এলাকা ‘ইসলামপুর’ নামে আজও তাঁর শাসন আমলকে মনে করিয়ে দেয়। ইসলাম খান ঢাকার যে মহল্লায় তাঁর বাসভবন নির্মাণ করেছিলেন, তাঁর নামানুসারেই সেই এলাকার নামকরণ ইসলামপুর করা হয় বলে জানা যায়। 
 
ইমামগঞ্জ: পুরান ঢাকার মিটফোর্ডের কাছে মুঘল আমলের শেষভাগে প্রতিষ্ঠিত বাজার ইমামগঞ্জ। ঢাকার অনেক নাবাব ও নায়েব সুবেদার ছিলেন শিয়া, যারা হযরত আলীর দুই পুত্র ইমাম হাসান ও হোসেনর অনুসারী ছিলেন। এই অনুসারীরা ইমামদ্বয়কে মর্যাদা দিতে জাঁকজমকপূর্ণ মহরম অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। একসময় ঢাকার নায়েব নাজিমরা নবাব হিসেবে পরিচিতি পায়; যার প্রথম নবাব জিসারাত খাঁ। তিনি হোসেনি দালানের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর উত্তরাধিকার নবাব নুসরত জং ইমাম হাসান-হোসেনের স্মরণে বাজারটি প্রতিষ্ঠা করে নামকরণ করেন ইমামগঞ্জ।
 
 
 
 
উলটিগঞ্জ: ফরাশগঞ্জের কাছে বিবিকা রওজার নিকট একটি এলাকা উলটিগঞ্জ। আগে এটি শ্মশানঘাট নামে পরিচিত ছিল। পরে পোস্তগোলায় শ্মশান সরিয়ে নেওয়া হয়। এলাকাটি ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজ অফিসার মি. উলটিন এর নামানুসার উলটিগঞ্জ হয়। তিনি এখানে একটি বাজার স্থাপন করেন। বাজারটি তাঁর নামানুসারে হলেও খানিকটা বিকৃত হয়ে উলটিন নামের স্থলে উলটিগঞ্জ হয়ে যায় ও পৌরসভার নথিতে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরে বাজারটি অপসারিত হয়ে এখানে কাঠ ব্যবসায়ীদের বাজার স্থাপিত হয়।
 
 

 
এনায়েতগঞ্জ: ধারণা করা হয়, একসময় এখানে একটি বাজার ছিল। ১৮ শতকের ঢাকার মানচিত্রে দেখা যায়, নবাবগঞ্জ-পিলখানার সীমানা বরাবর ছিল এনায়েতগঞ্জের অবস্থান। নামকরণ নিয়ে দুটি মতবাদ পাওয়া যায়। প্রথমত, মুঘল আমলে ঢাকার শুল্ক বিভাগের প্রধান খাজা এনায়েত উল্লাহর প্রধান দপ্তর ছিল এখানে। এই জায়গায় তিনি তার নামে বাজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তবে এর স্বপক্ষে তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ত, জামালপুর পরগণার জমিদার এনায়েতউল্লাহর নামে এ এলাকার নাম হয় এনায়েতগঞ্জ।
 
 
 
 
ওয়াইজঘাট: ১৭৭৭ সালে ঢাকায় প্রথম নীল চাষ শুরু হয় যা ১৮৩০ সালে বাধ্যতামূলক করা হয়। চাষীরা নীল চাষ করতে না চাইলে তাদের ওপর নির্মম নির্যাতনও চালানো হতো। ১৮৪৭ সালের দিকে ঢাকায় ৩৭টি নীলকুঠির তথ্য পাওয়া যায়। নীলকরদের মধ্যে ঢাকায় মি. ওয়াইজ ছিলেন প্রভাবশালী। তাকে সবাই তাকে প্রচন্ড ভয় করত। ওয়াইজ বুড়িগঙ্গার তীরেই এক বাসা বানিয়ে থাকতেন। তার বাড়ির পাশে একটি বড় বজরা বাঁধা থাকত বলে ধীরে ধীরে লোকমুখে সেই ঘাটের নাম ‘ওয়াইজঘাট’ নামে পরিচিতি লাভ করে। পরে তিনি সব বিক্রি করে ইংল্যান্ডে চলে যান। কিন্তু এখনো সে স্থানের নাম তার নামেই রয়ে গেছে।
 
ওয়ারী: ১৮৮৪ সালে ঢাকার বৃটিশ ম্যাজিস্ট্রেট মি. আয়ার এর নামানুসারে একটি সড়ক প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সড়ক সংলগ্ন এলাকাটিকে বৃটিশ সরকার একটি অভিজাত পল্লীতে রূপান্তরের চেষ্টা চালায়। সে সূত্রে সেখানে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আলাদা করে জমি বরাদ্দ করে দেয়া হয়। বরাদ্দের শর্ত হিসেবে সরকার বলে দিয়েছিল বিঘাপ্রতি ছয় টাকা হারে এবং তিন বছরের মধ্যেই বাড়ি তৈরি করতে হবে। ধারণা করা হয় মি. আয়ার এর নামানুসারে এলাকার নাম ওয়ারী রাখা হয়। 



 
 

কাকরাইল (Kakrail) : মি. ককরেল ছিলেন উনিশ শতকের শেষ দশকে ঢাকার কমিশনার । সেই সময়ে কমিশনারের নামে সড়কের নামকরণ ছিল একটি প্রচলিত রেওয়াজ। তাঁকে সম্মান জানিয়ে ১টি রাস্তার নামকরণ করা হয়। ককরেল নামটি কালক্রমে মানুষের মুখে মুখে কাকরাইল নামে পরিবর্তিত হয়। বর্তমানে মুখে,কাগজে-কলমে কাকরাইল নামটিই রয়ে গেছে। 

কেরানীগঞ্জ (Keraniganj ) : কেরানীগঞ্জ নামকরণের পেছনে যে দুটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক ঘটনাকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে তার পেছনে ইতিহাসভিত্তিক কোন শক্ত সমর্থন পাওয়া যায় না। নবাব শায়েস্তা খানের শাসনামলে নবাবের পাইক-পেয়াদা এবং কেরানীরা বুড়িগঙ্গার ওপারে থাকতেন। এজন্য ধারণা করা হয় এই কেরানীদের নামানুসারে কেরানীগঞ্জের নামকরণ হয়েছে। এছাড়া ভিন্ন মত অনুসারে, মুঘল আমলে ঢাকার তৃতীয় গভর্নর ইব্রাহীম খাঁনের দুজন কর্মচারী বুড়িগঙ্গার দক্ষিণ পাড়ে বসবাস করতেন। সে থেকে এ এলাকার নাম কেরানীগঞ্জ নামকরণ করা হয়। কেরানীগঞ্জ দ্বীপাকার বলে মুঘল আমলের এক পর্যায়ে এ স্থানের নাম হয় পারজোয়ার।
 
কাগজীটোলা (Kagojitola) : ইংরেজ আমলে ঢাকায় কাগজ তৈরি হতো। যারা কাগজ তৈরি করতো তাদের বলা হতো ‘কাগজী’। কাগজীরা যে এলাকায় বসবাস, কাগজ উৎপাদন ও বিক্রি করতো সে স্থান কাগজীটোলা নামে পরিচিতি লাভ করে।   
 
কলাবাগান (Kalabagan) : কলাবাগানের নামকরণ নিয়ে দুটো কাহিনী প্রচলিত। এখানে একসময় বিশাল কলার বাগান করা হয়েছিল। যে কলার বাগানটি ছিল তা ছিল নবাবদের হাতিদের জন্য। নবাবদের শাসনামলে প্রচুর হাতি ব্যবহার করা হতো বিভিন্ন কাজে। কাজ শেষে খাবার খাওয়ানোর জন্য তাদের নিয়ে আসা হতো কলাবাগানে। আরেকটি মতানুসারে, ঢাকার আদি বাসিন্দাদের অনেক জমি ছিল এ এলাকায়। বর্তমান কলাবাগান বাসস্ট্যান্ড থেকে কলাবাগান মসজিদ পর্যন্ত জায়গাটুকু এককালে জনৈক ডা. হর্ষনাথের ছিল। এখানে তিনি প্রচুর কলাগাছ লাগিয়েছিলেন। সেই থেকে লোকমুখে কলাবাগান নামটি প্রচলিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।  
 
কাপুড়িয়ানগর/ কালিচরণ সাহা রোড (Kalicharan Saha Rd): কাপুড়িয়ানগর নামে ঢাকায় পুরনো একটি মহল্লা রয়েছে। মুঘল আমলের শেষ দিকে ও কোম্পানি শাসনের গোড়ার দিকে ঢাকার বসাক, তাঁতি, যোগী ও আশেপাশের মানুষ যে কাপড় বুনতো সেগুলো এই কাপুড়িয়ানগরে এনে বিক্রি করতো। সে কারণেই এ অঞ্চলটি কাপুড়িয়ানগর নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। তবে ১৯২২ সালে এলাকার কালিচরণ সাহার ছেলে বিজলী বাতি সম্প্রসারণের জন্য ঢাকা পৌরসভায় মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা প্রদান করে এলাকাবাসীর তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও কাপুড়িয়া নগরের নাম বদলে রাখে কালিচরণ সাহা রোড। 
 
কাশ্মিরীটোলা/ কাশিমনগর(Kashmiri tola/Kashim Nagor): মুঘল আমলে কাশ্মিরের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক ছিল নিবিড়। কাশ্মিরি শাল, আখরোট, বাদাম, আঙুর যেমন বাংলার মানুষকে আকর্ষণ করতো, তেমনি বাংলার মসলিনসহ বস্ত্র, চিনি, গুড়, লবণ, চামড়া কশ্মিরিদেরও প্রিয় ছিল। ঢাকার লালবাগে চৌধুরীবাজারের পাশেই রয়েছে কাশ্মিরীটোলা নামে একটি জায়গা। এখানে একসময় কিছু কাশ্মিরীদের বসবাস ছিল। মূলত তারা বাদশাহের অধীনস্থ চাকরিজীবী ছিলেন। কাশ্মিরীদের বাসস্থান ছিল বলেই এলাকাটির নাম ছিল কাশ্মিরীটোলা। দীর্ঘদিন কাশ্মিরীটোলা নামেই পরিচতি থাকলেও ১৮৫৯ সালে ঢাকার মানচিত্রে এলাকাটিকে ‘কাশিমনগর’ নামে উল্লেখ করা হয়। 

 খ

 খিলগাঁও (Khilgaon): কিংবদন্তি অনুযায়ী, প্রাচীনকালে এ জায়গার পাশ দিয়ে পাণ্ডুনদী নামের এক নদী প্রবাহিত হতো৷ এই নদীর কিনারেই পত্তন হয় কূলগ্রাম নামের এক নতুন গ্রাম। পুরনো দলিল দস্তাবেজে এই নামের স্বপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় এই কূলগ্রামই পরবর্তীতে বিবর্তিত হয়ে আজকের খিলগাঁও এ রূপান্তরিত হয়েছে।
 

 
গেণ্ডারিয়া (Gandaria): ঢাকার একসময়কার বিখ্যাত এলাকা ছিল গ্র্যান্ড এরিয়া। তৎকালীন জমিদার ও প্রভাবশালীদের বাস ছিল বলে ইংরেজরা এ নাম দিয়েছিল। বাঙালিদের কাছে নামটি কঠিন লাগায় তারা গ্র্যান্ড এরিয়াকে নিজেদের মতো গেণ্ডারিয়া করে নিয়েছিল। এর বিরুদ্ধমতও আছে। অনেক ইতিহাসবিদ বলেন, এলাকাটিতে একসময় প্রচুর গেণ্ডারি বা আখ জন্মাত। সেখান থেকেই এসেছে গেণ্ডারিয়া নামটি। 
 
গোপীবাগ (Gopibag): এলাকাটি ছিল গোপীনাথ সাহা নামক একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর নিজস্ব সম্পত্তি। তিনি এখানে স্থাপন করেছিলেন গোপীনাথ জিউর মন্দির। এবং সেই মন্দিরের (কিংবা তার নিজের) নামানুসারেই এলাকাটির নাম হয়ে যায় গোপীবাগ।
 
গোলাপবাগ: ঢাকার এক সময়ের বিখ্যাত রোজগার্ডেনকে কেন্দ্র করেই গোলাপবাগ নামের শুরু। মিউনিসিপ্যালিটি ঢাকার চেয়ারম্যান কাজী বশিরের স্থাপত্যশৈলী বাড়িটি রোজগার্ডেন নামে পরিচিত ছিল। এর পেছনে জনবসতি গড়ে উঠলে এলাকাটি গোলাপবাগ নামে পরিচিত হয়। তখন ওই বাড়িটিতে অনেক গোলাপ গাছ ছিল। যদিও এখন আর অস্তিত্ব নেই। তবে গোলাপের নামটির আজও পরিচিতি রয়েছে।
 
গুলিস্তান: ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিংয়ের তালিকায় গুলিস্তান নামের কোনো জায়গার নাম নেই বরং এলাকার কেতাবী নাম বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ। গুলিস্তান শব্দটির শাব্দিক অর্থ “ফুলের বাগান”। আজকের গুলিস্তানে ফুলের বাগান কিংবা গুলিস্তান সিনেমা হল, কোনটিই নেই। কিন্তু মানুষের মুখে মুখে নামটি রয়ে গিয়েছে।

 
চ 

চাঁদনী ঘাট (Chadnighat): সুবাদার ইসলাম খাঁর চাঁদনী নামে একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরী ছিল। ‘চাঁদনী’ একটি ঘাটে বাঁধা থাকতো। এ সময় অন্য কোনো নৌকা এই ঘাটে আসতে পারতো না। সেখান থেকে এলাকার নাম চাঁদনী ঘাট।
 
চকবাজার (Chawkbazar): মুঘল আমলে গোড়াপত্তন ঘটা এ এলাকার পূর্বনাম চৌক বন্দর। তখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে এর পরিচিতি ছিল। ১৭০২ সালে নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁর হাত ধরে এই বাজারটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আধুনিক বাজারে পরিণত হয়। পরে নতুন করে এর সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করেন ওয়াল্টার সাহেব।


 
তোপখানা (Topkhana): তোপখানায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আর্টিলারি বাহিনী ছিল। 'তোপ' অর্থ কামান এবং তোপখানা অর্থ অস্ত্রাগার। এটি একটি তুর্কি শব্দ। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গোলন্দাজ বাহিনীর অবস্থান এবং অস্ত্রাগারের কারণেরই এলাকায় নাম হয় তোপখানা। 
 
তাঁতীবাজার (Tanti Bazar) : কথিত আছে, জামদানি শাড়ি বুনতেন এমন একদল তাঁতি বহু আগে থেকেই এখানে বাস করতেন। সেখান থেকেই এলাকাটির নামকরণ। একসময় কাপড়ের রমরমা ব্যবসা ছিল ঠিকই। কাপড়ের ব্যবসায় লোকসান দেখা দিলে তাঁতীরা ধীরে ধীরে অলংকার ব্যবসার দিকে ঝুঁকে। তাঁতীবাজারের আশপাশ ঘিরেই ঢাকা হয়ে উঠেছিল মোগল ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। 
 
১৮১৪ সালে চার্লস ডয়েলির আঁকা তাঁতী বাজারের একটি সেতু।
 
 

তথ্যসূত্র:  ঋষণা রূপকথা-The First Myth

চলবে...
 
 

"পুরান ঢাকার" বিখ্যাত খাবার


পুরানো ঢাকা বলতে আমাদের চোখে ভাসে সরু গলি,জরাজীর্ণ দালানকোঠা আর অলিতে গলিতে হরেক রকম খাবারের দোকান। কত পদের যে সুস্বাদু খাবার, কত যে বাহারি নাম! সেই স্বাদ নিতে নানা জায়গা থেকে ভোজনপ্রেমীরা ভিড় জমান পুরান ঢাকার খাবারের হোটেলগুলোতে। এই সুনাম অবশ্য অল্পদিনের নয়। দীর্ঘ ৪০০ বছরের অধিক সময় ধরে ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকা মানেই সেরা আর বিখ্যাত খাবারের সমারোহ। ছোট -বড় সবার কাছে অত্যন্ত মুখরোচক এসব খবার। সকালের নাস্তা হোক বা দুপুরের লাঞ্চ , বিকালের নাস্তা অথবা রাতের ডিনার সবকিছুতেই এসব খাবারের জুড়ি মেলা ভাড়। সেইসব বিখ্যাত আর মুখরোচক খাবারের হোটেলগুলোর ঠিকানাগুলো একসাথে আপনাদের জন্য তুলে ধরা হলো।

১. হোটেল আল-রাজ্জাক এর কাচ্চি, গ্লাসি, মোরগ পোলাও।
২. লালবাগ রয়্যাল এর কাচ্চি, জাফরান-বাদামের শরবত, চিকেন টিক্কা আর সেরা লাবান, কাশ্মীরী নান।
৩. নবাবপুর রোডে হোটেল স্টার এর খাসির লেগ রোস্ট , চিংড়ি ,ফালুদা।
৪. নবাবপুর আরজু হোটেল এর মোরগ পোলাও, নাশতা আর কাচ্চি।
৫. নারিন্দার ঝুনু বিরিয়ানি পুরান ঢাকার বিখ্যাত খাবার
৬. পুরান ঢাকার নাজিরা বাজারের হাজীর বিরিয়ানি।
 
নাজিরা বাজারের হাজীর বিরিয়ানি

 
৭. নাজিমুদ্দিন রোডের হোটেল নিরবের অনেক ধরনের ভর্তা।
 
 
হোটেল নিরবের ভর্তা

 
 
৮. নাজিরা বাজারের হাজি বিরিয়ানি এর উল্টা দিকের হানিফের বিরিয়ানি।
৯. বংশালের শমসের আলীর ভূনা খিচুড়ি, কাটারী পোলাও।
১০. নাজিরা বাজার মোড়ে বিসমিল্লার বটি কাবাব আর গুরদার।
১১. বেচারাম দেউরীতে অবস্থিত নান্না বিরিয়ানি এর মোরগ-পোলাও।
১২. ঠাঁটারীবাজার স্টার এর কাচ্চি বিরিয়ানি, লেগ রোস্ট আর ফালুদা।
১৩. ঠাঁটারী বাজারের গ্রিন সুইটস এর আমিত্তি, জিলাপি।
১৪.পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজারের গলিতে মাখন মিয়ার পোলাও।
১৫. সুত্রাপুর বাজারের রহিম মিয়ার খাসির বিরিয়ানি।
১৬.পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার রহমানিয়া এর কাবাব।
১৭. কলতাবাজারের নাসির হোটেলের বিখ্যাত গরুর মাংস আর পরাটা ।
১৮. ভিক্টোরিয়া পার্কের সুলতান ভাইয়ের চা ।
১৯. দয়াগঞ্জের সিটি বিরিয়ানি ও কাচ্চি ।
২০.পুরান ঢাকার নারিন্দার সফর বিরিয়ানি ।
২১. আরমানিটোলা তারা মসজিদের পাশে জুম্মন মামার চটপটি ।
২২. সিদ্দিক বাজারের মাজাহার সুইটস ।
২৩. সূত্রাপুর ডালপট্টির বুদ্ধুর পুরি পুরান ঢাকার বিখ্যাত খাবার।
২৪. আবুল হাসনাত রোড এর কলকাতা কাচ্চি ঘর ।
২৫. রায় সাহেব বাজারের বিউটি লাচ্ছি আর চকবাজারের নুরানী শরবত।
২৬.পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার সোনা মিয়ার দই।
২৭. লালবাগ মোড় এর মীরা মিয়ার চিকেন ফ্রাই আর গরুর শিক।
২৮. লালবাগ চৌরাস্তার খেতাপুরি।
২৯. গেন্ডারিয়ার আল্লার দান বিরিয়ানি আর রহমান এর কাবাব
৩০. নাজিরা বাজারের ডালরুটি ।
৩১. গেন্ডারিয়া ভাটিখানার হাসেম বাঙ্গালির ডালপুরি ।
৩২. রায়সাহেব বাজারের আল ইসলামের মোরগ পোলাও, চিকেন টিক্কা।
৩৩. বাংলাবাজারের বিখ্যাত কাফে কর্নার এর কাকলেট ও চপ।
৩৪. বাংলাবাজারের বিখ্যাত চৌরঙ্গী হোটেলের পরাটা, ডাল ।
৩৫. রায়সাহেব বাজারে কাফে ইউসুফের নান ও চিকেন টিক্কা ।
৩৬. নবাব পুরের মরণ চাঁদ মিষ্টির দোকানের ভাজি-পরোটা, মিষ্টি ও টক দই ।
৩৭. লক্ষীবাজার এর মাসহুর সুইটমিট এর লুচি, ভাজি আর ডাল।
৩৮. লালবাগের পাক-পাঞ্জাতন এর মজার তেহারি ।
৩৯. দয়াগঞ্জ এর ঢাকা কাবাব ।
 

 
৪০.পুরান ঢাকার ওয়াইজ ঘাটের নানা রেঁস্তোরা ।
৪১. শাখারী বাজারের অমূল্য সুইটস এর পরোটা-ভাজি ।
৪২. তাতিবাজারের কাশ্মীর এর কাচ্চি।
৪৩. নারিন্দায় সৌরভ এর মাঠা আর ছানা ।
৪৪. আবুল হাসনাত রোডের কলকাতা কাচ্চি ঘর।
৪৫. আবুল হাসনাত রোডের দয়াল সুইটস এর মিষ্টি।
৪৬. নারিন্দায় অবস্থিত রাসেল হোটেলের নাশতা ।
৪৭. ঠাটারী বাজারের বটতলার কাবাব ।
৪৮. টিপু সুলতান রোডে অবস্থিত হোটেল খান এর টাকি মাছের পুরি।
৪৯. লক্ষীবাজার পাতলাখান লেনের লুচি-ভাজি ।
৫০. বেচারাম দেউড়িতে হাজী ইমাম এর বিরিয়ানি ।
৫১. লালবাগের ভাটের মসজিদের কাবাব বন
৫২. হোসনী দালান রোডে রাতের বেলার পরটা আর কলিজা ভাজি
৫৩. চানখারপুলের মামুন হোটেলে’র স্পেশাল কাচ্চি
৫৪. রায় সাহেব বাজারের গলিতে মাখন মিয়ার বিরিয়ানি।
৫৫. মারুফ বিরিয়ানি হাজারিবাগ বাজার।
৫৬. গেন্ডারির কিছুক্ষণ রেস্তোরাঁ মোগলাই পরোটা, কাটলেট, কর্ন স্যুপ।
৫৭. গেন্ডারিয়ার বুদ্ধর বিরিয়ানি।
৫৮. ঐতিহ্যবাহী মানিক চানের পোলাও দিগু বাবু লেন মিটফোর্ড রোড।
৫৯. সোনামিয়া মিষ্টান্ন ভান্ডারের দই গেন্ডারিয়া।
৬০. দিল্লির সুইটমিট এর সন্দেশ, পরোটা ও টকভাজি টিপু সুলতান রোড।
৬১. নারিন্দা মহান চাঁদের লুচি,হালুয়া, সবজির লাবরা, কাঁচা ছানা।
৬২. ঠাটারী বাজার এর গ্রীন সুইটের পরোটা আলুর ঘাটি।
 
পরে  এইসব বিখ্যাত দোকানগৃলোর খাবারের মেনু  ছবিসহ বিস্তারিত পোষ্ট করা হবে।
 
সূত্র 
 
 
কোনো কিছু বাদ পড়ে গেলে আপনি সেটা কমেন্ট করে জানাতে পারেন।